| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
পানিতে বসবাসকারী উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত থাকে । কুঠুরিগুলো বায়ুপূর্ণ থাকার কারণে জলজ উদ্ভিদ ভেসে থাকতে পারে। এগুলোকে অ্যারেনকাইমা বলে।
ঊদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামালও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে। পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্য উদ্ভিদদেহের অন্যান্য সজীব অংশে পরিবহন করে ফ্লোয়েম টিস্যু। জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকেই একত্রে পরিবহন টিস্যু বলে। যে পরিবহণ টিস্যুতে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে ঘিরে রাখে, তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে। যেহেতু ড্রাসিনা উদ্ভিদে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে ঘিরে রাখে তাই এটি একটি লেপ্টোসেন্ট্রিক বা ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক উদ্ভিদ ।
উদ্দীপকের ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে যে, এটি একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের অন্তর্গঠন। আমরা জানি একবীজপত্রী উদ্ভিদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন-
১: এপিডার্মিস বা বহিঃত্বক : এটি সবচেয়ে বাইরের স্তর। যার কাজ হলো : (i) অভ্যন্তরীণ অংশকে রক্ষা করা এবং (ii) পানির অপচয় রোধ করা।
২: গ্রাউন্ড টিস্যু : গ্রাউন্ড টিস্যু দুই অংশে বিভক্ত, যথা :
(i) হাইপোডার্মিস বা অধঃত্বক : এটি একাধিক সারি স্কেরেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। এর কাজ : কান্ডকে দৃঢ়তা প্রদান করা।
(ii) কর্টেক্স : বহু সারি প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এদের কাজ : (i) খাদ্য সঞ্চয় করা ও (ii) পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ ধারণ করা।
৩: ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ: ভাস্কুলার বান্ডল সংখ্যায় অনেক। এরা গ্রাউন্ড টিস্যুতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে। পরিধির দিকে অধিক সংখ্যক অবস্থিত। প্রতিটি ভাস্কুলার বান্ডল স্ক্লেরেনকাইমা কোষের আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত। শুধু ফ্লোয়েম ও জাইলেন দিয়ে ভাস্কুলার বান্ডল গঠিত। এতে কোনো ক্যাম্বিয়াম নেই তাই এরা বদ্ধ সমদ্বিপার্শীয় । প্রতিটি বান্ডল নিম্নলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত।
(i) জাইলেম (Xylem) : জাইলেম টিস্যুর গঠন অনেকটা ইংরেজি 'y' অক্ষরের মতো। এদের কাজ : পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করকরা।
(ii) ফ্লোয়েম : সীভনল এবং সঙ্গীকোষ দিয়েফ্লোয়েম গঠিত। এতে কোনো ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা নেই। এর কাজ : খাদ্য পরিবহন করা।
৪: মজ্জা ও মজ্জা রশ্মি : এতে ছোট মজ্জা আছে কিন্তু সুস্পষ্ট মজ্জা রশ্মি নেই।
উপরিউক্ত সকল বৈশিষ্ট্যই উদ্দিপকের চিত্রে দেখা যায়। তাই বলা যায় যে, এটি একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডর অন্তর্গঠন ।
উদ্দীপকের চিত্রটির জাইলেম এবং ফ্লোয়েম এর অবস্থানের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন কলাগুচ্ছের উদ্ভব হয়। উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্য, পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে থাকে তাকে পরিবহন কলাগুচ্ছ বলে।
জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকেই একত্রে পরিবহন টিস্যু বলে। জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর তুলনামূলক অবস্থানের উপর নির্ভর করে পরিবহন কলাগুচ্ছকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা: (১) সংযুক্ত (২) অরীয় এবং (৩) কেন্দ্রিক। নিচে ভাস্কুলার বান্ডলের শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করা হলো-
১. সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল: জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের উপর একই গুচ্ছে যুক্তভাবে অবস্থান করলে তাকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল বলে। সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলকে আবার দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: ক. সমপার্শ্বীয় এবং খ. সমদ্বিপার্শ্বীয়।
ক. সমপার্শ্বীয়: বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করলে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। আবার, জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যে যখন ক্যাম্বিয়াম থাকে তখন তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল এবং ক্যাম্বিয়াম না থাকলে তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- সপুষ্পক উদ্ভিদের কান্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
খ. সমদ্বিপার্শ্বীয়: যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার উপর ও নিচ উভয় পাশে দুই খণ্ড ফ্লোয়েম টিস্যু থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন-দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড (লাউ, কুমড়া ইত্যাদি)।
২. অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল: জাইলেম বান্ডল ও ফ্লোয়েম বান্ডল ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- সপুষ্পক উদ্ভিদের মূলে এ ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা দেয়।
৩. কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল: এক্ষেত্রে জাইলেম অথবা ফ্লোয়েম টিস্যুর যেকোনো একটি কেন্দ্রে থাকে এবং অন্যটি তাকে চারদিক থেকে ঘিরে অবস্থান করে। কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক. হ্যাড্রোসেন্ট্রিক: এক্ষেত্রে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে ঘিরে রাখে।
খ. লেন্ট্রোসেন্ট্রিক: এক্ষেত্রে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে ঘিরে রাখে।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর অবস্থানের ভিত্তিতে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।