| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
পৃথিবীর মহাদেশগুলোর বাইরে সমুদ্র উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই হলো মহীসোপান।
নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত নিরক্ষরেখা হয়ে উৎপন্ন হয় বলে এ স্রোত উষ্ণ হয়।
নিরক্ষরেখায় সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে সে অঞ্চলের পানিরাশি সূর্যের উত্তাপ পায় এবং অধিক উষ্ণ হয়। শীতকালীন মৌসুমি স্রোত আফ্রিকার সোমালিয়ায় দক্ষিণে পৌঁছে পূর্ব দিকে বেঁকে যায় এবং নিরক্ষরেখা হয়ে সোজা পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এ স্রোতটি অর্থাৎ নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত নিরক্ষরেখা হয়ে প্রবাহিত হয় বলে এ স্রোত উষ্ণ হয়।
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থান দুটিতে প্রবাহমান স্রোতদ্বয় হলো যথাক্রমে ক্যানারি স্রোত ও ল্যাব্রাডর স্রোত। উভয়ই শীতল স্রোত হলেও এ দুটি স্রোতের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান।
ক্যানারি স্রোত একটি শীতল স্রোত। এ স্রোত দক্ষিণ দিকে বেঁকে ইউরোপের পর্তুগাল ও পশ্চিম আফ্রিকার পাশ দিয়ে দক্ষিণে অগ্রসর হয় এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে অয়ন বায়ুর প্রভাবে ক্রমশ পশ্চিম দিকে বেঁকে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের সাথে মিলিত হয়। এ স্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল। তাই এ স্রোতের প্রভাবে আফ্রিকায় উত্তর পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয় না। উত্তর আটলান্টিক প্রবাহের নিচ দিয়ে শীতল সুমেরু স্রোতের একটি শাখা আন্তঃস্রোতরূপে পর্তুগালের কাছে ক্যানারি স্রোতের সাথে মিলিত হয় বলে এ স্রোতটি শীতল স্রোতে পরিণত হয়েছে। উপসাগরীয় স্রোত, ক্যানারি স্রোত ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের বিরাট ঘূর্ণাবর্তের মধ্যস্থলের প্রবাহহীন সাগরে স্রোতবাহিত শৈবাল, তৃণ, খড়, গাছপালা প্রভৃতি সঞ্চিত হয় বলে ঐ অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলে।
অন্যদিকে সুমেরু সাগর থেকে আগত একটি শীতল স্রোত প্রথমে বাফিন উপসাগরে প্রবেশ করে। ড্যাভিস প্রণালির পশ্চিম পাশ দিয়ে কানাডার ল্যাব্রাডর উপকূলের উত্তর পাশে শীতল পূর্ব গ্রিনল্যান্ড স্রোতের সাথে মিলিত হয়েছে। এ মিলিত স্রোত ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এ শীতল স্রোত দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়ার ফলে উষ্ণ ও শৈত্যের প্রভাবে কানাডা ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়।
তাই বলা যায়, প্রকৃতিগতভাবে ক্যানারি স্রোত ও ল্যাব্রাডর স্রোতের মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে।