| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
Psychology শব্দটি দুইটি গ্রিক শব্দ Psyche এবং Logos থেকে এসেছে ।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান হলো প্রাণীর বিশেষ করে মানুষের শিক্ষাসংক্রান্ত আচরণের বিজ্ঞান। এটি মনোবিজ্ঞানের এমন একটি ফলিত শাখা যাতে মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেগুলো সমাধানে মনোবিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ কিভাবে প্রয়োগ করা যায় সে সম্বন্ধে আলোচনা করে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষণের গতি-প্রকৃতি, ধরন, কলা-কৌশল শিক্ষণে পুরস্কার ও শাস্তির প্রভাব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য, প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায় । তাই শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অধ্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ।
চিত্রে 'A' চিহ্নিত স্থানটি হলো মানসিক প্রক্রিয়া, যা মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্যতম দিক। নিচে মানসিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো— মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক কার্যকলাপের প্রভাব অপরিসীম। মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতি প্রক্রিয়াকে বোঝায়। চল্লিশ লক্ষ টাকার লটারীর পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদ অথবা উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার খবর মানস জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভাব অনটন যেমন গরিবকে ভাবিয়ে তোলে, প্রাচুর্যের আতিশয্যও তেমনি ধনীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্লাসে প্রথম হবার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা, ছাত্র-ছাত্রীর চোখের ঘুম কেড়ে নেয়, আর নাওয়া খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে বিজ্ঞানী সদা ব্যস্ত থাকেন তাঁর নিত্যনতুন আবিষ্কারের সাধনায় । এমনি করে নিরন্তন চলছে মানসিক প্রক্রিয়ার কার্যকলাপ।
চিত্রে B, C ও D চিহ্নিত স্থানগুলো হলো যথাক্রমে সামগ্রিক ও খণ্ডিত আচরণ, ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ। এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো-
আচরণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়, যেমন- সামগ্রিক আচরণ ও খণ্ডিত আচরণ। সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয়। আর খণ্ডিত বা আণবিক আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে খণ্ড খণ্ড বা সূক্ষ্ম উপাদানে বিশ্লেষণ করা হয়। আচরণকে আবার ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণে ভাগ করা যায়।
যে-সব আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন— কথা বলা হাঁটা, খাওয়া ইত্যাদি। আবার কতকগুলো আচরণ আছে যেগুলো ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন— হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া, শ্বাস- প্রশ্বাস ইত্যাদি । আচরণকে আবার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণে ভাগ করা যায়। বাইরে থেকে যে সকল আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায় যেমন— কথা বলা, হাসা, গান গাওয়া প্রভৃতি বাহ্যিক আচরণ। আবার যেসব আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে । যেমন- মাথা ধরা, চিন্তা করা ইত্যাদি।