| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
লাইটিক ফাজ ব্যাকটেরিওফাজ নামেও পরিচিত যা একটু ক্ষুদ্র ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে মেরে ফেলতে পারে।
কোনো জীবের জীবন চক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রমবলে। ম্যালেরিয়া জীবাণু একটি অন্তঃপরজীবী প্রোটোজোয়া প্রাণী। এদের জীবন চক্রে জনুক্রম ঘটে। জাইগোট রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি করে উওকিনেট (2n)। পরে উওকিনেট উওসিস্ট (2n)-এ পরিণত হয়। ডিপ্লয়েড (2n) উওসিস্ট মায়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোরোজয়েট সৃষ্টি করে। এ হ্যাপ্লয়েড স্পোরোজয়েট দশা মশকীর লালার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবন চক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশা পর্যায়ক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। সুতরাং ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবন চক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' অণুজীবটি হলো ভাইরাস। ভাইরাস সর্বদাই ব্যাকটেরিয়াকে ভক্ষণের মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এসব ভাইরাস ব্যাকটেরিওফায নামে পরিচিত। যেমন- T2-ব্যাকটেরিওফায E.coli ব্যাকটেরিয়াকে ভক্ষণ করে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায়। নিচে T2 ফাযের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রক্রিয়া চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
১. সংযুক্তি: T2 ব্যাকটেরিওফায সাধারণত E.coli ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে থাকে। E.coli ব্যাকটেরিয়ামের কোষপ্রাচীরে ফায প্রোটিনের জন্য রিসেপ্টর সাইট থাকে। রিসেপ্টর সাইটের প্রোটিনের সাথে ফায ক্যাপসিডের স্পর্শক তন্তুর প্রোটিনের রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়ামের প্রাচীরে T2-ফায দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। এটি হলো আক্রমণের সূচনা।
২. স্পর্শকতন্তুর সংকোচন: এ পর্যায়ে স্পর্শকতন্তুর সংকোচনের ফলে বেসপ্লেটটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের সংস্পর্শে আসে।
৩. ফায DNA অনুপ্রবেশ: এ সময় ফাযের লেজ থেকে লাইসোজাইম এনজাইম নিঃসৃত হয় যা ব্যাকটেরিয়া কোষপ্রাচীরের মিউকোপেপটাইড স্তরকে দ্রবীভূত করে একটি সূক্ষ্ম ছিদ্রের সৃষ্টি করে। এ ছিদ্রের মধ্য দিয়ে ফাযের DNA ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে।
৪. সংশ্লেষ বা অনুলিপন: ফায DNA পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর পোষক কোষের RNA পলিমারেজ ব্যবহার করে ফায mRNA তৈরি করে। ফায mRNA পরে প্রোটিন তৈরি করে এবং একটি বিশেষ প্রোটিন E.coli DNA কে খন্ড-বিখন্ড করে নষ্ট করে দেয়। ফায DNA নিউক্লিওটাইড কোষের রাইবোসোম, tRNA, অ্যামাইনো অ্যাসিড ইত্যাদির কর্তৃত্ব গ্রহণ করে এবং নিজের ইচ্ছেমতো নতুন ফায DNA প্রতিলিপন করে নেয় এবং ফায কোট প্রোটিন তৈরি করে।
৫. বিভিন্ন দেহাংশ একত্রিত হওয়া: পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রতিটি ফায DNA এক একটি কোট প্রোটিনের মাথার অংশে প্রবেশ করে। পরে ক্রমান্বয়ে মাথার অংশের সাথে লেজ, লেজের শেষ প্রান্তে স্পর্শক তন্তু, স্পাইক ইত্যাদি সংযুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাকটেরিওফায হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৬. নতুন ভাইরাস মুক্তি বা লাইসিস: পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রচুর সংখ্যক ব্যাকটেরিওফায তৈরি হওয়ার পর ফায লাইসোজাইম এনজাইম তৈরি করে যার কার্যকারিতায় পোষক কোষের প্রাচীর বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং নতুন সৃষ্ট ব্যাকটেরিওফাযসমূহ মুক্তভাবে বেরিয়ে আসে।
উদ্দীপকের 'C' চিত্রে মশা কে নির্দেশ করা হয়েছে। ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার মত ভয়াবহ রোগ সমূহ মশকির মাধ্যমে ছড়ায়, তাই মশকিদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনেকাংশেই এই মরণ ঘাতী রোগ সমূহ কে নির্মূল করা সম্ভব। নিম্নে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ শুধু মশকী নিধন মশককুলের বংশ পরিবেশ হতে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে এদের বিস্তার রোধ করা যায় -
(i) প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসঃ মশকীরা বদ্ধ পচা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত ডোবা, নালা পরিষ্কার রাখা, যেখানে সেখানে পানি জমতে না দেয়া, বাড়ির আশেপাশের ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল কেটে ফেলার মাধ্যমে মশকীর বসবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা সম্ভব।
(ii) লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করাঃ পচা পানিতে ডিম ফুটে মশকীর লার্ভা ও পিউপা দশা সৃষ্টি হয়। পানিতে কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দিলে এরা অক্সিজেনের অভাবে মারা পড়ে। এছাড়া বিএইচসি (BHC), ডায়েলড্রিন (dieldrin) ইত্যাদি কীটনাশক ওষুধ তেলের পানিতে ছিটিয়ে দিলে মশকীর লার্ভা ও পিউপা মারা যায়। পানিতে জুভেনাইল হরমোন ছিটিয়ে দিলে, লার্ভাগুলোর রূপান্তর ব্যাহত হয় ফলে এরা পূর্ণাঙ্গ মশকীতে রূপান্তরিত হতে পারে না। উপরোক্ত সবগুলো পদ্ধতিই কমবেশি পানি তথা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। তাই যে সকল জলাশয়ে লার্ভা বা পিউপা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ঐ সকল জলাশয়ে গাপ্পি, কই, শিং, খলসে, তেলাপিয়া, পুঁটি, টাকি ইত্যাদি জাতীয় পার্তিভোরাস মাছ চাষ করলে এরা মশকীর লার্ভা ও পিউপাগুলোকে ভক্ষণ করে। এতে মশকী নিধনের পাশাপাশি পরিবেশও থাকে দূষণমুক্ত।
(iii) পূর্ণাঙ্গ মশককুল নিধনঃ ফগিং মেশিনের মাধ্যমে সালফার ডাই-অক্সাইডের ধোয়া সৃষ্টি করে মশা তাড়ানো বা মেরে ফেলা সম্ভব। এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে বা রেডিয়েশন এর মাধ্যমে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে মশকীকুলকে ধ্বংস করা যায়।
(iv) কীটনাশক ব্যবহারঃ অধিকাংশ শহর এলাকাতে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। উপরোক্ত উপায় সমূহ অবলম্বন করে মশা প্রজাতি কে নিয়ন্ত্রণ করলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মত ভয়াবহ রোগ সমূহ থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।