| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
অবাত শ্বসনে অংশগ্রহণকারী অনুজীব যে প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য ভেঙ্গে অ্যালকোহল সৃষ্টি করে তাকে গাঁজন বা ফারমেন্টেশন বলে।
যেসব উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের ফলে উৎপাদিত প্রথম স্থায়ী যৌগ ৪ কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড তৈরী হয় তাদেরকে উদ্ভিদ বলে। উদ্ভিদে দুইটি চক্র সম্পন্ন হয় , যথা - ক্যালভিন চক্র এবং হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র। এখানে ২ ধাপে গৃহীত হয়, তাই এদের সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি হয়ে থাকে। এসব উদ্ভিদেরা উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এসব কারণে উদ্ভিদকে উন্নত মনে করা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল। পাতার ঊর্ধ্ব ও নিম্নতলের বহিঃত্বক দুটি রক্ষীকোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত একে পত্ররন্ধ্র বলে যেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্রাঙ্গ। পত্ররন্ধ্র খোলা বা বন্ধের বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। যেমন- বিজ্ঞানী স্যায়েরি এর মতবাদ : শ্বেতসার ও চিনির আন্তঃপরিবর্তন কোষ রসের pH এর জন্য ঘটে থাকে। রাত্রিতে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু শ্বসন চলতে থাকে। শ্বসনের ফলে সৃষ্ট রক্ষীকোষের কোষরসে দ্রবীভূত হয় এবং কার্বনিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে, তাই pH কমে গিয়ে 5 হয় । কোষরসের pH কম হলে কোষস্থ দ্রবণীয় চিনি অদ্রবণীয় শ্বেতসারে পরিণত হয়।তখন রক্ষীকোষে পানির বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে এবং রক্ষীকোষদ্বয় সংকোচিত হয়ে যায়। ফলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় সূর্যালোকের কারণে আবার সালোকসংশ্লেষণ শুরু হয়, ফলে কোষরসে দ্রবীভূত ব্যবহৃত হয়ে যায় এবং pH বেড়ে গিয়ে 7 হয়। কোষরসস্থ pH বেড়ে গেলে চিনির পরিমাণ বাড়ে। তখন অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে এবং রক্ষীকোষ স্ফীত হয় ফলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল। এটি উদ্ভিদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। পত্ররন্ধ্র পাতার উপরিতলে অবস্থিত দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ দিয়ে বেষ্টিত। পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, বহু ক্লোরোপ্লাস্ট ও ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে। রক্ষীকোষে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এটি খাদ্য তৈরি করে। এ অঙ্গের মাধ্যমে তিনটি শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রস্বেদন: পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। প্রস্বেদনকে প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয়। উদ্ভিদদেহ থেকে অতিরিক্ত পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বাষ্পাকারে বের করে দেয়া পত্ররন্ধ্রের প্রধান কাজ। এতে পরিবেশ শীতল থাকে। অতি তাপের ক্ষতি থেকে উদ্ভিদাঙ্গ রক্ষা পায়।
শ্বসন: পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে শ্বসন চলতে থাকে। এ সময়ে উদ্ভিদ অঙ্গ ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে ও ত্যাগ করে বা গ্রহণ করে। এতে বায়োমন্ডলীয় ভারসাম্য বজায় থাকে।
সালোকসংশ্লেষণ: পত্ররন্ধ্রে বহু ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টই সালোকসংশ্লেষণ এর স্থান। এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরী করে থাকে এবং উদ্ভিদ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তাই বলা যায়, উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের গুরুত্ব অপরিসীম।