| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সুত্রাকার নীলাভ-সবুজ শৈবালের ট্রাইকোম খন্ডিত হলে প্রতিটি খন্ডকে হরমোগোনিয়া বলা হয় ।
যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে এবং পরস্পর পরস্পরকে উপকার করে এমন দুটি জীবের সহাবস্থানকে মিথোজীবিতা বলে এবং জীব দুটিকে মিথোজীবী বলে। যেমন- শৈবাল ও ছত্রাকের সমন্বয়ে গঠিত লাইকেন। এক্ষেত্রে শৈবাল খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয় অপরদিকে শৈবাল ছত্রাক থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে পরস্পর পরস্পরকে উপকার করে। এদের মধ্যে মিথোজীবিতা ঘটে। তাই লাইকেন কে মিথোজীবী বলা হয়।
উদ্দীপকের উল্লিখিত ধাপ-খ মিয়োসিস-২ বা দ্বিতীয় মায়োসিস বিভাজনকে নির্দেশ করছে। এ বিভাজন প্রক্রিয়ার ৪টি দশা রয়েছে। যথা- (১) প্রোফেজ-২
(২) মেটাফেজ-২
(৩) অ্যানাফেজ-২ এবং
(৪) টেলোফেজ-২।
নিচে মিয়োসিস-২-এর তিনটি দশার চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিভাজনটি হলো মায়োসিস।যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস পর পর দু'বার এবং ক্রোমোসোম মাত্র একবার বিভাজিত হয়ে মাতৃকোষের ক্রোমোসোমের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোসোমযুক্ত চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে।
মায়োসিসের গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
১। জননকোষ সৃষ্টি : মায়োসিসের ফলে জননকোষ উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটলে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব।
২। ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখাঃ প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা এ প্রক্রিয়ার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা হতে সন্তান-সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ,চারগুণ, আটগুণ, ষোলগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতো ।
৩। প্রজাতির স্বকীয়তা ঠিক রাখাঃ ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে।
৪। বৈচিত্র্যের সৃষ্টি : যৌন প্রজননসম্পন্ন কোনো দুটি জীবই হুবহু এক রকম হয় না। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রসিং ওভারের ফলে পৃথিবীতে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৫। অভিব্যক্তি : মায়োসিস বৈচিত্র্য, অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ বজায় রাখে। ৬। গ্যামিট সৃষ্টি ও বংশবৃদ্ধি : ডিপ্লয়েড জীবে মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যামিট সৃষ্টি হয়। গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমেই যৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৭। জনুঃক্রম : যে সকল জীবের জীবনচক্রে জনুঃক্রম আছে সেখানে মায়োসিস প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
৮। মেন্ডেলের সূত্র : মেন্ডেলের সূত্রের ব্যাখ্যা দেয়া মায়োসিস ছাড়া সম্ভব নয়।
তাই বলা যায়, জীবজগতে মায়োসিসের গুরুত্ব অপরিসীম।