জিন হলো জীবের সকল দৃশ্য ও অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একক।
সময়ের সাথে সাথে কম বৈচিত্র্যপূর্ণ পূর্বের জীব থেকে সুশৃঙ্খল ও অনুক্রমিক পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমিকভাবে বৈচিত্র্যময় জীবের বিকাশকে বিবর্তন বলে। পূর্বে পৃথিবীতে দেখা যেত এখন জীবিত নেই এমনকি বর্তমানে পৃথিবীতে দেখা যায় এরূপ কোনো জীবই এক সময়ে পৃথিবীতে ছিল না। এসবই বিবর্তনের কারণে ঘটেছে।
উদ্দীপক চিত্র-Y হলো RNA। নিচে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-RNA হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড (Ribonucleic Acid)। অধিকাংশ RNA তে একটি পলিনিউক্লিওটাইডের সূত্র থাকে। এতে পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেন বেস (এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল) থাকে। RNA ভাইরাসের ক্রোমোজোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA পাওয়া যায়। কিছু সংখ্যক ভাইরাসের ক্ষেত্রে (যেমন-TMV, Tobacco Mosaic Virus) DNA অনুপস্থিত। অর্থাৎ যে সমস্ত ভাইরাস DNA দ্বারা গঠিত নয় তাদের নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে RNA। এসব ক্ষেত্রে RNA-ই বংশগতির বস্তু হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র দ্বারা ক্রোমোসোমকে বোঝানো হয়েছে। একে বংশগিতর ভৌত ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়। মানবদেহে অটোসোম এবং সেক্স ক্রোমোসোম-এ দু'ধরনের ক্রোমোসোম থাকে। এদের মধ্যে সেক্স ক্রোমোসোম লিঙ্গ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সেক্স ক্রোমোসোমের সংখ্যা দুটি, যার মধ্যে একটি এবং অপরটি Y নামে পরিচিত। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোসোমই ক্রোমোসোম, অর্থাৎ । কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি এবং অপরটি Y, অর্থাৎ, Y। স্ত্রীলোকের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোসোমের সাথে একটি করে ক্রোমোসোম লাভ করে। অপরপক্ষে, পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টি সময় অর্ধেক শুক্রাণু করে একটি ক্রোমোসোম এবং অবশিষ্ট অর্ধেক শুক্রাণু একটি করে Y ক্রোমোসোম লাভ করে। ডিম্বাণু পুরুষের বা Y বহনকারী যেকোনো একটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোট দুটি অথবা একটি Y ক্রোমোসোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি নিয়ে অর্থাৎ নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে মেয়ে। আবার যে শিশু একটি এবং একটি Y অর্থাৎ XY ক্রোমোসোম নিয়ে পৃথিবীতে আসবে সে হবে ছেলে। উপরিউক্তি আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে অর্থাৎ ক্রোমোসোম-এর ভূমিকাই মুখ্য।
