| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৫ – পৃথিবীর গঠন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
ভূপৃষ্ঠের অতি উচ্চ, সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
পর্বতের পাদদেশে যে মালভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
বৃষ্টির পানি, নদীর পানি, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা পর্বতগাত্র হতে নানাপ্রকার পদার্থ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়। এ সঞ্চিত পদার্থসমূহ ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে মালভূমির আকৃতি ধারণ করে। পর্বতের পাদদেশে এ মালভূমি গঠিত হয় বলে একে পাদদেশীয় মালভূমি বলে। যেমন: উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বিশাল কলোরাডো মালভূমি, দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া ইত্যাদি পাদদেশীয় মালভূমি।
উদ্দীপকের 'ক' স্তরটি হলো অশ্মমণ্ডল। নিচে অশ্মমণ্ডলের বিবরণ দেওয়া হলো:
পৃথিবীর উপরের কঠিন ও পাতলা শিলাস্তরকে অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক বলে। অশ্ম অর্থ শিলা তাই একে শিলামণ্ডলও বলা হয়। এর গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। এর গভীরতা ৩ কিলোমিটার (সমুদ্র তলদেশ) হতে ৪০ কিলোমিটার (পর্বতের তলদেশে)। তবে গড় গভীরতা প্রায় ২০ কিলোমিটার। এই স্তরের আপেক্ষিক গুরুত্ব ২ থেকে ৩ (অর্থাৎ পানির চেয়ে ২/৩ গুণ ভারি)। এ স্তরটি উপরে থাকায় অন্যস্তর দুটির তুলনায় এর তাপমাত্রা খুবই কম। তবে অশ্মমণ্ডলের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায়, অশ্মমণ্ডল দুটি স্তরে বিভক্ত। উপরের হালকা শিলা স্তরটিকে সিয়াল স্তর এবং নিচের ভারি শিলা স্তরটিকে সিমা স্তর বলা হয়।
উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' স্তরদ্বয় হলো যথাক্রমে গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। নিচে স্তরদ্বয়ের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-অশ্মমণ্ডলের নিচের স্তরটিকে গুরুমণ্ডল বলা হয়। অশ্মমণ্ডলের নিচ থেকে কেন্দ্রমণ্ডল পর্যন্ত চারদিকে এর বিস্তৃতি প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার। এই স্তরের আপেক্ষিক গুরুত্ব ৪ থেকে ৫ এবং ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৩,৫০০ কিলোগ্রাম থেকে ৮,০০০ কিলোগ্রাম। গুরুমণ্ডলের ১০০ কিলোমিটার গভীরতায় তাপমাত্রা ১,১০০০ ১,২০০° সেলসিয়াস। তবে এ মণ্ডলের নিম্নাংশের তাপমাত্রা প্রায় ৩,০০০° সেলসিয়াসের বেশি। এটি পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৮২.২৫ শতাংশ দখল করে আছে এবং এর ওজন পৃথিবীর মোট ওজনের প্রায় ৬৮ ভাগ। গুরুমণ্ডল প্রধানত ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম ও নিকেল দ্বারা গঠিত। গঠন উপাদানের ওপর ভিত্তি করে গুরুমণ্ডলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডল।
অন্যদিকে, পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার ব্যাসার্ধবিশিষ্ট গোলকটিকে কেন্দ্রমণ্ডল বলা হয়। গুরুমণ্ডলের নিম্নাংশ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। এ মণ্ডলের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১০ হতে ১৩.৬। কেন্দ্রমন্ডলের চাপ ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের চাপের চেয়ে ৩০ ৪০ গুণ বেশি এবং তাপমাত্রা স্থানভেদে ৩,০০০০ হতে ৫,০০০° সেলসিয়াস বা তারও বেশি। কেন্দ্রমণ্ডল, লোহা, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি দিয়ে গঠিত হলেও এ স্তরে নিকেল (Ni) ও লোহার (Fe) পরিমাণ বেশি থাকায় একে নাইফ (Ni + Fe → NiFe) বলা হয়। এ স্তরের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১০ থেকে ১২ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন। এ মন্ডলটি পৃথিবীর মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ১৬.২ ভাগ স্থান দখল করলেও এর ওজন পৃথিবীর মোট ওজনের শতকরা ৩১.৫ ভাগ। ভূকম্পন তরঙ্গের মাধ্যমে বোঝা যায় এই স্তরটি দুটি অংশে বিভক্ত। যথা: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের বিস্তৃতি প্রায় ২,২৭০ কিলোমিটার এবং অন্তঃকেন্দ্রমন্ডল পৃথিবীর কেন্দ্র হতে প্রায় ১,২১৬ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা রয়েছে।