| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ধন-রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – জীবন ও বৃক্ষ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ধন-রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই,
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই।
‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি।
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৪
➤ 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'তপোবনপ্রেমিক' বলা হয়েছে।
➤ "সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস।"- উক্তিটিতে যে সাধনায় প্রাপ্তি নেই সেই সাধনার কোনো সার্থকতা থাকে না- লেখক এখানে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন।
➤ সাগরে নদীর পতিত হওয়াকে লেখক আত্মবিসর্জন বলেছেন। এ ঘটনার মধ্যে কোনো প্রাপ্তি নেই। কিন্তু বৃক্ষের প্রাপ্তি চোখের সামনে দেখা যায়। ফলধারণের মাধ্যমেই বৃক্ষের প্রাপ্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেখকের মতে যে সাধনায় প্রাপ্তি নেই সেই সাধনা অর্থহীন। প্রাপ্তিতেই মূলত সাধনার সার্থকতা। তাই লেখক বলেছেন, সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস।
সারকথা: যে সাধনায় প্রাপ্তি নেই সেই সাধনা অর্থহীন। প্রাপ্তিতেই মূলত সাধনার সার্থকতা।
➤ পরার্থে আত্মনিবেদিত হওয়ার বিষয়টিই হলো উদ্দীপক এবং 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের সাদৃশ্যের দিক।
➤ পৃথিবীতে যাঁরা মহৎ ব্যক্তি তাঁরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত না থেকে পরের কল্যাণে কাজ করেছেন। মানুষের কল্যাণে তাঁরা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করেন। কারণ সেবাই হচ্ছে মানুষের পরম ধর্ম।
➤ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পরের উপকারের মাঝেই সুখ নিহিত আছে। ধন-রত্নের মাঝে কোনো সুখ নেই। নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে পরার্থে আত্মনিবেদিত হওয়ার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ। 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, পরার্থে আত্মনিবেদিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জীবন সার্থক ও সুখময় হয়ে ওঠে। আর আত্মনিবেদনের এই শিক্ষা আমাদের বৃক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে। প্রাবন্ধিকের মতে বৃক্ষের মতো নিজের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দিলেই জীবন সার্থক হয়ে উঠবে। অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার দিকটিই উদ্দীপক ও 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের সাদৃশ্যের দিক।
সারকথা: পরার্থে আত্মনিবেদিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ 'পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি'- এ উক্তিতে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে- উক্তিটি যথার্থ।
➤ ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকার মাঝে মানবজীবনের সার্থকতা নেই। জীবনের প্রকৃত সার্থকতার জন্য নিজেকে অন্যের উপকারে নিয়োজিত করতে হবে। তবেই মানবজীবন পাবে প্রকৃত সুখের সন্ধান।
➤ 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মানবজীবনকে পরার্থে নিবেদিত হওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। পরের কল্যাণে কাজ করার জন্য লেখক মানুষের জীবনকে বৃক্ষের আদর্শে গড়ে তুলতে বলেছেন। এই মহৎ প্রত্যাশা থেকেই লেখক মানুষের জীবন কাঠামোকে বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করেছেন। নিজেকে বিকশিত ও পরিপূর্ণ করে তা পরের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিজের স্বার্থ বড় করে না দেখে পরের কল্যাণ চিন্তা করার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ। অন্যের উপকারে নিজেকে নিবেদিত করেই জীবন পায় সার্থকতা।
➤ 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মানবজীবনের সার্থকতার জন্য নিজেকে পরিপূর্ণ করে পরের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্দীপকের চরণটিতেও পরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের উক্তিতে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
সারকথা: পরোপকারের মাঝে জীবনের সার্থকতা খোঁজার চেতনাটি উদ্দীপকের উক্তিটিতে প্রকাশ পেয়েছে, যা 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূলভাবকে প্রতিফলিত করে।