| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২১ – উদ্ভিদ প্রজনন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
স্ত্রী গ্যামেট তথা ডিম্বাণুর সাথে একটি পুংগ্যামেটের যৌন মিলনকে নিষেক বলে।
ফুলের তৃতীয় এবং জননে অপরিহার্য অন্যতম স্তবককে পুংস্তবক বলে। পুংস্তবকের প্রতিটি পৃথক অংশকে পুংকেশর বলে। পুংকেশরের দুটি অংশ হলো পুংদণ্ড ও পরাগধানী। পরাগধানীর পরাগ থলিতে পরাগরেণু অবস্থান করে। পরাগরেণু থেকেই পুংজননকোষ বা পুংগ্যামেট তৈরি হয়। পুংজননকোষ বা পুংগ্যামেট সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিত্রে নির্দেশিত প্রক্রিয়াটি হলো পুংগ্যামেট সৃষ্টির প্রক্রিয়া। নিচে পুংগ্যামেটোফাইট অর্থাৎ পুংগ্যামেট সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
পরাগরেণু হলো পুংগ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস তৈরি করে। বড়টিকে বলা হয় নালিকা নিউক্লিয়াস এবং ছোটটিকে বলা হয় জনন নিউক্লিয়াস । পরাগায়নের মাধ্যমে পরাগরেণু স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় অঙ্কুরিত হয় অর্থাৎ ইনটাইন বৃদ্ধি পেয়ে নালিকার আকারে বাড়তে থাকে। এ নালিকাকে পোলেন টিউব বা পরাগনালিকা বলে। পরাগনালিকার ভেতরে নালিকা নিউক্লিয়াস এবং পরে অন্য নিউক্লিয়াস প্রবেশ করে। নালিকাটি গর্ভদণ্ডের ভেতর ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে ভেতরে ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছায়। ইতোমধ্যে জনন নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি পুংগ্যামেট সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'B' হলো স্ত্রী গ্যামেটোফাইট । চিত্রের বিভিন্ন অংশের নিষেকোত্তর পরিণতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-- চিত্রে ডিম্বক রন্ধ্রের দিকে বিদ্যমান ডিম্বাণু নিষেকের পর জাইগোটে পরিণত হয়। নিষেকের ফলে হ্যাপ্লয়েড (n) ডিম্বাণুর সাথে হ্যাপ্লয়েড (n) শুক্রাণুর যৌন মিলনের ফলে যে ডিপ্লয়েড (n + n =2n) কোষের সূচনা হয় তাকে জাইগোট বা উস্পোর বলে। নিষিক্ত ডিম্বাণু তথ্য জাইগোটই হলো স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। জাইগোট তার চারপাশে একটি প্রাচীর নিঃসৃত করে এবং কিছু সময় সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সুপ্ত অবস্থা কেটে গেলে এতে মাইটোটিক বিভাজন হয় এবং বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রুনে পরিণত হয়। মাঝের নিউক্লিয়াসটি হলো সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস। সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে একটি শুক্রাণুর (n) মিলনে ট্রিপ্লয়েড (3n) এন্ডোম্পার্ম নিউক্লিয়াস গঠিত হয় তা বার বার বিভাজন ও বিকাশের মাধ্যমে সষ্য বা এন্ডোম্পার্ম টিস্যু গঠন করে। ডিম্বাণুর পাশের দুটি কোষকে সহকারী কোষ বলে যা নিষেকের পর নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে ডিম্বকমূলে অবস্থিত কোষ তিনটিকে বলা হয় প্রতিপাদ কোষ। এ প্রতিপাদ কোষ তিনটি নিষেকের পর নষ্ট হয়ে যায়। নিষেকের পর ভ্রুনথলি বা স্ত্রী গ্যামিটোফাইট বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।