| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
বায়োপ্রাপ্ত নারীর যৌনজীবনে নিয়মিত প্রায়, গড়ে ২৮ দিন (২৪-৩২দিন) পরপর জরায়ু থেকে রক্ত, মিউকাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের ভগ্নাংশ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অনিষিক্ত ডিম্বাণুর চক্রীয় নিষ্কাশনকে রজঃচক্র বলে।
বর্ধনশীল মানব ভ্রুণ জরায়ুর প্রাচীরের সংস্থাপিত হওয়ার কৌশলকে ইমপ্লান্টেশন বলে। নিষেকের ৭-৮ দিনের মধ্যে ভ্রুন জরায়ুর পৃষ্ঠ দিকের এন্ডোমেট্রিয়াম প্রাচীরের সংস্থাপিত হয়। ইমপ্লান্টেশন-এর ভ্রন যে অবস্থায় থাকে তাকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে। এর বহিতলে ট্রফোব্লোস্ট নামক কোষের ক্রিয়ায় ভ্রুন জরায়ুতে সংস্থাপিত হয়।
উদ্দীপকের X সৃষ্ট জননকোষ হল শুক্রাণু। নিচে শুক্রাণুর ফোন বর্ণনা করা হলো:
১. মাথা: মাথা হচ্ছে শুক্রাণুর সামনের অংশ যা দেখতে স্ফীতকায়, কোনাকৃতি বা লেন্সের মতো। শুক্রাণুর সমস্ত মাথা একটি পাতলা সাইটোপ্লাজমীয় স্তরে আবৃত থাকে। মাথার সাইটোপ্লাজম এর অধিকাংশ স্থান জুড়ে থাকে একটি ডিম্বাকৃতির নিউক্লিয়াস। এতে ক্রোমোজোম থাকায় পিতার বংশগতির সন্তানের সঞ্চারিত হয়। এর সামনের অর্ধেক অংশের ওপর নিউক্লিয়াসকে ঢেকে রাখে আক্রসোম। আক্রোসোম একটি থলি বিশেষ। আক্রোসোম এ উপস্থিত টিস্যু গলনকারী এনজাইম গুলো ডিম্বানুর ঝিল্লি ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে।
২. গ্রীবা: গ্রীবা হচ্ছে শুক্রাণুর মাথা ঠিক পেছনে, মাথা ও মধ্যখন্ডের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু, স্বচ্ছ সংযোগস্থল। এখানে পরস্পরের সাথে সমকোণে দুটি সেন্ট্রিওল থাকে। ৩. মধ্য খন্ড: সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং সূত্র গঠিত অংশটি হচ্ছে শুক্রানুর মধ্যে খন্ড। এর মধ্যে মাইটোকনড্রিয়ার অংশই বেশি। মাইটোকনড্রিয়া ফ্লাজেলাম সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয়। ৪. লেজ: শুক্রাণুর খন্ডের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকনড্রিয়া সমাপ্তি অংশ থেকে শুরু করে পেছনের সবটুকুই লেজ। এটি শুক্রাণুর দীর্ঘতম অংশ। এতে অক্ষীয় সূত্রের এক অংশ একটি স্থূল আবরণে আবৃত থাকে বাকি অংশ থাকে অনাবৃত। এদের যথাক্রমে মূলখণ্ড ও শেষ খন্ড বলা হয়। ফ্লাজেলাম শুক্রাণুকে গতিশীল করে নিষেকের উদ্দেশ্যে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের X প্রক্রিয়ার সৃষ্ট জনন কোষ হল শুক্রাণু এবং Y প্রক্রিয়ার সৃষ্ট জনন কোষ হল ডিম্বাণু। শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু স্বাভাবিকভাবে মিলিত না হলেও কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ সম্ভব। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি গর্ভাশয়ের প্রাচীরে সংস্থাপিত হয়ে প্রায় ৯ মাস পর পরই স্ফুটন শেষে একটি শিশু সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি গর্ভধারন পরিচিত। ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে গেলে বা ক্ষত হলে অ্যান্ডোমেট্রিওসিস ছাড়াও পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা কম হলে বা অস্বাভাবিক গরমের শুক্রানু হলে অথবা নারী ও পুরুষ উভয় থেকে শুক্রাণুর বিরুদ্ধে এন্টিবডি উৎপন্ন হলে, নারীদের ডিম্বপাত না হলে IVF গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যায়। তখন দেশের বাইরে ও গবেষণাগারে কাঁচের পাত্রে শুক্রানু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে নিষিক্ত ডিম্বানুকে জরায়ুতে স্থাপন করেও গর্ভধারণ করার ব্যবস্থা করা যায়। এ প্রক্রিয়ার নাম ইনভিট্রো নিষেক প্রক্রিয়া।
IVF পদ্ধতির ধাপসমূহ:
১. স্বাভাবিক রজঃচক্র দমন;
২. ডিম্বানুর সরবরাহ বৃদ্ধি;
৩. অগ্রগতি পরীক্ষা;
৪. ডিম্বানুর সংগ্রহ;
৫. শুক্রাণু সংগ্রহ;
৬. ডিম্বানু নিষিক্তকরণ;
৭. ভ্রুন স্থানান্তর।