| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – অর্থনৈতিক রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
যে তাপমাত্রায় কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয়, তাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে।
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করার কারণ হলো-
→ লবণ সেতু অর্ধকোষদ্বয়ের উভয় দ্রবণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কোষের বর্তনী পূর্ণ করে।
→ লবণ সেতুর মধ্যস্থ তড়িৎ বিশ্লেষ্য যেমন, উভয় অর্ধকোষের দ্রবণের সাথে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না; বরং উভয় তরলের মধ্যে প্রয়োজনমত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন বিনিময়ের ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমরূপে কাজ করে।
→ লবণ সেতু উভয় অর্ধকোষের দ্রবণের তড়িৎ-নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কাজ করে।
→ লবণ সেতুর অভাবে উভয় অর্ধকোষে জারণ-বিজারণ ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কোষ বিক্রিয়া তথা বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্দীপকের কাঁচামালটি হচ্ছে চামড়া যার ক্রোম ট্যানিং প্রক্রিয়ায় ও ব্যবহৃত হয়। এ দুটির মিশ্রণে ক্রোমিক এসিড পাওয়া যায়। এ প্রক্রিয়ায় চামড়ার কোলাজেন এবং ক্রোমিয়াম আয়নের মধ্যে জটিল সন্নিবেশ বন্ধন গঠিত হয়। ক্রোমিয়াম সালফেট অত্যন্ত দক্ষ ও কার্যকর ট্যানিং এজেন্ট হিসেবে পরিগণিত। সালফেট দ্রবীভূত হয়ে হেক্সা অ্যাকোয়া ক্রোমিয়াম ক্যাটায়ন প্রদান করে এবং পলিক্রোমিয়াম
যৌগ গঠন করে যা ট্যানিং প্রক্রিয়ার সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে কোলাজেন শিকলের সাথে ক্রস সংযোগ গঠন করে।
এক্ষেত্রে ক্রোমিয়াম দুটি প্রোটিন চেইনের মধ্যে সেতু বন্ধন সৃষ্টি করে এবং বহুসংখ্যক ক্রোমিয়াম অক্সিজেনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহদাকার চেইন সৃষ্টি করে।
হাইড্রোক্সাইডের উপস্থিতিতে কোলাজেনের আর্দ্রবিশ্লেষণে আয়নিত কার্বক্সিল গঠিত হয়। ট্যানিং এজেন্ট ক্রোমিয়াম লবণ অন্তর্ভুক্তির পূর্বেই লাইমিং প্রক্রিয়ার সময় এ রূপান্তরটি ঘটে।
-ক্রোমিয়াম এজেন্ট যোগ করার পরপরই যোগ করে ট্যানিং বাথের pH মান 4.0 – 4.3 পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এতে ক্রোমিয়াম ও কোলাজেনের মধ্যে ক্রস সংযোগ গঠনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ক্রোমট্যানিং এ সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়া:
উদ্দীপকের ট্যানারি থেকে সবচেয়ে বেশি নদী দূষণ ঘটবে।
কারণ ট্যানারি থেকে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন দূষক উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপে সবচেয়ে বেশি নদী দূষণ হয়।
ট্যানারি শিল্প থেকে উদ্ভুত তরল বর্জ্যের বিশোধন অত্যাবশ্যক। অবিশোধিত ট্যানারি বর্জ্য নদীর পানিতে নিম্নোক্ত প্রভাবসমূহ সৃষ্টি করে।
i. ট্যানারি সৃষ্ট তরল বর্জ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় জৈব বস্তু যেমন, প্রোটিন, ফ্যাটসহ বিভিন্ন জৈব যৌগের উপস্থিতি রয়েছে। খাল, নদী, জলাশয়ে এসব জৈব বস্তু জীব ভাঙনের সম্মুখীন হয়। অনুজীব কর্তৃক এসব জৈব বস্তু ভাঙনে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ফলে, পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন হ্রাস পেলে জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব লোপ পায়।
ii. ট্যানারি বর্জ্যের উপাদানের মধ্যে পচনযোগ্য দ্রবীভূত প্রোটিন, ফ্যাট প্রভৃতি থাকে। এগুলোর ভাঙ্গনে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থের সৃষ্টি করে।
iii. বর্জ্য পদার্থে NaCl এর পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, যা গ্রহণকারী জলাশয়ের পানিকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলে।
vi. ট্যানারি বর্জ্যে প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা জলীয় পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
V. বর্জ্যে দ্রবীভূত ক্রোমিয়াম জলজ প্রাণীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ক্রোমিয়াম জীবভাঙনযোগ্য নয় বলে এটি জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের মাধ্যমে খাদ্যচক্রে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পরিবেশে মানবদেহে সংক্রমিত হয়।
vi. ট্যানারি শিল্পের তরল বর্জ্যে বিদ্যমান ভাসমান কঠিন পদার্থ খালে, নদীতে বা জলাশয়ের গভীরতা হ্রাস করে। ভাসমান কঠিন পদার্থ জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
অপরদিকে, আর্সেনিক আকরিক যুক্ত মাটি পানিতে মিশে নিম্নলি।খতভাবে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করতে পারে।
এভাবে আর্সেনিক নদী দূষণ করে। যা খাওয়ার অনুপযুক্ত কিন্তু অন্যান্য যেকোন গৃহস্থলীর কাজ এটা দিয়ে করা সম্ভব।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, ট্যানারী অধিক পরিমাণ নদী দূষণ করে।