| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ধর্মব্যবসায়ীরা আধ্যাত্মিক শক্তির…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ধর্মব্যবসায়ীরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করে এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গও তাদের অধীন হয়ে যায়। শোষণের সুবিধার্থে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ বাতাসহীন নিস্তব্ধ গুমোট আবহাওয়া।
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ"- কথাটি দ্বারা মহব্বতনগর গ্রামবাসী মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই সহজ, সরল এবং মাজার ও মজিদকে ভয় পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা স্বভাবে ধর্মভীরু, স্বামীভক্ত, কুসংস্কারে বিশ্বাসী এবং সহজ-সরল। রহিমার এই ভীতিবিহ্বল স্বভাব স্বত মজিদের কর্মকাণ্ডের অনুকূল। রহিমা নিজে মাজার সম্পর্কে যেমন বিশ্বাস করে, তেমনই সে অন্যকেও বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করে। রহিমার মতো মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা সহজ-সরল, ধর্মভীরু। ফলে তারাও রহিমার মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামবাসীর ওপর মজিদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ একজন ভন্ড, প্রতারক ও ধর্মব্যবসায়ী। সে ধর্মের নামে মহব্বতনগর গ্রামে নানা কুসংস্কার ছড়ায়। নিজের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য সে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি খালেক ব্যাপরীকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
উদ্দীপকে ধর্মব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কূটকৌশলী হয়ে নিজেদের শোষণের সুবিধার্থে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গকেও হাত করে নেয়। একসময় তারা জোটবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদও নাটকীয়ভাবে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে একটি পুরানো কবরকে তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজার সাজিয়ে ধর্মব্যবসায় শুরু করে। অল্পদিনের মধ্যেই সে ওই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি খালেক ব্যাপারীকে হাতে নিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং একাধিক বিয়ে করে। খালেক ব্যাপারী মজিদের সব কাজেই সমর্থন দেয়। আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে মজিদ গ্রামে পাকা মসজিদ করার কথা বললে খালেক ব্যাপারী তাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই নিজের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও অধীন করার দিকটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে “ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি স্বার্থ হাসিল করে" মন্তব্যটি যথার্থ।
লালসালু' উপন্যাসে মজিদ নামের এক ব্যক্তির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই উঠে এসেছে। তবে তার অস্তিত্ব রক্ষার পথটি নেতিবাচক। সে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গোছায়।
লালসালু' উপন্যাসে মজিদ একজন ধর্মব্যবসায়ী, প্রতারক। সে মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি পুরানো কবরকে তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজার আখ্যা দিয়ে ধর্মব্যবসায় শুরু করে। নিজের সুবিধার্থে সে মহব্বতনগর গ্রামের প্রভাবশালী খালেক ব্যাপারীকে সঙ্গে নেয়। গ্রামের সব রকম সালিশ-বিচারের সিদ্ধান্তে বাইরের কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে সাহস পায় না। এর মূল কারণ গ্রামবাসীর অজ্ঞতা ও কুসংস্কারে বিশ্বাস এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া। উদ্দীপকে এ বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামবাসীর ধর্মান্ধতার সুযোগেই মজিদ নারীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, অসম বিয়ে এবং মনগড়া উদ্ভট চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করে এবং আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। মজিদের কূটকৌশলের কাছে আক্কাস টিকতে পারে না। উদ্দীপকেও এরূপ ধর্মব্যবসায়ীর কথা বলা হয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। ধর্মব্যবসায়ীদের এরূপ নেতিবাচক আচরণ উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে যা সহজেই উপলব্ধি করা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।