| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঢাকা শহরে একটি…’ বরিশাল বোর্ড ২০২২ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

ঢাকা শহরে একটি জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জ্বর হলে সমস্ত শরীরে বিশেষ করে মেরুদণ্ডে এবং কোমরে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। রক্তে অনুচক্রিকা কমে যায়। আবার পাহাড়ি অঞ্চলে আরেকটি জ্বরের প্রকোপ বেশি। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
ব্যাকটেরিয়া হলো জড় কোষপ্রাচীর বিশিষ্ট, এককোষী, আণুবীক্ষণিক, আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
পোষক দেহে কোনো রোগের জীবাণু প্রবেশের সময় থেকে সেই পোষকের দেহে উক্ত রোগের লক্ষণ প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত সময়কে রোগের সুপ্তাবস্থাকাল বলে। যেমন : ম্যালেরিয়া জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করার সাথে সাথে মানবদেহে জ্বরের লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করার কিছুদিন পর ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ম্যালেরিয়া জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করার সময় থেকে মানুষে ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণগুলো প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত সময়কে ম্যালেরিয়া রোগের সুপ্তাবস্থাকাল বা সুপ্তিকাল বলে। কোনো রোগের জন্য সুপ্তিকাল সাধারণভাবে নির্দিষ্ট।
উদ্দীপকে আছে, জ্বর এর কারনে সমস্ত শরীরে বিশেষ করে মেরুদন্ডে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।রক্তে অনুচক্রিকার সংখ্যা করে যায়। অর্থাৎ এটি ডেঙ্গু জ্বর। ফ্ল্যাভিভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এ জ্বর হয়।
ভাইরাস হলো রোগ সৃষ্টিকারী, অতি আণুবীক্ষণিক, অকোষীয় বাধ্যতামূলক পরজীবী। ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১। ভাইরাসের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া এসব নেই।
২। এদের নিজস্ব কোনো বিপাকীয় এনজাইম নেই।
৩। ভাইরাস জীবকোষের সাহায্য ছাড়া স্বাধীনভাবে প্রজননক্ষম নয়।
৪। ব্যাকটেরিয়ারোধক ফিল্টারে ভাইরাস ফিল্টারযোগ্য নয়।
৫। ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায়, তলানিকরণ করা যায়।
৬। জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার মতো নিষ্ক্রিয়।
৭। ভাইরাসের দৈহিক বৃদ্ধি নেই।
৮। পোষক কোষের অভ্যন্তরে ভাইরাস সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
৯। ভাইরাসের দেহ জেনেটিক বস্তু DNA বা RNA এবং প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
১০। ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী।
১১। ভাইরাস পরিব্যক্তি ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে পারে।
১২। এদের অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে।
১৩। এদের জিনগত পুনর্বিন্যাস ঘটতে দেখা যায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় ধরনের জ্বরে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে, রক্তশুণ্যতা দেখা যায় অর্থাৎ এটি ম্যালেরিয়া।
Plasmodium malarae অণুজীব এর জন্য দায়ী।এদের জীবন চক্রে জনুক্রম বিদ্যমান - নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
কোনো জীবের জীবন চক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে। ম্যালেরিয়ার জীবন চক্রে জনুক্রম ঘটে।
হ্যাপ্লয়েড (n) দস্পোরোজয়েট দশা (n): মশকীর দেহে স্পোরোগনির ফলে সৃষ্টি হয় স্পোরোজয়েট দশা। এই স্পোরোজয়েটবাহী মশকী মানুষকে দংশন করার সময় লালা নিঃসরণ করে। এ লালার সাথে জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট (n): স্পোরোজয়েট মানুষের যকৃতকে আক্রমণ করে সেখানে হেপাটিক সাইজোগনি চক্র সম্পন্ন করে। হেপাটিক সাইজোগনির ফলে সৃষ্টি হয় মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট। মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট মানুষের লোহিত রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্র সম্পন্ন করে। এর ফলে সৃষ্টি হয় মাইক্রোগ্যামিটোসাইট ও ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট।
ডিপ্লয়েড (2n) দশা
জাইগোট দশা (2n): মশকীর দেহে গ্যামিটোগনির ফলে সৃষ্টি হয় স্ত্রী গ্যামিট ও পুং গ্যামিট। স্ত্রী ও পুং গ্যামিটের মিলনের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
উওকিনেট (2n): জাইগোট রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি করে উওকিনেট । উওকিনেট উওসিস্ট এ পরিণত হয়। ডিপ্লয়েড উওসিস্ট মায়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড স্পোরোজয়েট সৃষ্টি করে। এ হ্যাপ্লয়েড স্পোরোজয়েট দশা মশকীর লালার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবন চক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশা পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। সুতরাং ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবন চক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান।