| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দ্যুতিময় তামাক গাছ…’ Combined ২০২৬ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দ্যুতিময় তামাক গাছ হল একটি শোভাবর্ধক
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
ব্যাকটেরিয়ার কোষে মূল ক্রোমোজোমের বাইরে যে একটি স্বাধীনভাবে রেপ্লিকেট (প্রতিরূপ সৃষ্টি) করতে সক্ষম, বৃত্তাকার ও দ্বিসূত্রক অণু থাকে, তাকে প্লাসমিড বলে।
উভলিঙ্গ ফুল থেকে পরাগধানী বা পুংকেশর কেটে অপসারণ করার প্রক্রিয়াকে ইমাস্কুলেশন বলে। কৃত্রিম সংকরায়ণের সময় উভলিঙ্গ ফুলে যেন কোনোভাবেই স্ব-পরাগায়ন ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য পরাগধানী পরিপক্ব হওয়ার পূর্বেই এই কাজটি করা হয়। এর ফলে ফুলটি একটি স্ত্রী ফুলে পরিণত হয় এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে কাঙ্ক্ষিত পরাগরেণু দিয়ে পর-পরাগায়ন ঘটানো সম্ভব হয়।
উদ্দীপকের শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তি। নিচে এর ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো:
১. কাঙ্ক্ষিত পৃথকীকরণ: লাইটিক এনজাইমের সাহায্যে কাঙ্ক্ষিত জীবের কোষকে গলিয়ে এবং সেন্ট্রিফিউজ করে প্রয়োজনীয় জিন বা অণু পৃথক করা হয়।
২. বাহক নির্বাচন: কাঙ্ক্ষিত বহনের জন্য বাহক হিসেবে ব্যাকটেরিয়ার (সাধারণত প্লাজমিড নির্বাচন করা হয়।
৩. কর্তন: সুনির্দিষ্ট 'রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ' এনজাইম ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত এবং বাহক প্লাজমিড -এর নির্দিষ্ট অংশ কেটে নেওয়া হয়।
৪. রিকম্বিনেন্ট তৈরি: ছেদনকৃত কাঙ্ক্ষিত খণ্ডটিকে '' এনজাইমের সাহায্যে প্লাজমিড -এর ফাঁকা স্থানে যুক্ত করা হয়। ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের যে তৈরি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট বলে।
৫. পোষক কোষে স্থানান্তর ও ক্লোনিং: ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পরিবেশে 'হিট শক ' অথবা 'ইলেকট্রোপোরেশন ' পদ্ধতির মাধ্যমে রিকম্বিনেন্ট -টিকে পোষক ব্যাকটেরিয়ামে প্রবেশ করানো হয় (একে ট্রান্সফর্মেশন বলে)। পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়া সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে রিকম্বিনেন্ট -টিরও কপি বা ক্লোনিং হয়।
৬. উদ্ভিদকোষে স্থানান্তর ও ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি: বাহক হিসেবে প্লাসমিড ব্যবহৃত হলে উক্ত রিকম্বিনেন্ট -কে এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদকোষে প্রবেশ করানো হয়। সবশেষে, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির সাহায্যে উক্ত কোষ থেকে কাঙ্ক্ষিত জিনসম্পন্ন নতুন উদ্ভিদ (ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ) সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি করা হয়।
উআরিফ সাহেবের অনুসৃত বিশেষ প্রক্রিয়াটি এক্সপ্লান্ট থেকে অসংখ্য অণুচারা তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো টিস্যু কালচার প্রক্রিয়া। নিচে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
১. জীববৈচিত্র্য রক্ষা: বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ প্রজাতিসহ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ একটি দেশ। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিরল ছিন উদ্ভিদের সংরক্ষণ এবং বংশবিস্তার ঘটানো সম্ভব।
২. কৃষি ও ফসলের উন্নতি: বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে কৃষি। এ কৃষি খাতের উপর বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। টিস্যু কালচার ব্যবহার করে রোগমুক্ত ও উচ্চ ফলনশীল উদ্ভিদজাত উৎপাদন করা সম্ভব, যা ফসলের উন্নতিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। যার ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ করা অনেক সহজতর হবে।
৩. ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন: বাংলাদেশে ভেষজ ও ঐতিহ্যবাহী ঔষধের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে 'বৃহৎ পরিসরে ঔষধি গাছ উৎপাদন করা যাবে যা উদ্ভিদ ভিত্তিক ঔষধের মানসম্মত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
৪. ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ উৎপাদন: রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তিতে তৈরি জিনোম হতে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরি করা যায়। উদ্ভিদগুলো আগাছানাশক, পতঙ্গরোধী, লবণাক্ত ও খরারোধী, উন্নত পুষ্টিমান সম্পন্ন ফসলি উদ্ভিদ। যেহেতু বাংলাদেশে এরকম গুণসম্পন্ন ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তাই এ ধরনের উদ্ভিদ উৎপাদন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এগুলো ছাড়াও টিস্যু কালচারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক চারা উৎপাদন, সংকর উদ্ভিদ উৎপাদন, সঠিক বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া, বীজহীন উদ্ভিদ হতে চারা উৎপাদন করার পাশাপাশি আরো অনেক সম্ভাবনাময় উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব।