| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – উদ্ভিদ প্রজনন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
ফার্ণের লিঙ্গধর বা গ্যামিটোফাইটিক পর্যায়ের হৃৎপিণ্ডকার সবুজ উদ্ভিদ দেহই হলো প্রোথ্যালাস।
নিষেক ছাড়া ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি তথা নতুন জীব সৃষ্টির পদ্ধতিকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। বোলতা, মৌমাছি, রটিফার ইত্যাদি প্রাণিদেহে এবং স্পাইরোগাইরা, মিউকর, ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদদেহে এ ধরনের জনন পরিলক্ষিত হয়। পার্থেনোজেনেসিস দু'প্রকার। যথা- হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস ও ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' চিহ্নিত অংশটি হলো ডিম্বাণু। ভূণথলির অভ্যন্তরে ডিম্বাণু সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ চিত্রসহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো-
ডিম্বকের অভ্যন্তরে ভ্রূণপোষক টিস্যুর মাঝে একটি ডিপ্লয়েড স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ (2n) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) স্ত্রীরেণু গঠন করে। এদের মধ্যে তিনটি নষ্ট হয়ে যায় এবং একটি মাত্র কার্যক্ষম থাকে। কার্যকর স্ত্রীরেণু নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়ে স্ত্রীরেণু কোষের দু'মেরুতে অবস্থান নেয়। প্রতিটি মেরুর নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভাজিত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস গঠন করে। স্ত্রীরেণু কোষটি দু'মেরুযুক্ত থলির মতো অঙ্গে পরিণত হয় এবং এর প্রতি মেরুতে চারটি করে মোট আটটি নিউক্লিয়াস অবস্থান করে যাকে ভূণথলি বলে। এ অবস্থায় দু'মেরু। থেকে একটি নিউক্লিয়াস মাঝখানে পরস্পর মিলিত হয়ে সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। ভূণথলির মধ্যে ডিম্বকরন্দ্রের দিকে তিনটি নিউক্লিয়াসের মাঝখানে বড় নিউক্লিয়াসটিকে ডিম্বাণু, দু'পাশের দুটি নিউক্লিয়াসকে সাহায্যকারী নিউক্লিয়াস এবং ডিম্বকমূলের দিকের তিনটি নিউক্লিয়াসকে প্রতিপাদ নিউক্লিয়াস এবং ভ্রূণথলি, ডিম্বাণু, সাহায্যকারী নিউক্লিয়াস, প্রতিপাদ নিউক্লিয়াস ও. সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসকে সম্মিলিতভাবে স্ত্রী গ্যামিটোফাইট বলে। এভাবেই ডিম্বাণু সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি হলো ডিম্বকের অভ্যন্তরে একটি পূর্ণাঙ্গ ভূণথলির। এর বিভিন্ন অংশের নিষেকোত্তর পরিণতি নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
নিষেকের পর ডিম্বকরন্দ্র পরিবর্তিত হয়ে বীজরন্দ্রে পরিণত হয়। ডিম্বকনাভী পরিবর্তিত হয়ে বীজনাভীতে পরিণত হয়। ডিম্বক নাড়ী পরিবর্তিত হয়ে বীজবৃন্তে পরিণত হয়। এক্সাইন ও ইন্টাইনে পরিবর্তিত হয়ে যথাক্রমে টেস্টা ও টেগমেন তৈরি করে। নিষেকের পরে ভ্রূণপোষক বা নিউসেলাস নষ্ট হয়ে যায় অথবা পেরিস্পার্মে পরিণত হয়। সস্য নিউক্লিয়াস পরিবর্তিত হয়ে সস্য বা এন্ডোস্পার্ম তৈরি হয়। সাহায্যকারী কোষ এবং প্রতিপাদ কোষ নষ্ট হয়ে যায়। নিষেকের পর গর্ভাশয় পরিবর্তিত হয়ে ফলে পরিণত হয়। গর্ভাশয় প্রাচীর পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয় ফলত্বক। ডিম্বক পরিবর্তিত হয়ে বীজে পরিণত হয়। ডিম্বকের বহিঃত্বক রূপান্তরিত হয়ে বীজ বহিঃত্বক এবং ডিম্বক অন্তঃত্বক রূপান্তরিত হয়ে বীজ অন্তঃত্বক তৈরি করে। ডিম্বাণু পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয় ভূণ। এটি বীজের অভ্যন্তরে থাকে। এভাবে চিত্রের বিভিন্ন অংশ পরিবর্তিত হয়ে ফল তৈরি করে। সপুষ্পক উদ্ভিদের জনন কোষ দুটি গঠিত হওয়ার পর এদের মিলন ঘটলে ফুলের গর্ভাশয়টি ফলে এবং ডিম্বকসমূহ বীজে পরিণত হয়। বীজ উদ্ভিদের বংশ রক্ষা করে এবং বংশ বৃদ্ধি করে। নিষেকের মাধ্যমে উক্ত পরিবর্তন না ঘটলে ফল ও বীজের সৃষ্টি হতো না। ফলে খাদ্যের অভাবে প্রাণিকুল বিশেষ করে মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যেতো।