| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (2 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – অনুমান, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
অনুমান হলো কোনো জ্ঞাত বা জানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করার মানসিক প্রক্রিয়া।
যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় তাকে সহানুমান বলে। যেমন:
সকল দার্শনিক হন জ্ঞানী
নজরুল ইসলাম হন একজন দার্শনিক
অতএব, নজরুল ইসলাম হন জ্ঞানী।
উপরের যুক্তিটিতে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়েছে। তাই দৃষ্টান্তটি একটি সহানুমান।
দৃষ্টান্ত-১ আরোহ অনুমানকে নির্দেশ করে।
অনুমানকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো আরোহ অনুমান। যে অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় তাকে আরোহ অনুমান বলে। আরোহ অনুমানে বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন করা হয় বলে, এতে আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান থাকে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১-এর যুক্তিটি হচ্ছে-
রবীন্দ্রনাথ হন মানবতাবাদী
নজরুল হন মানবতাবাদী
ঈশ্বরচন্দ্র হন মানবতাবাদী
∴ সকল কবি হন মানবতাবাদী
এই যুক্তিটির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, এখানে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির মানবতাবাদী হওয়ার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন করা হয়েছে। তাই দৃষ্টান্ত-১ এর উদাহরণটি আরোহ অনুমানের একটি যুক্তি।
দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ যথাক্রমে আরোহ অনুমান ও অবরোহ অনুমানকে প্রকাশ করে।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে। অন্যদিকে, যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং সিদ্ধান্তটি কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না, তাকে অবরোহ অনুমান বলে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এ যথাক্রমে আরোহ অনুমান ও অবরোহ অনুমান প্রকাশ পেয়েছে। আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সবসময় সার্বিক হয়। কিন্তু অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত বিশেষ হয়।
অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কোনো সময়ই আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সবসময়ই বেশি ব্যাপক হয়। দৃষ্টান্ত-১ এ আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যগুলোর তুলনায় বেশি ব্যাপক। কিন্তু, দৃষ্টান্ত-২ এ অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি একটি বিশেষ যুক্তিবাক্য। যা তার আশ্রয়বাক্যগুলোর তুলনায় কম ব্যাপক। দৃষ্টান্ত-১ এ আমরা বিশেষ থেকে সার্বিকে উপনীত হয়েছি। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ এ আমরা সার্বিক থেকে বিশেষে উপনীত হয়েছি। এছাড়াও অবরোহ অনুমানে আকারগত সত্যতা পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু আরোহ অনুমানে আকারগত ও বস্তুগত উভয় সত্যতা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। আবার, অবরোহ ও আরোহ উভয় প্রকার অনুমান একই আদর্শ নিয়ে পরিচালিত হয়। উভয় প্রকার অনুমানের একটি আদর্শ এবং সেটি হলো সত্যের আদর্শ।
সুতরাং, অবরোহ অনুমান ও আরোহ অনুমান উভয়েই অনুমানের দুটি দিক এবং উভয়ের বেশকিছু সম্পর্কের দিক থাকলেও তাদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।