জীবদেহে যে জটিল যৌগসমৃদ্ধ খাদ্যবস্তু প্রথমে ভেঙ্গে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং শ্বসনের মাধ্যমে জারিত হয়ে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেগুলোই হলো শ্বসনিক বস্তু।
যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে তাকে বলা হয় অবাত শ্বসন। যেসকল জীব খুবই কম অক্সিজেনযুক্ত বা অক্সিজেনবিহীন পরিবেশ বসবাস করে সে সকল জীবে অবাত শ্বসন ঘটে। বিভিন্ন অণুজীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এরা অল্প অক্সিজেনযুক্ত বা অক্সিজেন শূন্য পরিবেশে মৃতজীবী রূপে বাস করে বলে এ সকল অণুজীবে অবাত শ্বসন ঘটে।
উদ্দীপকের সমীকরণ দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। যেখানে P দ্বারা সূর্যালোক এবং দ্বারা গ্লুকোজকে নির্দেশ করা হয়েছে। সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতে শর্করা বা গ্লুকোজ উৎপাদন প্রক্রিয়া নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
আলোর অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার পর্যায়ে ক্যালভিন চক্রে বায়ুস্থ CO₂ পত্ররন্দ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে, কোষে অবস্থিত ৫-কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ-১, ৫-ডাইফসফেট এর সাথে মিলিত হয়ে ৬-কার্বনবিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে যা সাথে সাথে ভেঙে গিয়ে তিন কার্বনবিশিষ্ট দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড তৈরি হয়। অতঃপর আলোক পর্যায়ে সৃষ্ট আত্তীকরণ শক্তি ATP ও NADPH+H+ কে ব্যবহার করে ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ৩-কার্বন বিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড ডাইহাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট তৈরি করে। ৩-ফসফোগ্লিসারাডিহাইড ও ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট থেকে ক্রমাগত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একদিকে শর্করা এবং অপরদিকে রাইবুলোজ-১, ৫-ডাইফসফেট তৈরি হয়ে থাকে। এভাবে আলোর অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তথা শর্করা উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া, যেখানে হলো শর্করা এবং 'P' ও 'Q' হলো যথাক্রমে আলো ও ক্লোরোফিল অপরিহার্য উপাদান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
i . সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা: পানি ও CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হলো আলো। সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার অভ্যন্তরস্থ এনজাইম নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
ii. সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিলের ভূমিকা: একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে সক্ষম। তাই পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে গেলে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লেষিত হয়। নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নির্ভরশীল। সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত পুনর্গঠন হওয়া প্রয়োজন।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় P ও Q উপাদান অর্থাৎ আলো ও ক্লোরোফিল অপরিহার্য উপাদান।
