| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ডিম –> নিম্ফ…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ডিম –> নিম্ফ –> পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
যখন প্রাণীদেহের প্রকৃত সিলোমটি প্রবাহমান তরল পূর্ণ (রক্ত) থাকে, তখন হিমোসিল বলে। যেমন: আর্থ্রোপোডা পর্বের দেহগহ্বর।
পতঙ্গের ভ্রণ যখন কয়েকটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ দশা প্রাপ্ত হয় তখন এ ধরনের ভ্রণোত্তর পরিস্ফুটনকে রূপান্তর বলে। রুপান্তর দু'ধরনের। যথা- অসম্পূর্ণ রূপান্তর ও সম্পূর্ণ রূপান্তর। যে রূপান্তরে একটি পতঙ্গ ডিম ফুটে বেরিয়ে কয়েকটি নিম্ফ দশা অতিক্রমের পর পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয় তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে। যে রূপান্তরে শিশু প্রাণী ও পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মধ্যে কোনো আঙ্গিক মিল থাকে না এবং ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশু প্রাণী পূর্ণাঙ্গ অবস্থাপ্রাপ্ত হয় তাকে সম্পূর্ণ রূপান্তর বলে ।
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িং-এর নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য নিষ্কাশিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো রেচন প্রক্রিয়া। নিচে ঘাসফড়িং-এর রেচন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
ঘাসফড়িং এর প্রধান রেচন অঙ্গ মালপিজিয়ান নালিকা। আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জা পদার্থ নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে রেচন বলে। মালপিজিয়ান নালিকা ছাড়াও কিছু মেদপুঞ্জের কিছু কোষ এবং কাইটিন অতিরিক্ত রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। পৌস্টিকনালির মধ্যান্ত্র ও পশ্চাদযন্ত্রের সংযোগস্থলে অসংখ্য সুতার মতো মালপিজিয়ান নালিকা হিমোসিলে বিস্তৃত থাকে। এই নালিকার গোড়ার অংশ নিঃসরণ বা ক্ষরণের জন্য এবং প্রান্তীয় অংশ শোষণের জন্য অভিযোজিত ৷ এ নালিকার বদ্ধ প্রান্তীয় অংশ দ্বারা হিমোসিলের হিমোলিম্ফ থেকে পটাসিয়াম ইউরেট, পানি ও CO2 শোষিত হয়। নালিকার অভ্যন্তরে এগুলো পরিবর্তিত হয়ে পটাসিয়াম বাই কার্বনেট ও ইউরিক এসিডে পরিণত হয়। নালিকার গোড়ার অংশ দ্বারা পটাসিয়াম বাই কার্বনেট ও কিছু পানি পুনঃশোষিত হয়ে হিমোলিম্ফে ফিরে আসে। রেচন বর্জ্যরূপে ইউরিক এসিড পানির সাথে পৌস্টিকনালির গহ্বরে প্রবেশ করে। পশ্চাৎ অন্তের মলাশয়ে অধিকাংশ পানি পুনঃশোষিত হয় এবং প্রায় শক্ত ইউরিক এসিড মলের সাথে দেহ হতে নিষ্কাশিত হয়।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রটি দ্বারা ঘাসফড়িং-এর রূপান্তর প্রক্রিয়াকে দেখানো হয়েছে। নিচে রেখাচিত্রটি বিশ্লেষণ করা হলো-
ঘাসফড়িং-এর রূপান্তর অসম্পূর্ণ বা হেমিমেটাবোলাস ধরনের ৷ কারণ এদের অপরিণত নিম্ফ আংশিক পরিস্ফুটনের মাধ্যমে কয়েকটি নিশ্ফ দশা পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং এ পরিণত হয়। অর্থাৎ ঘাসফড়িং-এর জীবন ইতিহাসে তিনটি ধাপ রয়েছে।
ডিম --> নিম্ফ --> পূর্ণাঙ্গ প্রাণী
ডিম ফুটে যে তরুণ ঘাসফড়িং বেরিয়ে আসে তাকে নিম্ফ বলে । বহিঃগঠনের দিক থেকে নিম্ফ এবং পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-দেখতে প্রায় এক রকম, অন্তত মুখোপাঙ্গ, সরলাক্ষি ও পুঞ্জাক্ষি, আ্যান্টিনা, পায়ু প্রভৃতি । অনুরূপভাবে নিম্ফের জীবন ধারণ, খাদ্যভাস, খাদ্য ও বসতিও এক রকম। নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং এ পার্থক্য রয়েছে নিম্ফে ডানা ও জননাঙ্গ থাকে না। তাছাড়া দেহের আকার-আকৃতি ছোট থাকে। পূর্ণাঙ্গ হলে ডানা ও জননাঙ্গের পরিস্ফুটন ঘটে। দেহের আকারও বড় হয়। সদ্য পরিস্ফুটিত নিষ্ফের কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল থাকে স্বচ্ছ। ক্রমশ গাঢ় হয়, ৩ বার খোলস মোচনের পর পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-এ রূপান্তরিত হয়, দ্বিতীয় ধাপের নিম্ফ ক্ষুদ্রকায় ডানা প্যাড থেকে ডানা সৃষ্টির সূচনা ঘটে। প্রতিবার খোলস মোচনের পর নিম্ফ দেখতে ছোট আকৃতির পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-এর মতো দেখায়। পঞ্চমবার খোলস মোচনের মাধ্যমে নিম্ফ পরিণত ঘাসফড়িং হয়ে উঠে । দুটি মোচনের মধ্যবর্তী দশাকে ইন্সটার বলে ঘাসফড়িং এর রূপান্তর সম্পন্ন হতে প্রায় দু'মাস সময় লাগে।