| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দেশমাতৃকার মুক্তির শপথ…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দেশমাতৃকার মুক্তির শপথ নিয়ে মুক্তিবাহিনীত যোগ দেয় হুমায়ুন সাহেবের পাঁচ ছেলে। রাজাকারের মাধ্যমে এই খবর জানতে পেরে পাক হানাদার বাহিনী হুমায়ুন সাহেবের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। অবশেষে ক্যাম্পে ধরেও নিয়ে যায় তাকে, বারবার জানতে চায় তাঁর ছেলেদের ঠিকানা। হুমায়ুন সাহেব চুপ করে থাকলে তাঁর পিঠের উপর প্রচন্ড জোরে চাবুকের আঘাত করে। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি। রক্তাক্ত ও ক্ষত-বিক্ষত হয় তাঁর শরীর। তবু তিনি মুক্তিবাহিনীর কোনো খবর দেন না হানাদার বাহিনীকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
নুরুল হুদা রসায়ন বিষয়ের লেকচারার ছিলেন।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি নুরুল হুদার স্ত্রী আসমা নুরুল হুদাকে উদ্দেশ করে বলেছিল।
নুরুল হুদা বেঁটেখাটো মানুষ। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে স্ত্রী আসমা তার ভাই মিন্টুর রেইনকোট নুরুল হুদাকে পরিয়ে দেয়। যেহেতু মিন্টুর উচ্চতা নুরুল হুদার চেয়ে বেশি তাই রেইনকোটে তার গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে যায়। তাই আসমা বলে যে, ভালোই হলো গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে গেছে পায়েও বৃষ্টি লাগবে না ।
উদ্দীপকের হুমায়ুন সাহেবের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘রেইনকোট' গল্পের কথক নুরুল হুদা ভীতু প্রকৃতির মানুষ। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে সাধারণ ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষকের মাঝে সঞ্চারিত হয় সাহস ও দেশপ্রেম। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাই পাকিস্তানিদের শত নির্যাতনের পরেও মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি নুরুল হুদা।
উদ্দীপকের হুমায়ুন সাহেবের পাঁচ ছেলে। তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিষয়টি জানতে পেরে হুমায়ুন সাহেবের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং তাঁকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাঁর ওপর অমানসিক নির্যাতন চালানো হয় সন্তানদের অবস্থান জানার জন্য। কিন্তু হুমায়ুন সাহেব শারীরিকভাবে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরেও মুক্তিবাহিনীর খবর পাকিস্তানি বাহিনীকে দেননি। তাই বলা যায়, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মুক্তিবাহিনীর সাথে একাত্মতার জন্য অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার দিক থেকে হুমায়ুন সাহেব এবং নুরুল হুদা সাদৃশ্যপূর্ণ।
“দেশকে মুক্ত করার জন্য বাঙালি জনসাধারণের আত্মত্যাগই উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য”—মন্তব্যটি যথার্থ ।
‘রেইনকোট' গল্পে উঠে এসেছে নিরীহ বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের মর্মস্পর্শী কাহিনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত ঢাকাবাসীর ওপর গুলি চালিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করে। পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে বাঙালিরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নির্যাতনের ভয়াবহতা বাংলার সূর্যসন্তানদের দমিয়ে রাখতে পারেনি বরং বীরবিক্রমে তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বুকের রক্ত দিয়ে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। সেই প্রেরণাকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে আলোচ্য গল্পের কাহিনি
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে। হুমায়ুন সাহেবের পাঁচ সন্তান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় পাকিস্তানি সেনারা হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং তাঁকে ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। তারপর শুরু করে অমানবিক নির্যাতন। কিন্তু শত নির্যাতনেও হুমায়ুন সাহেব মুক্তিবাহিনীর কোনো খোঁজ-খবর পাকিস্তানি বাহিনীকে দেননি ।
‘রেইনকোট’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গেরিলা আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা পাকিস্তানি সেনাদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলার চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভীতু প্রকৃতির মানুষের সাহসী হয়ে ওঠার ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে আলোচ্য গল্পে। অন্য দিকে উদ্দীপকেও মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা ফুটে উঠেছে। হুমায়ুন সাহেবের পাঁচ ছেলেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তাছাড়া হুমায়ুন সাহেবও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত একটি চরিত্র । শত নির্যাতনের মুখেও তিনি পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্য সফল করতে দেননি। তাই বলা যায়, দেশকে মুক্ত করার জন্য বাঙালি জনসাধারণের আত্মত্যাগই উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্য।