| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – অর্থনৈতিক রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
পোলারাইজার নামক যন্ত্রের মাধ্যমে আলোক রশ্মি প্রবাহিত করলে দেখা যায় যে, আগত রশ্মির তরঙ্গমালা কেবলমাত্র একটি তলে কম্পিত হয়। এই একটি মাত্র তলে কম্পনকারী আলোক তরঙ্গমালাকে তল সমবর্তিত আলো বলে।
দুটি অর্ধকোষের মধ্যে পরোক্ষ সংযোগ সাধনের জন্য ব্যবহৃত U আকৃতির বাঁকানো কাচনল, যা KCI, , বা এর সম্পৃক্ত দ্রবণ দিয়ে পূর্ণ থাকে তাকে লবণ সেতু বলে। লবণ সেতুর ভূমিকা-
i. লবণ সেতু অর্ধকোষদ্বয়ের উভয় দ্রবণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কোষের বর্তনী পূর্ণ করে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণের তড়িৎ-নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কাজ করে।
ii. লবণ সেতুর মধ্যস্থ তড়িৎবিশ্লেষ্য উভয় অর্ধকোষের দ্রবণের সাথে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না; বরং উভয় তরলের মধ্যে প্রয়োজনমত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন বিনিময়ের ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমরূপে কাজ করে।
iii. লবণ সেতুর অভাবে উভয় অর্ধকোষে জারণ-বিজারণ ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কোষ বিক্রিয়া তথা বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্দীপকের B দ্রব্যটি হলো কাগজ। আর কাগজ উৎপাদনে বর্তমানে পুনঃউৎপাদন থেকে পুনঃচক্রায়নে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর কারণ—
i.প্রথমত কাগজ তৈরি করতে হয় কাঠ হতে। এক টন খবরের কাগজ রিসাইক্লিং করলে প্রায় ১ টন কাঠ বেঁচে যায়, প্রিন্টেড কাগজ রিসাইক্লিং করলে দুই টন কাঠ সাশ্রয় হয়।
ii.কাগজ তৈরিতে পানিতে যে পরিমাণ দূষণ ঘটে কাগজ রিসাইক্লিং এ ততটা ঘটে না।
iii. কাঠ হতে কাগজ তৈরি করতে যে শক্তি/জ্বালানি খরচ হয় তার প্রায় ৪০-৬০% কম লাগে পুনঃচক্রায়ানে।
iv. জমি ভরাট করা হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
V.নতুন কাগজ উৎপাদনের তুলনায় কাগজ পুনঃচক্রায়ানে পানি দূষণ ৩৫% কম এবং বায়ু দূষণ ৭৪% কম ঘটে।
vi. ইউরোপে ব্যবহৃত কাগজের প্রায় ৬০% পুনঃচক্রায়িত কাগজ।
সুতরাং উপরোক্ত কারণেই বলা যায়, কাগজ পুনঃচক্রায়ান এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এটি পরিবেশ বান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী।
উদ্দীপকের A হলো ইউরিয়া শিল্প এবং C হলো সিমেন্ট শিল্প। এই শিল্প দুটির বিরূপ প্রভাব মানব জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ উক্তিটি যথার্থ। বিশ্লেষণ করা হলো।
ইউরিয়া শিল্পের প্রভাব: ইউরিয়া হচ্ছে অ্যামোনিয়ার যৌগ এবং ক্ষারধর্মী। তাই পানিতে পতিত হলে pH কাঙ্ক্ষিত মান থেকে অনেক বেড়ে যায়। এতে অনেক জলজ জীবের জীবনধারণ সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। আবার জমিতে প্রয়োগকৃত ইউরিয়া সার পানি দ্বারা বিয়োজিত হয়ে উপন্ন করে। উৎপন্ন অ্যামোনিয়া মাটির নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা জারিত হয়ে নাইট্রিক এসিডে পরিণত হয় যা মাটির ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট লবণ উৎপন্ন করে। মানবদেহে নাইট্রেট আয়ন প্রবেশ করলে Blue Baby Syndrome সহ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও ইউরিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটি, ফসলের গুণাগুণ এবং সর্বোপরি বাস্তুসংস্থানের ওপর বিরূপ প্রভাবের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত অতিরিক্ত ইউরিয়া বাষ্পীভবন, ডিনাইট্রিফিকেশন এবং leaching প্রক্রিয়ায় পরিবেশে অন্তর্ভূক্ত হয়। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানি ও ভূপৃষ্ঠীয় পানি দূষিত হয়ে পড়ে।
সিমেন্ট শিল্পের প্রভাব: সিমেন্ট কারখানায় ক্লিংকার তৈরিতে ঘূর্ণায়মান চুল্লিতে প্রচুর কয়লা অথবা প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো হয়। চুল্লির বর্জ্য গ্যাসে ও গ্যাস থাকে। এর সাথে CO গ্যাস ও নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ, বায়ুদূষকরূপে অবস্থান করে। এসব দূষক গ্যাস ও কঠিন রাসায়নিক বস্তুর সূক্ষ্ম কণাসমূহ মানুষের শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি করে। এছাড়া সালফার ও নাইট্রোজেনের অম্লধর্মী অক্সাইডসমূহ বাতাসের জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে ও উৎপন্ন করে, যা বৃষ্টির পানিতে মিশে এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে। এসিড বৃষ্টির প্রভাবে জমির pH এর মান কমে গিয়ে মাটি উর্বরতা হারায় এবং অনেক গাছ-পালা বিনষ্ট হয়। নদ-নদীর পানি ও হ্রদের পানির pH এর মান কমে গেলে মাছসহ জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে।
সুতরাং বলা যায়, ইউরিয়া ও সিমেন্ট শিল্পের প্রভাবে মানুষের শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতিকর রোগসহ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ইউরিয়া ও সিমেন্ট শিল্পের বিরূপ প্রভাব মানব জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।