| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – জনসংখ্যা, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের কত জন লোক মারা যায় তাকে মৃত্যুহার বলে।
কৃষি মানুষের আদি পেশা আর কৃষি হতে উৎপাদিত পণ্যই মানুষের বেচে থাকায় প্রধান উপাদান। তাই মানুষের যাবতীয় উন্নয়ন কৃষিনির্ভর। বর্তমানে শিল্পনির্ভর অর্থনীতিও পরোক্ষভাবে কৃষি নির্ভর। কারণ কৃষি হতে উৎপন্ন পণ্য অনেক শিল্পপণ্যর প্রধান কাঁচামাল যার যোগান কৃষি হতেই আসে। এছাড়া মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কৃষি হতেই আসে। এককথায় সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায় উন্নয়নের ভিত্তিই হলো কৃষি।
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলটি হলো সিলেট অঞ্চল। নিচে এ অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনের ওপর ভৌগোলিক প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো-
সিলেট অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮৭৩ জন এবং মোট জনসংখ্যা ১,১০,৩৪,৮৬৩ জন। ধরন বিবেচনায় এ অঞ্চলটি নাতি বিরল বসতি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি জনসংখ্যার ঘনত্ব কম। সিলেট অঞ্চল প্রকৃতিগত ভাবে একটু দুর্গম। পাহাড় পর্বতে ঘেরা এ অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর থাকলেও বন্ধুর ভূপ্রকৃতি ও অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ অঞ্চলে কম বসতি গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলে রাস্তাঘাট ও শিল্পকারখানাও কম। এছাড়া এ অঞ্চলের মাটিও খুব বেশি কৃষি উপযোগী নয়। উন্নত জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে উঠেনি। তাই বলা যায় যে, ভৌগোলিক বিবেচনায় সিলেট অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব কম।
উদ্দীপকে 'খ' এবং 'গ' হলো যথাক্রমে ঢাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। নিচে ঢাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্য বিশ্লেষণ করা হলো-
ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক হওয়ার প্রভাববিস্তারকারী নিয়ামকগুলোর মধ্যে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, মৃত্তিকা, পানি, খনিজ, শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, উন্নত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মানুষ সাধারণত যেসব অঞ্চলে কৃষি, সমভাবাপন্ন জলবায়ু, উর্বর মৃত্তিকা এবং শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিবেশ, সুপেয় পানি, পরিবহন সুবিধা, আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা ও 1 উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে সেসব অঞ্চলে বসবাস করতে চায়। অর্থাৎ যেসব অঞ্চলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রভৃতি তুলনামূলকভাবে বেশি সে অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
অপরদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূপ্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে অত্যন্ত দুর্গম। পর্বতময়তার জন্য এখানে কৃষিকাজ হয় না। ভূমির বন্ধুরতার জন্য এখানে পরিবহন ব্যবস্থা অনুন্নত। উন্নত পরিবহন না থাকার কারণে এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র গড়ে উঠে নি। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। এছাড়া উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, শপিংমল প্রভৃতি না থাকার জন্য এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। তাই স্থায়িভাবে বসতি স্থাপনের জন্য এ অঞ্চলের গুরুত্ব কম।