| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
অধঃত্বকের নিচ হতে আরম্ভ করে পেরিসাইকলের উপর পর্যন্ত অংশকে কর্টেক্স বলে ।
ইন্টারফেরনস হল প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র যা দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্রের অন্তর্গত।
ইন্টারফেরন এর গুরুত্ব হলো—
১) B ও T লিম্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধিকে দমন করে।
২)অ্যান্টিবডি উৎপাদনে বাধা দেয়।
৩) পোষকের অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'P' প্রক্রিয়াটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জীবপ্রযুক্তি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ নিচে বর্ণনা করা হলো—
কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য পরিবেশ দূষণ ঘটায়। কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যে বিভিন্ন অণুজীব জন্মায় এবং বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে। ফ্রান্স, জাপান, তাইওয়ান এবং ভারতে পেট্রোলিয়াম কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া জন্মায় যা Single cell protein হিসেবে পশু ও মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাট, বস্ত্র ও চিনি শিল্পের সেলুলোজ জাতীয় বর্জ্যকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের ব মাধ্যমে উপকারী সরল দ্রব্যে রূপান্তর করা যায়, ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণমুক্ত হয় অপরদিকে প্রয়োজনীয় লাভজনক দ্রব্য যেমন— বিভিন্ন জৈব এসিড, ইথানল, গ্লিসারিন, অ্যাসিটোন পাওয়া যায়। এছাড়াও দুর্ঘটনাক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে নানা উপায়ে সমুদ্রে তেল-এর মাধ্যমে দূষণ ঘটতে পারে এবং তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। Pseudomonas, Nocardia, Mycobacteria, বিশেষ ধরনের ঈষ্ট ও মোণ্ডজাতীয় ছত্রাক হাইড্রোকার্বন অক্সিডাইজিং অণুজীব হিসেবে কাজ করে। জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন প্রকরনের Pseudomonas ব্যকটেরিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে যা তেল ও হাইড্রোকার্বনকে অতি দ্রুত নষ্ট করে দিয়ে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে পারে। বর্তমানে সারা বিশ্বে একটিভেটেড স্ল্যাজ পদ্ধতিতে সিউয়েজ পরিশোধন করে পরিশোধিত পানি নদী বা হ্রদে ছাড়া হয়। এর ফলে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে।
পরিশেষে বলা যায় যে, জীবপ্রযুক্তি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখছে।
উদ্দীপকে Q দ্বারা জীবের জিনোম সিকুয়েন্সিংকে বোঝানো হয়েছে। জিনোম সিকুয়েন্সিং এর প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিদের সঠিক ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব ।
জিনোম সিকোয়েন্সিং হলো আধুনিক জীবপ্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার। কোনো DNA অণু বা DNA খণ্ডের মধ্যে বিদ্যমান বেস অণুক্রম নির্ণয় করার পদ্ধতিই হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং। এ প্রক্রিয়ায় যেকোনো জীবের নমুনা যেমন- লালা, আবরণী কোষ, অস্থিমজ্জা, সিমেন, চুলের ফলিকল, উদ্ভিদের বীজ, পাতা অথবা DNA বিশিষ্ট যেকোনো কোষ ব্যবহৃত হতে পারে। মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাদের শরীর থেকে কোনো নমুনা নিয়ে তা তাদের মা-বাবার নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে সংগৃহীত নমুনার সাথে মিলানো হয়। অর্থাৎ, মৃত ও বিকৃত ব্যক্তির DNA এর সাথে তাদের খুব কাছের লোকদের DNA এর বেস সিকোয়েন্সিং করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে নির্দিষ্ট DNA অণুকে রিএজেন্ট চারটি টেস্টটিউবে ভাগ করে দেওয়া হয়, যেখানে বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি DNA খণ্ডের বেস (A, G, C, T) রেসিডিউ শনাক্ত করবে। তারপর জেল ইলেক্ট্রোফোরেসিস পদ্ধতিতে পাশাপাশি চারটি বিক্রিয়ার প্রতিটিকে পৃথক করা হয় এবং রেডিওঅ্যাক্টিভ ব্যান্ড-এর অবস্থান ও পরিমাণ থেকে সিকোয়েন্স নির্ণয় করা হয়। এরপর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত X-ray স্ক্যানার ব্যবহার করে ইলেক্ট্রোফোরেসিসের রেজাল্ট বিশ্লেষণ করে মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় ।
সুতরাং বলা যায়, জিনোম সিকুয়েন্স এর মাধ্যমে মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব.