| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
কলেরা জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম হলো- Vibrio cholerae
যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO₂, H₂O ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলা হয়।
অন্যদিকে, যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোনো মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না, তাকে অবাত শ্বসন বলে। অবাত শ্বসনে অল্প পরিমাণে শক্তি তৈরি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রিয়াটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার। সেখানে 'A' চিহ্নিত বস্তুটি হলো শর্করা (গ্লুকোজ)। মেসোফিল ক্লোরোপ্লাস্টে ক্যালভিন চক্র বা C3 চক্রের মাধ্যমে উক্ত শর্করা বা গ্লুকোজ তৈরি হয়ে থাকে। নিচে C3 চক্রের মাধ্যমে গ্লুকোজ বা শর্করা সৃষ্টি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
i. কোষস্থ ১,৫ রাইবুলোজ বিসফসফেট CO₂ গ্রহণ করে একটি অস্থায়ী ৬ কার্বনযুক্ত কিটো অ্যাসিড সৃষ্টি করে। রুবিস্কো নামক এনজাইম এ প্রক্রিয়ায় অণুঘটক হিসেবে কাজ করে। ৬ কার্বন বিশিষ্ট কিটো অ্যাসিড সাথে সাথে বিশ্লিষ্ট হয়ে দুই অণু ৩- ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিডে (3PGA) পরিণত হয়। ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড।
ii. ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড NADPH2 দ্বারা বিজারিত হয়ে ৩- ফসফোগ্লিসারালডিহাইড উৎপন্ন করে। ATP এ বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
iii. ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড আইসোমারেজ এনজাইমের সহায়তায় ডাইহাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন ফসফেটে (DHAP) পরিণত হয়। পরবর্তীতে এক অণু-৩ ফসফোগ্লিসারালডিহাইড ও এক অণু ডাই হাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট মিলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অণু ফ্রুক্টোজ ১, ৬ বিসফসফেট (Fr. 1,6 BP)। এখানে অ্যালডোলেজ এনজাইম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
iv. ফ্রুক্টোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে ফ্রুক্টোজ ১, ৬ বিসফসফেট এক অণু ফসফেট ত্যাগ করে ফ্রুক্টোজ ৬-ফসফেটে পরিণত হয়।
V. ফসফোফ্রুক্টোজ আইসোমারেজ এনজাইমের প্রভাবে ফ্রুক্টোজ ৬- ফসফেট গ্লুকোজ ৬-ফসফেটে পরিণত হয়।
vi. গ্লুকোজ ৬-ফসফেট অতঃপর হেক্সোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে ফসফেট ত্যাগ করে গ্লুকোজে পরিণত হয়।
এভাবে C, চক্রের মাধ্যমে গ্লুকোজ তৈরি সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সকল জীবের জন্য বিশেষ গুরত্ব বহন করে। প্রকৃতিতে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে। কোনো প্রাণীই নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। তাই আমাদের সম্পূর্ণরূপেই খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কাজেই বলা যায়,পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীর তথা মানব জাতির খাদ্য তৈরি হয় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে। এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বস্ত্র, ওষুধ, কয়লা, পেট্রোল, গ্যাস ইত্যাদি যা কিছু আমরা পেয়ে থাকি তা প্রকৃতপক্ষে সালোকসংশ্লেষণেরই ফল। শুধু তাই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ করে O₂ ও CO₂ এর সঠিক অনুপাত রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তা জীবজগতের জন্য যেমন হুমকি স্বরূপ তেমনি মানুষের জন্যও। সকল জীব শ্বসন প্রক্রিয়ায় O₂ গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করে। কেবলমাত্র শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমন্ডলে 02 গ্যাসের স্বল্পতা এবং CO₂ গ্যাসের আধিক্য দেখা দিতো। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে বলে এখনও বায়ুমণ্ডলে O₂ ও CO₂ গ্যাসের ভারসাম্য বজায় রয়েছে। বেঁচে রয়েছে জীবকুল তথা মানবজাতি। আলোচনার শেষে তাই বলা যায় সকল জীবের জন্য সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।