| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৫ – কৃষি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি বলে।
কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ, ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর জন্য এবং * উৎপাদিত ফসল কৃষকের বাড়িতে আনয়নের জন্য পরিবহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশে-বিদেশের বাজারে প্রেরণের জন্যই বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপন্ন হয়। তাই উৎপন্ন ক্ষেত্র ও বাজারের মধ্যে সুলভ ও সহজলভ্য পরিবহন ব্যবস্থার একান্ত প্রয়োজন। রপ্তানির জন্য সুলভ সমুদ্রপথের সুবিধা থাকায় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গম চাষের উন্নতি হয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' ফসলটি হলো ধান এবং উল্লিখিত দেশটি হলো চীন। নিচে চীনের ধান উৎপাদন বর্ণনা করা হলো:
ধান একটি প্রাচীন কৃষিজ পণ্য। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক লোকের প্রধান খাদ্য ভাত। পৃথিবীর সর্বত্রই ধানের চাষ হয়। তবে জনবহুল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলেই পৃথিবীর অধিকাংশ ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে।
ধান উৎপাদনে চীন বিশ্বে প্রথম। অনুকূল আবহাওয়া এবং ধান উৎপাদনের সকল নিয়ামক চীনের বিভিন্ন প্রদেশে পরিলক্ষিত হয় বলে চীনে ২ কোটি ৯৯ লক্ষ ২১ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। উৎপাদিত ধানের পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন, যা পৃথিবীর মোট ধান উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ।
চীনের ইয়াংসিকিয়াং নদীর অববাহিকা, হোয়াংহো নদীর উপত্যকা, ইউনান, কোচেচুয়ান ও কুইডো প্রদেশের নদী অববাহিকা, ক্যান্টন ও এর আশেপাশের এলাকা এবং উপকূলীয় এলাকা ও হাইনান দ্বীপে উল্লেখযোগ্য হারে ধান উৎপাদিত হয়। চীনের হুনান প্রদেশ ধান উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। হেক্টরপ্রতি এত অধিক ধান পৃথিবীর অন্য কোথাও উৎপন্ন হয় না বলে একে ধানের আধার বলা হয়।
উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' এ ইঙ্গিতকৃত ফসলটি হলো যথাক্রমে 'চা' ও 'আখ'। নিচে ফসল দুটির উৎপাদনে প্রাকৃতিক নিয়ামকের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
'চা ও 'আখ' চাষের প্রাকৃতিক নিয়ামকগুলোর মধ্যে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকা অন্যতম।
১. জলবায়ু : চা চাষের জন্য উষ্ণ অথচ আর্দ্র জলবায়ুর প্রয়োজন
হয়। ফলে অধিক উত্তাপ ও বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে চায়ের আবাদ ভালো হয়। সাধারণত ২০৩ থেকে ২৫৪ সেমি. বৃষ্টিপাত এবং ২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চা চাষ ভালো হয়। অন্যদিকে আখ ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। ফলে প্রচুর তাপ ও বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১২৫ হতে ১৭৫ সেমি. বৃষ্টিপাত এবং গড়ে ২৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রাযুক্ত অঞ্চলে আখের ফলন ভালো হয়।
২. ভূপ্রকৃতি : উচ্চভূমিতে পানি নিষ্কাশন দ্রুত হয় বলে পৃথিবীর অধিকাংশ চা বাগান উচ্চ ভূমিতেই অবস্থিত। কারণ চা গাছের গোড়ায় পানি জমলে তা সহজেই মরে যায়। অন্যদিকে সমতল ভূমিই আখ চাষের পক্ষে সহায়ক। তবে আখের জমি পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত হওয়া অতীব জরুরি।
৩. মৃত্তিকা : উর্বর লৌহ মিশ্রিত দোআঁশ মাটি চা চাষের বিশেষ উপযোগী। তবে সেইসাথে পরিমাণমতো নাইট্রোজেন, জিঙ্ক ও পটাশিয়াম সার প্রয়োগ করা দরকার। অপরদিকে, চুন ও পটাশজাতীয় পদার্থ মিশ্রিত দোআঁশ মৃত্তিকা আখ চাষের জন্য উৎকৃষ্ট। আখ চাষের ক্ষেত্রে মৃত্তিকায় অধিক পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকা আবশ্যক।