| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৪ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
মধ্যকর্ণের অভ্যন্তরে জীবাণু অনুপ্রবেশের মাধ্যমে প্রদাহকে ওটিটিস মিডিয়া বলে।
হিমোগ্লোবিন হচ্ছে মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তের লোহিত কণিকায় এবং অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্লাজমায় (রক্তরস) বিস্তৃত লাল বর্ণের প্রোটিনধর্মী অক্সিজেনবাহী শ্বাসরঞ্জক । লোহিত রক্তকণিকার প্রধান প্রোটিন হচ্ছে হিমোগ্লোবিন । বর্ণের জন্যই লোহিত কণিকা লাল দেখায় এবং লোহিত কণিকার সংখ্যাধিক্যের কারণে রক্ত লাল দেখায় । হিমোগ্লোবিন শ্বসন গ্যাস অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা পালন করে, কিছু পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডও বহন করে । চারটি একক নিয়ে গঠিত হিমোগ্লোবিন একটি গোল অণু । এর প্রতিটি একক পলিপেপটাইড জাতীয় প্রোটিন গ্লোবিন (globin) এবং লৌহগঠিত হিম (heme) নিয়ে গঠিত । রক্তে হিম ও গ্লোবিন ১৪:২৫ অনুপাতে উপস্থিত থাকে । হিমের ৩৩.৩৩% লৌহ (Fe)। পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমগ্র রক্তে মাত্র ৪-৫ গ্রাম লৌহ থাকে ।
উদ্দীপকে ‘S’ হলো শিরা যা CO2 যুক্ত রক্ত দেহ থেকে হৃদপিন্ডে নিয়ে যায় এবং ‘T’ হলো ধমনি যা O2 যুক্ত রক্ত হৃদপিন্ড হতে সারা দেহে নিয়ে আসে। নিচে এদের পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
|
বিষয় |
শিরা |
ধমনি |
|
উৎপত্তি ও সমাপ্তি |
কৈশিক জালিকা থেকে উৎপন্ন হয়ে হৃদপিন্ডে সমাপ্ত হয়। |
হৃদপিন্ড হতে উৎপন্ন হয়ে দেহের কৈশিক জালিকায় সমাপ্ত হয়। |
|
রক্তপ্রবাহের দিক |
দেহ থেকে হৃদপিন্ডের দিকে পরিবহন করে। |
হৃদপিন্ড থেকে দেহের দিকে পরিবহন করে। |
|
পরিবহন |
CO2 যুক্ত রক্ত পরিবহন করে। |
O2 যুক্ত রক্ত পরিবহন করে। |
|
রক্তের প্রকৃতি |
CO2 যুক্ত রক্ত হওয়ায় রক্ত কালচে বর্ণের হয়। |
O2 যুক্ত রক্ত হওয়ায় রক্ত উজ্জ্বল লাল বর্ণের হয়। |
|
প্রাচীর |
কম পুরু ও অস্থিতিস্থাপক। |
বেশ পুরু ও স্থিতিস্থাপক। |
|
লুমেন |
লুমেন বা গহ্বর বেশ বড়। |
লুমেন বা গহ্বর ছোট। |
|
কপাটিকা |
কপাটিকা বিদ্যমান। |
কপাটিকা থাকে না। |
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অঙ্গটি হলো ফুসফুস।
শ্বসনতন্ত্রের কার্যাবলি হলো নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাস। প্রশ্বাস-নিশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ শ্বাসকেন্দ্র দ্বারা, প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দ্বারা ও অন্যান্য স্নায়বিক উদ্দীপনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মস্তিষ্কে বিদ্যমান পনসের পার্শ্বে অবস্থিত নিউমোট্যাক্সিক ও অ্যানিউস্টিক স্নায়ুকেন্দ্রদ্বয় ও মেডুলার পার্শ্বে অবস্থিত প্রশ্বাসকেন্দ্র ও নিশ্বাস কেন্দ্র এ চারটি স্নায়ুকেন্দ্র থেকে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। রক্তে CO₂ এর উপস্থিতিতে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র উদ্দীপ্ত হয়, ফলে এই উদ্দীপনা প্রশ্বাস কেন্দ্র হতে নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্রেও প্রেরিত হয়। ফুসফুসের বায়ুস্ফীতির উদ্দীপনা অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে পৌঁছালে উহা প্রশমিত হয়ে প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়। একই সময়ে নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্র হতে স্নায়ু উদ্দীপনা নিঃশ্বাস কেন্দ্রে পৌছালে নিঃশ্বাস ক্রিয়া শুরু হয়। নিঃশ্বাস চলাকালে ফুসফুসের সংকোচনজনিত উদ্দীপনায় অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র উদ্দীপিত হয়ে পূর্বোক্ত প্রক্রিয়াটির বিপরীত ক্রিয়ার ফলে প্রশ্বাস ক্রিয়া শুরু হয় এবং এই চক্র একইভাবে চলতে থাকে। অন্যদিকে শ্বসনতন্ত্রের ফুসফুসের প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে হেরিং ব্রেয়ার প্রতিবর্ত ক্রিয়া চলতে থাকে। এ ক্রিয়ার ফলে অলফ্যাক্টরি স্নায়ুর মাধ্যমে হাঁচি, ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে কাশি এবং গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ুর মাধ্যমে গলবিলীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে শ্বসন প্রভাবিত হয়। সেরিব্রাল কর্টেক্সের যেসব কেন্দ্র কথা বলা, ঘ্রাণ গ্রহণ, খাদ্য চর্বন ও গলাধঃকরণের সাথে জড়িত সেগুলো অনেক সময় শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, ফুসফুসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াটি শ্বসনের সাথে সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন কেন্দ্র দ্বারা ও প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে।