| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
বিভিন্ন কোষ ও তাদের সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহকে রোগের আক্রমণ বা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে, তাই হলো ইমিউনতন্ত্র।
যে প্রতিরক্ষা জন্মগত না হয়ে দেহে কোনো রোগ জীবাণুর প্রবেশের ফলে বা অন্য কোনো কারণে সৃষ্টি হয়, তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা বলে। প্রাণিদেহে পূর্ববর্তী সংক্রমণ অথবা বাইরের কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি সরাসরি দেহে প্রবেশ করিয়ে অর্জিত প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় জীবাণুর দেহে প্রাপ্ত বিশেষ অ্যান্টিজেন ও মানবদেহের লিম্ফোসাইট কোষ জড়িত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'A' চিত্রটি হলো পাকস্থলি, এটি প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসাবে কাজ করে। কারণ, খাদ্য ও পানির সাথে অনেক ধরনের অণুজীব পাকস্থলিতে এসে জমা হয় এবং পাকস্থলির শক্তিশালী হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের ক্রিয়ায় সেগুলো। বিনষ্ট হয়। প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অন্যান্য অংশগুলো হলো-
ত্বক: ত্বক দেহে অণুজীব প্রবেশের প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। ত্বকীয় ঘাম গ্রন্থি, সিবেসিয়াম গ্রন্থি ও ত্বকে অবস্থিত মিথোজীবী অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক অণুজীবকে প্রতিহত করে।
সিলিয়া ও মিউকাস: শ্বাসনালিতে বিদ্যমান সিলিয়া এবং মিউকাস অবিরাম ধূলিকণা ও অণুজীবদের হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে বের করে দেয়।
লাইসোজাইম এনজাইম: লালা, অশ্রু, মূত্র ও ঘামে বিদ্যমান লাইসোজাইম এনজাইম দেহে আগত অধিকাংশ ক্ষতিকর অণুজীবকে ধ্বংস করে।
রক্ততঞ্চন: ক্ষতস্থানে দ্রুত তঞ্চনের মাধ্যমে দেহে অণুজীবের প্রবেশ বাধা প্রাপ্ত হয়।
উদ্দীপকের B চিত্রটি হলো অ্যান্টিবডির রেখাচিত্র। অ্যান্টিবডি জীবাণু বা অ্যান্টিজেনকে অকার্যকর করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। অ্যান্টিবডির প্যারাটোপ নামক নির্দিষ্ট অংশ বহিরাগত অ্যান্টিজেন বা জীবাণুর প্লাজমামেমব্রেন এর অ্যান্টিজেনধর্মী যৌগের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবদ্ধ হয়ে জীবাণুকে অকার্যকর করে। নিম্নে অ্যান্টিজেন অকার্যকরের ঘটনা ব্যাখ্যা করা হলো-
i. অ্যান্টিবডি একাধিক জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে এদেরকে স্তূপকৃত করে।
ii. বিক্রিয়ালব্ধ পদার্থ দ্রবীভূত না হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হয়।
iii. অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনধর্মী জীবাণুর বিষাক্ত স্থানকে আবৃত করে প্রশমন করে।
iv. অনেক সময় অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণুর ঝিল্লিকে আক্রমণ করে তাকে ছিন্ন বা বিশ্লিষ্ট করে।
V. অ্যান্টিবডি জীবাণুর উপরিতলকে আক্রমণ করায় এরা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তিত জীবাণুকে রক্তের নিউট্রোফিল ও দেহের অন্যান্য ম্যাক্রোফেজ আগ্রাসনের মাধ্যমে বিনষ্ট করে। একে অপসোনাইজেশন বলে।
এভাবেই বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিবডি ক্ষতিকর অণুজীবের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং দেহকে রোগমুক্ত রাখে।