| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২১ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
প্রতিসাম্যতা বলতে প্রানীদেহের মধ্যরেখীয় তলের দুপাশে সদৃশ বা সমান আকার-আকৃতিবিশিষ্ট অংশের অবস্থানকে বোঝায়।
অনেক সময় একটি প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে বেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গসংস্থানিক পার্থক্য থাকায় তাদের শ্রেণিকরণের ক্ষেএে উপপ্রজাতিক পদ ব্যবহার করা হয় । এ সব সদস্যকে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির উপপ্রজাতি হিসাবে গণ্য করা হয় । একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির উপপ্রজাতির যৌনমিলেনর মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম উপপ্রজাতির নামকরনে তিনটি পদ ব্যবহার করা হয় । জীবের যে নামকরণ পদ্ধতিতে তিনটি পদ সমন্বয়ে নামকরণ করা হয়, তাকে ত্রিপদ নামকরণ বলা হয়।
উদ্দীপকে “A” চিহ্নিত চিএটি হলো ঘাসফড়িং । ঘাসফড়িং-এর দর্শন একক হলো ওমাটিডিয়াম । নিচে ওমাটিডিয়ামের সচিত্র গঠন বর্ণনা করা হলো :
কর্ণিয়া : এটি ওমাটিডিয়ামের বাইরের দিকের বর্ণহীন,স্বচ্ছ,উত্তল ও ছয়কোণা কিউটিকল আবরণী । এটি লেন্সের মতো কাজ করে ।
কর্ণিয়াজেন কোষ :
কর্ণিয়ার নিচে একজোড়া চাপা ও পাশাপাশি অবস্থিত কোষ । এদের ক্ষরণ হতে কর্ণিয়া সৃষ্টি হয় ।
ক্রিস্টালাইন কোণ :
এটি প্রতিসরণশীল অঙ্গ হিসাবে কাজ করে, ওমাটিডিয়ামে আলো প্রাবেশে সাহায্য করে ।
ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ :
এটি ক্রিস্টালাইন কোণকে ঘিরে অবস্থিত দীর্ঘ ৪টি কোষ । এদের ক্ষরণ হতে ক্রিস্টালাইন কোণ গঠিত হয় ।
আইরিশ রঞ্জক আবরণী :
কর্ণিয়াজেন কোষ ও ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ একটি কালো রঙের আবরণী দিয়ে আবৃত থাকে,একে আইরিশ রঞ্জক আবরণী । তীব্র আলোতে এই আবরণী প্রসারিত হয় এবং মৃদ্যু আলোতে এই আবরণী সংকুচিত হয় ।
রেটিনুলার কোষ :
কোণ কোষগুলোর নিচে বৃত্তাকার ৭/৮টি লম্বা রেটিনুলার কোষ অবস্থিত । এসব কোষের ক্ষরণ হতে র্যাবডোম গঠিত ।
র্যাবডোম :
এটি রেটিনুলার কোষগুলোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লম্বা দন্ডের মতো অংশ ।
র্যাবডোমের মাধ্যমে আলো গৃহীত হয় ।
রেটিনাল রঞ্জক আবরণী :
এরা রঞ্জক কোষযুক্ত কালো পর্দার আবরণী । এরা আইরিশ কোষের গোড়াকে এবং রেটিনুলার কোষকে বেষ্টন করে রাখে । এটি ওমাটিডিয়ামকে তার পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে পৃথক রাখে ।
ভিত্তি পর্দা :ওমাটিডিয়াম যে পাতলা পর্দার ওপর অবস্থান করে তাকে ভিত্তি পর্দা বলে ।
স্নায়ুতন্তু এরা ওমাটিডিয়ামে সৃষ্ট প্রতিবিম্বকে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে ।:
উদ্দীপকের প্রাণী দুটি একই উপপর্বভুক্ত অর্থাৎ Vertibrata উপপর্বের প্রাণী । কিন্তু উদ্দীপকের “B” ও “C” প্রাণী দুটি একই উপপর্বভুক্ত হলেও এরা ভিন্ন শ্রেণীর অর্থাৎ Chondrichthyes ও Actinopterygii শ্রেণীভুক্ত প্রাণী ।
Vertibrata উপপর্ব একটি বিরাট ও বৈচিএ্যময় প্রাণীগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত । এদের নটোকর্ড কশেরুকা বিশিষ্ট মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এদের নার্ভ কর্ডের অগ্রপ্রান্ত মস্তিষ্ক এবং এর পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড গঠন করে। উন্নত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কেবলমাত্র ভ্রূণে এবং অন্যান্য প্রাণীদের সারাজীবন গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র বর্তমান।
দেহের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত সুগঠিত হৃদপিণ্ড রক্ত সংবহনের কাজ করে। এদের প্রধান রেচনাঙ্গ বৃক্ক ।
উদ্দীপকের “B” অর্থাৎ Chondrichthyes শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য :
এদের সব প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ প্ল্যাকয়েড আঁশ দ্বারা আবৃত। এদের মাথার দুই পাশে ৫-৭ জোড়া ফুলকা ছিদ্র থাকে। এদের কঙ্কাল তরুণাস্থিময়। এদের বায়ুথলি থাকে না ।
উদ্দীপকের “C” অর্থাৎ Actinopterygii শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য :
এদের ত্বক গ্রন্থিময় এবং সাধারণত সাইক্লয়েড অর্থাৎ গোলাকার বা টিনয়েড অর্থাৎ কাঁটাযুক্ত আঁইশে আবৃত। কিছু ক্ষেত্রে আঁইশ নেই। এসব মাছের অন্তঃকঙ্কাল অস্থিময়। এদের মাথার দুপাশে একটি করে ফুলকা রন্ধ্র অবস্থিত যা কানকো দিয়ে আবৃত।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রাণী দুটি একই উপপর্বভুক্ত হলেও একই এরা একই শ্রেণীভুক্ত প্রাণী নয় ।