| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক উইলহেম উন্ড।
মানুষ যা কিছু করে সেসব কাজই হলো আচরণ। অন্যভাবে, উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রতিক্রিয়া করাই আচরণ। আচরণের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে অন্যতম হলো সামগ্রিক আচরণ। সামগ্রিক আচরণের -ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয়। যেমন— কোনো শিক্ষকের ভাষণকে সামগ্রিক আচরণ বলা যায় যেখানে তার মুখের পেশী সঞ্চালন, ঠোঁট নাড়া, চোখের পলক ফেলা প্রভৃতিকে খণ্ডিত আচরণ বলা যায় ।
কোনো বিষয় বিজ্ঞান কি-না তা যেই চারটি বিষয় বা শর্তের উপর নির্ভর করে তা মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত করে উদ্দীপকের ছকে * তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে প্রদত্ত 'C' তথা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে চারটি শর্তের অন্যতম একটি যা নিচে বর্ণনা করা হলো-
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বোঝায় পুরাতন জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে না থেকে নিত্যনতুন বিষয়কে গ্রহণ করা । তত্ত্ব ও তথ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাকে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানীর থাকতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানিগণ পুরাতনকে বর্জন করে নিত্যনতুন তথ্য আহরণে সদা নিয়োজিত থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে মনোবিজ্ঞানকে আত্মা বা মনের বিজ্ঞান বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে আত্মা বা মনকে বাদ দিয়ে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়াকে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হিসেবে “গ্রহণ করা হয়েছে । মনোবিজ্ঞানেও অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো পুরাতনকে বর্জন এবং নতুনকে গ্রহণ করার মানসিকতা রয়েছে ।
উদ্দীপকের ছকে মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে চারটি শর্তের আলোকে দেখানো হয়েছে। সেখানে 'B' ও 'D' চিহ্নিত স্থানগুলো হবে যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও প্রয়োগশীলতা। উক্ত বিষয় দুটি নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : কোনো বিষয়কে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তার বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও পরিমাপের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক নিয়ম নীতি মেনে চলতে হয়, যা মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় বর্তমান। যেখানে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু গবেষণায় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, পরীক্ষণ পদ্ধতি, পরিসংখ্যান পদ্ধতি ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়াও কিছু বিশেষ বৈজ্ঞানিক শর্ত ও বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। যেমন— কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান, বস্তুনিষ্ঠতা ইত্যাদি ।
প্রয়োগশীলতা : বিজ্ঞানের অন্যতম একটি মাপকাঠি হলো এর প্রয়োগ বা ব্যবহার। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বা সূত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে মনোবিজ্ঞানের বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়। শিল্প-কারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজজীবন, ব্যক্তিগত জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন প্রভৃতি প্রায় সর্বক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।