| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – মৌলের পর্যাবৃত্তিক ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন, রসায়ন, রসায়ন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
পর্যায় সারণির মৌলসমূহের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্দিষ্ট ব্যবধান অন্তর ধর্মের পুনরাবৃত্তিকে মৌলের পর্যায়বৃত্তিক ধর্ম বা পর্যায়বৃত্ততা বলে।
ধাতব লবণসমূহ অনুদ্বায়ী বা কম উদ্বায়ী। শিখা পরীক্ষায় গাঢ় HCl ব্যবহার করলে ধাতব লবণসমূহ গাঢ় HCl এর সাথে বিক্রিয়া করে ধাতব ক্লোরাইড লবণে পরিণত হয়। ধাতব ক্লোরাইড লবণ তুলনামূলকভাবে অধিক উদ্বায়ী। এই লবণকে বুনসেন বার্নারের জারণ শিখায় ধরলে সহজেই বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পীভূত অবস্থায় ধাতব ক্যাটায়ন নিকটস্থ অ্যানায়ন থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিচ্ছিন্ন ধাতব পরমাণুতে পরিণত হয়। পরে এই ধাতব পরমাণু শিখা থেকে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করে উত্তেজিত হয়। আবার এই উত্তেজিত পরমাণু শক্তি বিকিরণ করে শিখায় বিশেষ বর্ণ সৃষ্টি করে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এজন্য শিখা পরীক্ষায় গাঢ় HCl ব্যবহার করা হয়।
প্রদত্ত 'X' ও 'Y' মৌল দুটি গ্রুপ-17 এর ২য় ও ৩য় পর্যায়ে অবস্থিত। সুতরাং মৌল দুটি হলো ফ্লোরিন (F) এবং ক্লোরিন (Cl)। এদের ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ-
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ফ্লোরিনের সর্বশেষ শক্তিস্তর হলো দ্বিতীয় শক্তিস্তর। দ্বিতীয় শক্তিস্তরের আকার ছোট বলে ক্ষুদ্র পরিসরে ফ্লোরিনের এই 7টি ইলেকট্রন বিরাজ করার কারণে চার্জ ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। ফলে আগমনকারী ইলেকট্রনের ২য় শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহের অনুরূপ বিকর্ষণ শক্তিও বৃদ্ধি পায়। তাই সামগ্রিকভাবে ফ্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তির মান কম হয়।
অপরদিকে ক্লোরিনের ৩য় শক্তিস্তরের আকার ২য় শক্তিস্তর অপেক্ষা বড়হওয়ায় আগমনকারী ইলেকট্রন সহজে এর যোজ্যতা স্তরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তির মান ফ্লোরিন অপেক্ষা অধিক হয়।
তাই বলা যায় যে, পরমাণুদ্বয়ের শক্তিস্তরের আকারের উপর ভিত্তি করে মৌলদ্বয়ের সর্বশেষ কক্ষপথ ইলেকট্রনের উপর আসক্তি প্রদর্শন করে।
উদ্দীপক প্রদত্ত সারণি অনুযায়ী, P, Q ও R মৌল তিনটি যথাক্রমে Na, Mg ও Si এবং Y মৌলটি CI; যেখানে ৩য় পর্যায়ের 1 নং গ্রুপের মৌলটি Na, 2 নং গ্রুপের মৌল Mg এবং 14 নং গ্রুপের মৌল Si, আবার ৩য় পর্যায়ের 17 নং গ্রুপের Y মৌলটি CI। সুতরাং Y এবং সাথে P. Q ও R মৌল তিনটির গঠিত যৌগ যথাক্রমে NaCl, MgCl2SiCl4 । নিচে যৌগগুলোর প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো-
ফাজানের নীতি অনুসারে-
১. ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের চার্জের পরিমাণ যত বেশি হয়।
২. ক্যাটায়নের আকার যত ছোট হয় এবং অ্যানায়নের আকার যত বড় হয়।
৩. ক্যাটায়নের d ও f অরবিটাল ইলেকট্রন থাকে।
তাহলে আয়নিক যৌগের পোলারায়ন মাত্রা অধিক হয় এবং আয়নিক যৌগ সমযোজী বৈশিষ্ট্য লাভ করে।
যৌগ তিনটিতে অ্যানায়ন একই এবং তা হলো (CI) ক্লোরাইড আয়ন এবং ক্যাটায়নগুলো হলো যথাক্রমে Na+, Mg2+ এবং Si4+। ফাযানের নীতি অনুসারে ক্যাটায়নের চার্জ বৃদ্ধির সাথে আয়নিক যৌগের সমযোজী ধর্ম বৃদ্ধি পায়। এই ক্যাটায়ন তিনটির চার্জের ক্রম হলো- Si4+> Mg2+ > Na+
সুতরাং যৌগ তিনটির সমযোজী ধর্ম বৃদ্ধির ক্রম হলো-
SiCl4 > MgCl2 > NaCl
অর্থাৎ বিপরীতভাবে যৌগগুলোর আয়নিক বৈশিষ্ট্যের (অধিক গলনাংক, স্ফুটনাংক, তড়িৎ পরিবাহিতা এবং পানিতে দ্রাব্যতা) ক্রম হলো-
NaCl > MgCl2 > SiCl4
সুতরাং বলা যায় যে, ফাযানের নীতি অনুসরণ করে প্রদত্ত যৌগসমূহের ক্যাটায়নের চার্জ ঘনত্ব অনুসারে এদের আয়নিক ও সমযোজী বৈশিষ্ট্যের ক্রম নির্ণয় এবং আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা যায়।