| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দিন কাটিয়া যায়।…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দিন কাটিয়া যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। পদ্মার ভাঙন-ধরা তীরে মাটি ধসিতে থাকে। পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া জাগিয়া উঠে চর। অর্ধ শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার জলে আবার বিলীন হইয়া যায়। জেলেপাড়ার শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতা, হাসি-কান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা- ইহাদের পূজা কোনো দিন সাঙ্গ হয় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জমিলা।
"আমার হাত হইতে দুষ্ট আত্মা, ভূতপ্রেতও রক্ষা পায় নাই।"-উক্তিটি মজিদ জমিলাকে ভয় দেখানোর জন্য করেছে।
'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মব্যবসায়ী, প্রতারক মজিদ কিশোরী জমিলাকে বিয়ে করার পর জোর করে তাকে বশে আনতে চায়। জমিলা তা মানতে চায় না, সে প্রতিবাদ করে। নামাজ পড়তে গিয়ে জমিলা ঘুমিয়ে পড়ে। গ্রামের সবাই মজিদকে ভয় পেলেও সে ভয় পায়। না। মজিদ জোর করে মাজারে নেওয়ার সময় জমিলা মজিদের মুখে থুথু ছিটিয়ে দেয়। তাই মজিদ জোর করে জমিলার অন্তরে ভীতির সঞ্চার করার চেষ্টা করে। মজিদ জমিলাকে মাজার ঘরে নিয়ে বসিয়ে দেয় এবং ঝড়ের বেগে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকে। একটু পরে হঠাৎ জমিলা প্রচণ্ড ভীতিজড়িত গলায় আর্তনাদ করে উঠলে মজিদ দোয়া- দরুদ পড়া থামিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশের মানুষের অভাব দুঃখ-দারিদ্র্যের বর্ণনা এবং তা থেকে তাদের উত্তরণ না ঘটার দিকটির মিল পাওয়া যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশে শস্যহীন জনবহুল অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে। সেই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে কিছুই নেই। ভাগাভাগি, লুটালুটি আর স্থানবিশেষে খুনাখুনি করে তারা একেবারে নিঃশেষ। তারা এখন নদীর ওপারে ছুটে গিয়ে জীবন বাঁচাতে চায়। ভাগ্য বদলানোর আশায় তারা ছোটোছুটি করে। তাদের সামনে বিরান মাঠ, সর-ভাঙা পাড় আর বন্যা ভাসানো ক্ষেত। তাতে শস্য নেই। দেশটা মরার দেশ।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে পদ্মাপাড়ের মানুষের কষ্টকর জীবনযাপনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পদ্মাপাড়ের জেলেপাড়ায় শিশুর কান্না কখনো বন্ধ হয় না, ক্ষুধা-তৃষ্ণা সব সময় লেগে থাকে, মানুষের মাঝে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারও দানা বেঁধে আছে। সেখানকার মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্টের ইতি কখনো ঘটে না। এই দুঃখময় ঘটনা ও অভাবের দিকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশে বর্ণিত মানুষের অভাব-অনটনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। শস্য যাই-বা হয় তা জনবহুলতার তুলনায় যৎসামান্য। এরা তাই দেশ ত্যাগ করে। জাহাজের খালাসি, কারখানার শ্রমিক, বাসাবাড়ির চাকর, দফতরির এটকিনি হয়ে তারা খেয়ে-পরে বাঁচতে চায়।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়ের তাৎপর্য বিবেচনায় “উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস। এখানে যুগ যুগ ধরে শেকড়গাড়া কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে সুস্থ জীবনাকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব প্রতিফলিত হয়ছে। এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ শস্যশূন্য মরার দেশ থেকে ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। গ্রামের এক প্রান্তে একটি পুরনো কবরকে তথাকথিত মোদাচ্ছেদ পিরের মাজার সাজিয়ে সে ধর্মব্যাবসা শুরু করে। অন্ধ ধর্মবিশ্বাসী, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীকে সে ধোঁকা দিয়ে নিজের আখের গোছায়।
উদ্দীপকে পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নদীভাঙনে মানুষ কীভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ে চর জাগলেও যে তা তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে না তা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মানুষের যে দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশ পেয়েছে তার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশে উল্লিখিত শস্যশূন্য আগাছার দেশের মানুষের জীবনের মিল রয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভের বিষয়টি নেই। যা 'লালসালু' উপন্যাসে শস্যশূন্য দেশ থেকে গিয়ে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে প্রতিষ্ঠালাভের ক্ষেত্রে ঘটেছে। উদ্দীপকের মানুষের মধ্যে অভাব, অশিক্ষা, কুসংস্কার আছে। তবে 'লালসালু' উপন্যাসে যুগ যুগ ধরে থাকা পিরপ্রথার বিষয়টি নেই।
'লালসালু' উপন্যাসে নারীর অমর্যাদা, বহুবিবাহ প্রথা, অসমবয়সি বিয়ে, নিজের স্বার্থে মানুষকে শিক্ষার আলোক থেকে বঞ্চিত করে রাখার ক্ষেত্রে মজিদের অপচেষ্টা, সন্তানহীন নারীর প্রতি অমানবিক আচরণ ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।