A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘ধর্ম ও সমাজসংস্কারক…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ গদ্য🧩 অধ্যায় ৭ম অধ্যায় — বিলাসী🔢 সৃজনশীল নং ২১🏫 বোর্ড দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল ২০২৫⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

ধর্ম ও সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে বলা হয় ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ। রামমোহনের সমকালীন সমাজে গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের জন্য তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে। এতে নারীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত দাহ করার অমানবিক প্রথার, অবসান ঘটে।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ৭

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

"আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।"-মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে ন্যাড়া আলোচ্য মন্তব্যটি করেছে।
'বিলাসী' গল্পে বিষহরি হলেন দেবী মনসা, দোহাই হলো তার নামে পড়া মন্ত্র। বেদে সম্প্রদায় সরল গ্রাম্য জনগোষ্ঠীর কাছে দেবী মনসার নামে মন্ত্র পড়ে বিষাক্ত সাপের বিষ ঝাড়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়। ন্যাড়া সেই কথা বিশ্বাস করে নিয়েছিল। কিন্তু শত মন্ত্র পড়েও সাপে-কাটা মৃত্যুঞ্জয়ের যখন সুস্থ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিল না, তখন মনসা দেবীর সেই মন্ত্রের ওপর থেকে ন্যাড়ার বিশ্বাস উঠে যায়।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও বর্ণপ্রথার ঘৃণ্য প্রচলনের দিক থেকে উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কার, বর্ণপ্রথাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। দুজন নর-নারীর প্রেমের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা, জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের রাজা রামমোহন রায় তাঁর সমকালে প্রচলিত সমাজের গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথাকে তীব্র ভাষায় শ্লেষ করেছেন। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি এসব কুপ্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। 'বিলাসী' গল্পেও তৎকালীন সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, গোঁড়ামি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বর্ণপ্রথার নির্মম রূপ প্রকাশ পেয়েছে। এদিক থেকে উভয় সমাজে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

পরিণতির দিক বিবেচনায় "রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনষ্ক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের এমন করুণ পরিণতি হতো না" মন্তব্যটি যথার্থ।

'বিলাসী' গল্পে বর্ণিত হয়েছে সামাজিক কুসংস্কার, বর্ণ ও জাতিভেদ প্রথার দরুন মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর করুণ পরিণতি। নিচু জাতের মেয়ে বিলাসীর হাতের রাঁধা ভাত খেয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভঙ্গ হয়েছে বলে সমাজের লোকজন বিলাসীকে মেরে তাড়িয়ে দেয়।

উদ্দীপকে রাজা রামমোহন রায় তৎকালীন সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। একটি বিজ্ঞানমনস্ক মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান অন্তরায় এ ধরনের অন্ধবিশ্বাস ও কুপ্রথা। তাই তিনি সমাজ থেকে এগুলো উচ্ছেদের আন্দোলন গড়ে তোলেন। রামমোহন রায়ের কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠলে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভেদ প্রথার শিকার হতে হতো না। তাদের পরিণতি হয়তো অন্যরকম হতে পারত।

'বিলাসী' গল্পের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নিচু জাতের হাতে রাঁধা ভাত খেলেই জাতভঙ্গ ও অন্নপাপের কুসংস্কার লেপ্টে দেওয়া হতো। এ জাতভঙ্গের ব্যাপারে সমাজের লোকজন নারীর প্রতি সহিংস হতেও দুবার ভাবেনি। শেষে মৃত্যুঞ্জয় নিজের পিতৃ জাত বিসর্জন দিয়ে শ্বশুরের সাপুড়ে বৃত্তি গ্রহণ করে। উদ্দীপকের রাজা রামমোহন রায়ের কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞানমনস্ক সমাজব্যবস্থা চালু হলে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে নিয়ে পিতৃভিটায় বৃহৎ আমবাগান বন্ধক দিয়ে দিব্যি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারত। সাপের দংশনে অকালে তাকে প্রাণ দিতে হতো না। হয়তো বিলাসীও স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করত না। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘ধর্ম ও সমাজসংস্কারক…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”