| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – বায়ুমন্ডল ও বায়ুদূষণ, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
যে অদৃশ্য বায়ুরাশি পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
থার্মোস্ফিয়ার বায়ুমন্ডলের তৃতীয় স্তর।ওজোন স্তর পার হওয়ার সাথে সাথে এ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা দ্রুত বাড়তে থাকে। তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এ অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়ে থাকে। এ স্তরে উত্তাপের অত্যন্ত ধীর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। এ স্তর থেকে বেতারতরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে থাকে। বেলা দ্বিপ্রহরের পরপরই এই স্তরের উষ্ণতা ১০৯° সে. হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ হলো – বায়ু দূষণ।নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
CO₂ একটি গ্রিনহাউস গ্যাস। সকল প্রাণী শ্বসন ক্রিয়াকালে CO₂ গ্যাস বাতাসে ত্যাগ করে এবং সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ ক্রিয়াকালে CO₂ গ্রহণ করে। বনভূমি ধ্বংস ও গাছপালা নির্বিচারে কাটার ফলে জীবকুলের ত্যাগ করা সবটুকু CO₂ গ্যাস সবুজ উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না। তাই বাতাসে CO₂ গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কলকারখানার চিমনি হতেও CO₂ গ্যাস বাতাসে যোগ হয়। ধোঁয়া হলো এক ধরনের এরোসল যা দহনকৃত নির্গত বস্তু ও বাতাসে ভাসমান কলয়ডাল কণা এবং বাষ্পীভবন বা দহনোদ্ভূত গ্যাস নিয়ে গঠিত হয়।এ গ্যাসে সিসা, তামা, জিংক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ভারি ধাতু ও কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂), হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S), হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCI), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (N₂O, NO₂, NO3, N₂O₃) ইত্যাদি থাকে। এসব গ্যাসের ঘনত্ব একটু বৃদ্ধি পেলে এরা জীবকুলের বেশ ক্ষতিসাধন করে। সাধারণত শিল্পকারখানার ধোঁয়া হতে গ্যাস বায়ুতে মিশে। বিভিন্ন জ্বালানি দহনের ফলেই SO₂ সৃষ্টি হয়। বায়ুর সাথে মিশে এই গ্যাস সালফিউরিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে এবং অ্যাসিড বৃষ্টির মাধ্যমে জীবকুলের ক্ষতি করে।
তাই বলা যায় উপরিউক্ত কারণে বায়ু দূষণ হয়।
উদ্দীপকে বায়ু দূষণের কথা বলা হয়েছে।
সমাজের সকল স্তরের মানুষদেরকে বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা পরিমাপের জন্য ব্যাপক জরিপ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণকে বায়ুদূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদের কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্বন্ধে পরিচিতি প্রদান করা জরুরি।
এছাড়া পরিবেশে জনসংখ্যা ভার কমাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনে ডিজেলের পরিবর্তে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বনায়ন করতে হবে।
পরিশেষে, জনগণকে পরিবেশ সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।