শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ক্ষমতা ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
ডায়াবেটিস রোগ অনিরাময়যোগ্য কিন্তু এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শমতো খাদ্য গ্রহণ করলে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে, রোগীর দেহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নিলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই বলা হয় সুশৃঙ্খল জীবন ব্যবস্থা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মহৌষধস্বরূপ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তথা স্পঞ্জ সদৃশ অঙ্গটি হলো ফুসফুস। নিচে চিত্রসহ এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো :
বক্ষগহ্বরের ভেতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুইটি ফুসফুস অবস্থিত। এটা স্পঞ্জের মতো নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। ডান ফুসফুস তিন খণ্ড এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজ বিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাস ক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না। ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ু প্রকোষ্ঠ, সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও ধমনি থাকে। সব সময় বাতাসে পূর্ণ থাকা বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা প্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ুথলির শাখা নালি দিয়ে সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করে। বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিক নালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। বায়ুথলির গঠন এরূপ যে এতে বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে উঠে ও পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। আবার বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এতই পাতলা যে, এর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
মানবদেহে 'O2' ও 'CO₂' এর ভারসাম্য রক্ষায় শ্বসনতন্ত্র এবং রক্তসংবহনতন্ত্র উভয় প্রক্রিয়াই ঘনিষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ফুসফুস ও রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃৎপিণ্ড এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে বাতাস তথা O₂ ফুসফুসের অ্যালভিওলিতে পৌঁছায়। অ্যালভিওলি থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O₂ ফুসফুসীয় শিরার রক্তে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এই O₂ হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে মিলিত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিনরূপে বাহিত হয় এবং হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছায়। এক্ষেত্রে O₂ যুক্ত রক্ত হেপাটিক ধমনির মাধ্যমে যকৃতে, মেসেনটেরিক ধমনির মাধ্যমে পাকস্থলীতে, বৃক্কীয় ধমনির মাধ্যমে বৃক্কে পৌঁছে থাকে। এ সকল অঙ্গে পৌঁছার পর অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে O₂ মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহের কোষকলায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এ সকল অঙ্গের কোষকলায় শ্বসন প্রক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন CO₂ রক্তের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন শিরার মাধ্যমে যেমন- বৃক্কীয় শিরা, হেপাটিক শিরা এবং শেষ পর্যায়ে মহাশিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। আর এখান থেকে CO₂ যুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায়। এখানেই রক্ত পরিশোধিত হয়।
তাই, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবদেহে 'O2' ও 'CO₂' এর ভারসাম্য রক্ষায় উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
