| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দিন কাটিয়া যায়।…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দিন কাটিয়া যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। ঋতুচক্রে পাক খায়। পদ্মা ভাঙন-ধরা তীরে মাটি ধসিতে থাকে, পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া জাগিয়া উঠে চর। অর্ধ শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার জলে আবার বিলীন হইয়া যায়। জেলে পাড়ার শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতা, হাসি-কান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা- ইহাদের পূজা কোনোদিন সাঙ্গ হয় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'মরা মানুষ জিন্দা হয় ক্যামনে' উক্তিটি মজিদের।
‘শস্যের চেয়ে টুপি বেশী, ধর্মের আগাছা বেশী।’ ‘লালসালু’ উপন্যাসে এই বক্তব্যের মধ্যেই প্রকাশ পায় বেশির ভাগ বাঙালির ধর্মীয় জ্ঞানের অজ্ঞতা, ধর্মভীরুতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্র।ধর্মভীরু মানুষকে কাজে লাগিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই উপন্যাস। একদিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মভীরু শোষিত মহব্বতনগর গ্রামের পরিত্যক্ত একটি কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার হিসেবে চিহ্নিত করে, এত দিন এই মাজারকে গুরুত্ব না দেওয়া বা ফেলে রাখার দায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনি। ভণ্ড মজিদ স্বার্থসিদ্ধির জন্য গ্রামের মাতবর, প্রতারক খালেক ব্যাপারীকেই সহযোগী হিসেবে বেছে নেয়। অল্প দিনের মধ্যেই ফুলেফেঁপে ওঠা মজিদ বিয়ে করে বিধবা যুবতি রহিমাকে। মজলিসি ঢঙের নিজস্ব বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মবিষয়ক অজ্ঞানতার জায়গাটিকে আক্রমণ করে ধর্মভীরু মানুষকে বশে রাখার চেষ্টা করে মজিদ।
উদ্দীপকে সাথে লালসালু উপন্যাসের মহব্বতনগরের বৈচিত্র্যহীন ও দুর্দশাপূর্ণ জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।
লালসালু উপন্যাসে মহব্বতনগরের মানুষ তারা অশিক্ষিত,ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারে বিশ্বাস করে জীবন অতিবাহিত করতেন। তারা অশিক্ষিত হলেও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিশ্রমী হওয়ার ফসলের অভাব না হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের ফসল তলিয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে তারা খোদাকে স্মরণ করে, মসজিদের সাহায্য কামনা করে,কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। মাঝখান দিয়ে মসজিদের মতো ব্যক্তিরা গ্রামবাসীর বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে।
উদ্দীপকে পদ্মার পাড়ের মানুষের বৈচিত্রহীন জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। একইরকমভাবে তাদের দিন কেটে যায়।পদ্মার তীরে কখনো ভাঙ্গন ধরে, আবার কখনো পদ্মার বুকে চড় জাগে,আবার সে চর বিলীন হয়ে যায়।জেলেপাড়ার শিশুর ক্রন্দন কোনদিনই বন্ধ হয় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও হাসি কান্নার দেবতার পূজা কোনদিনই সাঙ্গ হয় না। উত্থান পতনের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রা অগ্রসর হলেও তাদের জীবনচিত্রের বিশেষ কোন পরিবর্তন হয়নি।তাই বলা যায় উদ্দীপকের পদ্মার পাড়ে মানুষের মতই লালসালু উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের জীবন বৈচিত্র্যহীন।
উদ্দীপকটি লালসালু উপন্যাসের সূচনা অংশে খন্ডিত রূপায়ন মাত্র। উক্তিটি যথার্থ।
লালসালু উপন্যাসে মহব্বত নগর গ্রামবাসীর জীবনচিত্র ছাড়াও মসজিদের জীবন চিত্র ফুটে উঠেছে। মসজিদের গ্রামের শস্য শুন্য গ্রমের বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া এখানে গ্রামবাসীর কথা,খালেক ব্যাপারী ও আওয়ালপুরের পীরের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে গ্রামবাসীর ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারক কেন্দ্র করে মজিদ ও আওয়ালপুরে পির নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে এই সমাজে নিজের প্রতিপত্তি গড়ে তুলে।
উদ্দীপকে পদ্মার পাড়ের মানুষের অভিন্ন জীবন চক্র দেখা যায়। পদ্মা নদীর উত্থান পতনের মাধ্যমে তাদের জীবন চিত্রের উউত্থানপতন ঘটে।জেলেপাড়ার শিশুর ক্রন্দন একই রকম চলতে থাকে। ক্ষুধা তুষ্ণার দেবতা, হাসি কান্নার দেবতা অন্ধকার আত্মার দেবতার পূজা বন্ধ হয় না। পদ্মা পাড়ের মানুষের এই জীবনচিত্র আলোচ্য উপন্যাসের গ্রামবাসী জীবনচিত্রের অনুরূপ।
উদ্দীপকে জেলেপাড়া মানুষের চিত্রের সাথে লালসালু উপন্যাসের মহাব্বতনগর গ্রামের সহজ সরল মানুষের জীবন চিত্রের মিল থাকলেও আলোচ্য উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদের কর্মকান্ড এখানে ফুটে ওঠেনি। তাছাড়া ধর্মভীরু গ্রামবাসীকে ধর্মভয় দেখিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করা আওয়ালপুরের পীর ও খালেক ব্যাপারীর ন্যায় শোষকের কর্মকান্ড উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।তাই বলা যায়,উদ্দীপকটি লালসালু উপন্যাসের আংশিক রুপায়ণমাত্র।