| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ফিরোজ…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ তার চাচা ও চাচাতো ভাইদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় প্রাণ হারানোর ভয়ে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী সায়মা স্বামীর এই দুরবস্থায় সব সময় সঙ্গে সঙ্গে থাকেন। শোকে-যন্ত্রণায় কাতর ফিরোজ বছর দুই পরেই মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে সায়মা তার স্মৃতি নিয়ে একাকী জীবন কাটান। ফিরোজ আহমেদের চাচাতো ভাই ফরিদ সায়মাকে বিয়ে করার অনেক চেষ্টা করেও বিফল হন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
নন্দকুমারকে ঘুষ খাইয়ে চন্দন নগর ধ্বংস করা হয়েছে।
“সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ এ উক্তিটি করেছেন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করে বাংলার সিংহাসন করায়ত্ত করতে চায় বিশ্বাসঘাতকের দল। তাই নিজ নিজ সংকীর্ণ স্বার্থকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য তারা ইংরেজদের সাথে একটি ঘৃণ্য চুক্তি করে। এ ঘটনার মাধ্যমেই পাক-ভারত উপমহাদেশে ইংরেজদের দীর্ঘ শাসনের বীজ রোপিত হয়। চুক্তিপত্রে একেক করে জগৎশেঠ, মিরজাফর, রাজবল্লভ সবাই স্বাক্ষর দেয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলার পরাধীনতার পথ সুগম হয়। এ সনদই শত্রুদের বিজয় নিশ্চিত করে ১৭৫৭ সালে ২৩শে জুন ঐতিহাসিক পলাশির প্রান্তরে। যা পাক-ভারতকে সুদীর্ঘ পরাধীনতার জালে আবদ্ধ করে । উক্তিটি এ ইঙ্গিত বহন করে ।
ঘসেটি বেগম তার বোন আমেনা বেগমকে সাপিনী বলেছেন । খ সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন নম্বর ৩৩-খ দেখো ৷
গ সহধর্মিণী হিসেবে স্বামীর পাশে থাকার দিক থেকে উদ্দীপকের মাধবী ও ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের লুৎফার মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় । ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের লুৎফুন্নেসা নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী । নবাবের সাথে বিয়ে হলেও তাঁর জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর স্বামীর হাত ধরে তিনি অজানা গন্তব্যে পাড়ি জমান। পথিমধ্যে তাঁরা ধরা পড়লে স্বামীর কাছ থেকে তিনি আলাদা হয়ে যান এবং সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয় ।
উদ্দীপকের উত্তম দেবনাথ একজন ধনী লোক কিন্তু চাচতো ভাইয়ের ষড়যন্ত্রে তিনি সবকিছুই হারিয়েছেন। ভাইকে বিশ্বাস করে ঠকার পর বর্তমানে তিনি পুলিশের ভয়ে চোরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে তার সাথে আছে তার স্ত্রী মাধবী । নিজে কষ্ট স্বীকার করেও স্বামীর এই দুরবস্থায় সে তার পাশে থাকছে। সহধর্মিণী হিসেবে যেকোনো বিপদে স্বামীর পাশে থাকার দিক থেকে উদ্দীপকের মাধবী ও ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের লুৎফার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
“উদ্দীপকের উত্তম দেবনাথ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবের দুরবস্থার কারণ ষড়যন্ত্র।”— মন্তব্যটি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায় ইংরেজরা এ দেশে বাণিজ্য করতে এসে নবাবের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বরখেলাপ করতে থাকে। নবাব কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের কোণঠাসা করে দিলে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে চলতে থাকা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের সাহায্য নেয়। এই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম ছিল ঘসেটি বেগম, মিরজাফর, উমিচাঁদসহ আরও অনেকে। তাদের ষড়যন্ত্রের কারণেই পলাশির যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সেনা ও সক্ষমতা থাকার পরেও সিরাজউদ্দৌলা পরাজয় বরণ করেন।
উদ্দীপকের ধনকুবের উত্তম দেবনাথ তার চাচাতো ভাইয়ের খপ্পরে পড়ে সব সম্পত্তি হারিয়ে ফেলেন। এখন তাকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে বেড়াতে হয়। এই দুঃসময়ে তার স্ত্রী মাধবী তার পাশে থাকে। নিজের কষ্ট ও অহংকার সব বিসর্জন দিয়ে সে স্বামীর পাশে দাঁড়ায়।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা নানাবিধ ষড়যন্ত্রের শিকার। ইংরেজরা কোনোভাবেই সফল হতে না পেরে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য নেয়। ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয়। উদ্দীপকের উত্তম কুমারের অবস্থাও ষড়যন্ত্রকারীদের খপ্পরে পড়ে শোচনীয় হয়ে পড়ে। সবদিক বিবেচনায় তাই বলা যায় প্রশ্নোত্তর মন্তব্যটি যথার্থ ।