| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
নাইট্রোজেন ও সালফারের অক্সিএসিড বিশেষ করে নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) মিশ্রিত বৃষ্টিপাতই এসিড বৃষ্টি।
গ্যাসের গতিশক্তি নির্ণয়ে rms বেগ গড়বেগ অপেক্ষা অধিক উপযোগী। কারণ rms বেগ হচ্ছে এমন একটি বেগ, যা প্রতিটি অণুর সাধারণ গতিবেগ ধরে অণুসমূহের গতিশক্তি হিসাব করলে তাদের প্রকৃত মোট গতিশক্তি পাওয়া যায়। গড়বেগ থেকে সরাসরি গতিশক্তি পাওয়া যায় না। এ কারণে গতিশক্তি নির্ণয়ে rms বেগ অধিক উপযোগী।
উদ্দীপকের নমুনা পানির BOD নির্ণয়ের পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো-
বিকারক দ্রবণ প্রস্তুতি: একটি উপযুক্ত আয়তনিক বোতলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পাতিত পানি নিয়ে এতে 1 মিলি ফসফেট বাফার (pH = 7.2) 1 মিলি MgSO4 (22.5 gm/L), 1 মিলি CaCl₂ (27.5 gm/L) এবং 1 মিলি FeCl3 (0.25 gm/L) যোগ করা হয়।
লঘুকরণ প্রস্তুতি: পানির লঘুকরণ নির্ভর করে নমুনার প্রকৃতির উপর। যেমন শিল্পের বর্জ্য পানির জন্য (0.1 – 1)%।
পদ্ধতি: অতঃপর প্রাপ্ত দ্রবণকে নলের সাহায্যে পাঁচ মিনিট সময় ধরে নমুনার মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়। নমুনায় DO 7 ppm হলে বায়ু প্রবাহ বন্ধ করা হয়। BOD এর মান যদি DO এর মানের চেয়ে বেশি হয় তবে পানিকে লঘু করা হয়। এ দ্রবণের 50% নিয়ে DO(D₁) পরিমাপ করা হয়। অবশিষ্ট নমুনাকে একটি ছিপিযুক্ত বোতলে (250 – 300 mL) নিয়ে বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে 20 °C তাপমাত্রায় পাঁচ দিন অন্ধকারে রাখা হয়। এবার নমুনার DO(D₂) পরিমাপ করা হয়। এবার লঘু পানিকে বীজ যোগ করে দুইভাগে ভাগ করা হয়। এ অবস্থায় এক অংশের DO(B₁) পরিমাপ করা হয়। অপর অংশকে পূর্বের ন্যায় পাঁচ দিন অন্ধকারে রাখার পর তার DO (B₂) পরিমাপ করা হয়। অতঃপর নিম্নোক্ত সমীকরণ দ্বারা BOD গণনা করা হয়।
গননা :
এখানে, D₁ = লঘু নমুনা পানির DO এর পরিমাণ, D₂ লঘু নমুনার ইনকিউবেশনের পর D এর পরিমাণ। B₁ বীজযুক্ত পানির D এর পরিমাণ, B₂ = বীজযুক্ত পানির ইনকিউবেশনের পর DO এর পরিমাণ, f = নমুনার বীজের সাথে নিয়ন্ত্রিত বীজের অনুপাত এবং P = ব্যবহৃত নমুনার দশমিক ভগ্নাংশ।
উদ্দীপকে আলোচিত কঠিন অজৈব দূষকসমূহ হলো লেড (Pb) এবং ক্যাডমিয়াম (Cd)। উদ্ভিদ ও প্রাণির খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় যদি এদের অনুপ্রবেশ ঘটে তবে খাদ্যশৃঙ্খলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
Pb-এর প্রভাব : খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে Pb শরীরে প্রবেশ করলে হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণ সাহায্যকারী এনজাইমকে নিষ্ক্রিয় করে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাধা দেয়। ফলে অ্যানিমিয়ার সৃষ্টি হয়। Pb রক্তে হেম (heme) সংশ্লেষণে বাধা প্রদান করে, ফলে হিমোগ্লোবিন বিনষ্ট হয়। হেম সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমের কার্যকারিতা Pb বাধাগ্রস্ত করে। ফলে হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণ বিঘ্নিত হয়। লেডের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি সিস্টেমের জটিলতা দেখা দেয়। শরীরের হাড়ের Ca কে Pb প্রতিস্থাপিত করে ঐ স্থানে স্থায়ীভাবে নিজে জমা হতে থাকে। জমাকৃত Pb আবার ফসফেট সহযোগে স্থানান্তরিত হয়ে নরম টিস্যুতে জমা হতে থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। লেড ধাতু শিশুর মস্তিষ্ক কোষের বিভাজনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।ফলে শিশুর আই.কিউ এর মারাত্মক হ্রাস ঘটে।
Cd-এর প্রভাব : খাদ্যশস্য বিশেষ করে চাল, গম, ডাল এবং মাছ- মাংস প্রভৃতি খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে Cd ধাতু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। Cd খুবই বিষাক্ত, কারণ মানুষের শরীরে এটি প্রতিহত হতে পারে না। শরীরের জমাকৃত Cd এর এক তৃতীয়াংশ জমা হয় কিডনিতে। এর প্রভাবে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। শরীরে প্রয়োজনীয় ধাতব উপাদান Cu, Fe, Zn প্রভৃতিকে প্রতিস্থাপিত করে শরীর হতে এদেরকে অপসারণ করে। Cd ধাতু শোষণের ফলে সৃষ্ট রোগের নাম 'ইটাই ইটাই'। মানুষের শরীরের Cd 10-30 বছর পর্যন্ত থাকে, দস্তা ও তামার উপস্থিতিতে এর বিষক্রিয়া আরো অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। শরীরে Cd এর পরিমাণ বেড়ে গেলে হাইপারটেনশন, অন্ত্রের অসুবিধা, গ্লুকোসোরিয়া, হাইপারক্যালসিইউরিয়া, কিডনিতে পাথরের সৃষ্টি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়।