| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৫ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক উইলহেম উন্ড।
স্বাভাবিকভাবে প্রাণী যা কিছু করে তাই আচরণ। অন্যভাবে বল যায় বাইরের পরিবেশ থেকে কোনো উদ্দীপক যখন আমাদের ইন্দ্রিয়ে আঘাত করে তখন আমরা ঐ উদ্দীপকের প্রতি একটি নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয় করি, এ প্রতিক্রিয়াই হলো আচরণ। আচরণকে বিভিন্নভাবে ভাগ কর যেতে পারে যার মধ্যে একটি ভাগ হলো সামগ্রিক আচরণ।
আচরণকে আমরা কখনো সামগ্রিকভাবে দেখে থাকি আবার কখনো বিচ্ছিন্নভাবেও দেখে থাকি। কোন আচরণকে যখন একটি পূর্ণাঙ্গ এককে বিশ্লেষণ করা হয়, তখন তাকে সামগ্রিক আচরণ বলা হয়। অপরদিকে সেই আচরণকে যখন খণ্ড খণ্ড আকারে বিশ্লেষণ করা হয় তখন আমরা তাকে খণ্ডিত আচরণ বলি। যেমন- নেতার ভাষণ একটি সামগ্রিক আচরণ। নেতার ভাষণকে যখন কথা বলা, ঠোঁটের অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া, তাকানো, হাত নাড়ানো প্রভৃতি খণ্ডে খন্ডে বিভক্ত করি তখন সেগুলো হবে খণ্ডিত আচরণ।
উদ্দীপকে প্রদত্ত A চিহ্নিত স্থানটি বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো বিষয় বিজ্ঞান হতে হলে অবশ্যই তার বিষয়বস্তু থাকতে হবে। শুধুমাত্র বিষয়বস্তু থাকলেই হবে না, বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর কতগুলি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যথা-
১. বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণযোগ্য হবে,
২. বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে গবেষকগণ একে অপরের সাথে ভাষার সাহায্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে,
৩. বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে প্রমাণযোগ্য হতে হবে।
মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হলো আচরণ। মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ খুব ভালোভাবেই পূর্ণ করে, আর সেজন্যই বিষয়বস্তুর দিক থেকে মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা যায়।
উদ্দীপকে প্রদত্ত C ও D চিহ্নিত স্থান দুটি যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োগশীলতাকে নির্দেশ করে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বোঝায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বহির্ভূত জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে না থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করার মনোভাব পোষণ করা। এতে তত্ত্ব ও তথ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানের থাকতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানীগণ পুরাতনকে বর্জন করে নিত্য নতুন তথ্য আহরণে সদা নিয়োজিত। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে মনোবিজ্ঞানকে আত্মা বা মনের বিজ্ঞান বলা হলেও বর্তমানে মনোবিজ্ঞানকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজ্ঞানের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রয়োগশীলতা। যে জিনিস বা বিষয়কে বাস্তবে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তাকে বিজ্ঞান বলা যায় না। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বা সূত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরী ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাই প্রয়োগশীলতার দিক থেকে মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, কোন বিষয় বিজ্ঞান হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পূরণ করতে হয়- বিষয়বস্তু, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োগশীলতা। এ চারটি বিষয়ের দিক থেকেই মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা যায়।