| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঢাকায় অবস্থিত বোটানিক্যাল…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

ঢাকায় অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সুন্দরী গাছ দেখতে পেল। শিক্ষক তাদেরকে জানালেন, এটা এক ধরনের সংরক্ষণ পদ্ধতি। তিনি আরও বললেন, জীব সম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
প্রজাতি হলো সর্বাধিক বৈশিষ্ট্যের মিল সম্পন্ন একদল জীব, যাদের মধ্যে যৌন মিলনে উর্বর বংশধর উৎপন্ন হয়।
বিভিন্ন ইকোসিস্টেমের খাদ্যশৃঙ্খলের বিন্যাস সম্পর্কিত পিরামিড আকৃতির নকশাকে ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে। এক্ষেত্রে উৎপাদক, প্রাইমারি খাদক, সেকেন্ডারি খাদক, টারসিয়ারি খাদকদেরকে পর্যায়ক্রমে পিরামিড আকৃতিতে সাজানো হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো এক্স-সিট্যু সংরক্ষণ পদ্ধতি। প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা জীবের মূল বাসস্থান থেকে অপসারিত করে মানুষের নিয়ন্ত্রিত কোনো পরিবেশে জীবন্ত সংরক্ষণ করাকে এক্স-সিট্যু সংরক্ষণ বলে। এক্স-সিট্যু সংরক্ষণ বিভিন্নভাবে করা যায়।
i. উদ্ভিদ উদ্যান: উদ্ভিদ উদ্যান এমন একটি এলাকা যেখানে সীমিত পরিসরে পরিকল্পনা মোতাবেক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। সংরক্ষণ করা হয়, পাশাপাশি বিনোদন, শিক্ষা ও গবেষণা হয়ে থাকে। যেমন- বলধা গার্ডেন।
ii. বীজব্যাংক বা জিন ব্যাংক: আবৃতবীজী উদ্ভিদের অধিকাংশ (৭০%) প্রজাতির বীজ শুকিয়ে-২০° সে. তাপমাত্রায় শত শত বছর সংরক্ষণ করা যায়।
iii. মাঠের জিন ব্যাংক: যেসব বীজে (৩০% সপুষ্পক) অধিক আর্দ্রতা বজায় না থাকলে বীজ নষ্ট হয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে মাঠে উদ্ভিদ জীবন্ত অবস্থায় সংক্ষণ করা হয়।
iv. চিড়িয়াখানা: চিড়িয়াখানা এমন একটি স্থাপনা যেখানে জীবন্ত বন্য প্রাণী খাচায় বন্দী করে রেখে সেখানে বিনোদন, গবেষণা, প্রজনেনের ব্যবস্থা করা হয়। এটা জাতীয় পর্যায়ে বৃহৎ পরিসরে আবার ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে ওঠে। যেমন-মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা।
v. নিম্নতাপমাত্রায় সংরক্ষণ: অঙ্গজ বংশবিস্তারি সক্ষম অনেক ফসলের অঙ্গজ অংশ যেমন- বাল্ব, রাইজোম, টিউবার, করম, কাটিং সাধারণত স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এবং দ্রুত বিনষ্ট হয়ে যায়, যদি না এদের উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করা যায়। ৯০% আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং ৪-৫° সে. তাপমাত্রায় আলুকে (৫-৭ মাস (হিমাগারে) সংরক্ষণ করা যায়।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে বলা হয়েছে "জীব সম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে"
জীবসম্প্রদায় সংরক্ষণের গুরত্ব বা প্রয়োজনীয়তা অনেক। বিভিন্ন কারণে জীবসম্প্রদায় আজ ধ্বংসের সম্মুখীন। মানুষের কর্মকাণ্ডই এর মধ্যে প্রধান। বন ধ্বংস ও জলাশয় ভরাট করে কৃষি জমি সম্প্রসারণ, অধিক ফলনের জন্য রাসায়নিক সার, আগাছানাশক, ছত্রাকনাশক প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্যের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নগরায়ন, শিল্পায়ন ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অধিক হারে বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক বনভূমি ও জলাভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। প্রাণিকুল তার খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সরাসরি উদ্ভিদকুলের উপর নির্ভরশীল থাকায় বনভূমি ও জলভূমি হ্রাসের সাথে সাথে বহু প্রাণী প্রজাতিও ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা বিপন্ন অবস্থায় আছে। জীব প্রজাতি দ্রুত হ্রাসের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু। ঝড়, টর্নেডো, হ্যারিকেন, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। এসব কারণে মানুষের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। প্রকৃতিতে জীবসম্প্রদায় সঠিকভাবে সংরক্ষিত না হলে বাস্তুতন্ত্রের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ হারাবে তার ভারসাম্যতা। তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই জীবসম্প্রদায় সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
এক কথায় বলা যায়, 'জীবসম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব । অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে'-বাক্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।