| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
কোনো উদ্দীপকের উৎসের সাথে সম্পর্ক রেখে দেহ অক্ষের অবস্থানগত যে পরিবর্তন ঘটে, তাকেই ট্যাক্সিস বলে।
প্রাণীজগতে নিম্নলিখিত ধরনের সহজাত আচরণ সচরাচর দেখা যায়:
১. সাধারণত জন্মগত অর্থাৎ জিনতান্ত্রিকভাবে বংশগতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ও সঞ্চারিত।
২. প্রজাতি সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ একই প্রজাতির সব সদস্য একই রকমভাবে তা প্রদর্শন করে।
৩. এ আচরণের জন্য কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা বা কোন ধরনের শিখন এর প্রয়োজন হয় না।
৬. এটি অপেক্ষাকৃত জটিল প্রকৃতির।
উদ্দীপকে "ক" চিত্রের পরীক্ষণটি হল প্যাভলভের পরীক্ষা। নিচে প্যাভলভের পরীক্ষাটির স্বপক্ষে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার একটি উদাহরণ ব্যাখ্যা করা হলো:
বিজ্ঞানী Pavlov ক্ষুধার্ত কুকুরকে মাংসের টুকরো দেওয়া ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ঘন্টার ধ্বনি বাজতে শুরু করেন। তিনি এভাবে ঘন্টা বাজানোর সাথে সাথে এক টুকরা মাংস কুকুরকে দিতে থাকেন। এই কাজটি বারংবার করা হলে প্রতিবারে কুকুরের মুখে লালা ঝরতে থাকে। তিনি লালা নিঃসরণের মাত্রা পরীক্ষা করলেন।
কাজটি ১২ বার পুনরাবৃত্তি করার পর তিনি হঠাৎ শুধু ঘন্টা বাজালেন। এ পর্যায়ে দেখা গেল যে ঘন্টার ধ্বনি প্রতিক্রিয়ায় কুকুরটির যে লালা নিঃসৃত হলো তা পূর্বের নিঃসরণের সমান। তারপর মাংসের টুকরা না দিয়ে Pavlov যতবার শুধু ঘন্টা ধ্বনি করলেন ততবার কুকুরের মুখ থেকে লালা ঝরলো। এক্ষেত্রে ঘণ্টার ধ্বনির যদিও সাপেক্ষ উদ্দীপক তথাপি স্বাভাবিক উদ্দীপকের সাথে যুগপৎ ব্যবহারের ফলে তা নিরপেক্ষ উদ্দীপক হয়ে উঠেছে এবং কুকুরের মস্তিষ্ক এর একটি স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে অর্থাৎ মাংসের টুকরার অনুপস্থিতিতেও ঘন্টা ধ্বনির প্রভাবে কুকুরে লালা ঝরার আচরণটি অব্যাহত রয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্র "খ" হলো মৌমাছি। মৌমাছি কর্ম পরার্থপরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নিচে তা আলোচনা করা হলো:
মৌমাছির জীবনচর্চায় কলনির বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে শ্রমের দায়িত্ব বন্টন এক বিশেষ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এদের কর্মতৎপরতার কোনো গফিলতি হয় না, প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। খাদ্যের সরবরাহন নিশ্চিত করার সকল সামাজিক পতঙ্গদের প্রথম ও সর্বপ্রধান কাজ। মৌচাকের নির্দিষ্ট কুঠুরিতে ভবিষ্যৎ বংশধর ও নিজেদের জন্য খাদ্য মজুদ করে রাখে। এরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করতে অভ্যস্ত। রোগাক্রান্ত বা মৃত লার্ভা কে যথাশীঘ্র চাকের বাইরে ফেলে দিয়ে কলনিকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। শীতের দিনে গুচ্ছাকারে অবস্থান করে মৌচাকের ভেতর তাপ সংরক্ষণ করে। এরা পরস্পরের মধ্যে বিশেষ গন্ধ ছড়িয়ে, অঙ্গভঙ্গি বা নৃত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান প্রদান করে। কষ্ট অর্জিত মধু ভান্ডার বা খাদ্য ভান্ডারের শত্রু বা লুরেটার আক্রমণ হলো শত্রুকে বিষাক্ত হুল ফুটিয়ে প্রতিহত করে। রানী মৃত্যুবরণ করলে অল্প দিনের মধ্যে যাতে রানীর অভাব পূরণ হয়, সেজন্য নির্বাচিত লার্ভাকে রানী হিসেবে গড়ে তোলে। রনি যদি অযথা নির্যাতন বা অত্যাচার চালায় তবে অন্য সদস্যরা বিদ্রোহ করে রানীকে তাড়িয়ে দেয় বা মেরে ফেলে। কখনো কলোনির মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সদস্যরা চাক অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। অন্য চাকের মৌমাছিরা এমন চাক সন্ধান পেলে এ চাকের মধু লুটপাট করে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং বলা যায় যে মৌমাছির, সামাজিক জীবনযাত্রার একদিকে যেমন শ্রমবিভাগ বর্তমান, তেমনি অপরদিকে কাজের বিচিত্র ধরণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ বসবাস, দায়িত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।