| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – কৃষি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য, যা প্রধানত মৌসুমি অঞ্চলের ফসল। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ফসলটি যে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় সেই দেশটিই আবার সবচেয়ে বেশি আমদানি করে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
ভারতের আসাম ও চীনের পার্বত্য এলাকা চা-এর আদিভূমি ।
ধানউৎপাদনেচীনবিশ্বেরপ্রথমস্থানঅধিকারীদেশ।চীনেরহোয়াংহো, ইয়াংসিকিয়াংওসেচুয়ানঅববাহিকাএবংহুনানপ্রদেশেপ্রচুরধানজন্মে।হুনানপ্রদেশেআয়তনঅনুসারেপৃথিবীরসর্বাধিক (প্রায়২কোটি৬০লাখটন) চালউৎপন্নহয়বলেএকেপৃথিবীরচালেরআধারবলাহয়।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় ফসলটি ধান, যা ইন্দোনেশিয়ায় অধিক উৎপাদিত ফসল এবং বাংলাদেশের সব জেলাতেই কম বেশি উৎপন্ন হয় ।
যেসব প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক নিয়ামক বা উপাদানের ওপর ধান চাষের সাফল্য নির্ভর করে সেগুলো হলো-
ভূপ্রকৃতি : উচ্চভূমি অপেক্ষা সমতল ও নিম্নভূমি ধান চাষের উপযোগী বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ ধান নদী গঠিত প্লাবন সমভূমি এবং বদ্বীপ সমভূমি অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। যেমন— দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে ধানের চাষ করা হয়। যেমন— জাপান । জলবায়ু : ধান চাষে জলবায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও উত্তাপ এ দুটি উপাদানের ওপর ধান চাষের উৎপাদন নির্ভর করে।
i. বৃষ্টিপাত : ধান চাষের জন্য বার্ষিক গড় ১০০-২৫০ সে.মি. বৃষ্টিপাতের দরকার। তবে যেসব স্থানে বৃষ্টিপাত ১৭৫-২২৫ সে.মি. সেসব স্থানে ধানের ফসল ভালো হয় ।
ii. তাপমাত্রা : ধান চাষের জন্য সাধারণত ১৮°-২৭° সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। ধান বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য ১৬° সে. অপেক্ষা অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন। চারা বৃদ্ধিকালীন সময় তাপমাত্রা ২২°- ২৪° সে. মধ্যে থাকা আবশ্যক। বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে উৎপন্ন হয়।
iii. বায়ুপ্রবাহ : বায়ুপ্রবাহ ফসলের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এছাড়া প্রবাহমান বাতাস মৃত্তিকার নাইট্রোজেনের স্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে ।
মৃত্তিকা : পলিযুক্ত উর্বর এঁটেল-দোঁআশ মাটি ধান চাষের জন্য সর্বাধিক উপযোগী। কারণ এ ধরনের মাটি অধিক পরিমাণ পানি ধারণ করে রাখতে সক্ষম।
পানির সান্নিধ্য : ধানের জমিতে পানির ঘাটতি হলে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায় না। তাই নদী, হ্রদ, বিল, ঝিল প্রভৃতি অঞ্চলে ধানের চাষ বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া স্বল্প বৃষ্টিযুক্ত বা শুষ্ক অঞ্চলে নদী থেকে সেঁচের মাধ্যমে ধানের চাষ করা হয় । যেমন- সিন্ধু ও নীল নদ অববাহিকার ধান চাষ ।
উদ্দীপকের দেশটি চীন। দেশটি ধান উৎপাদনে এবং আমদানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থান অধিকারী ।
চীন একটি বৃহৎ আয়তনের দেশ। এখানে ধান উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক নিয়ামক সংবলিত বিস্তৃত অঞ্চল বিদ্যমান। উপরন্তু প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও চীন উন্নত। তাই উন্নত প্রযুক্তির চাষাবাদ এবং প্রচুর বিনিয়োগ চীনকে ধান উৎপাদনে শীর্ষস্থানের অধিকারী করেছে। চীনের ইয়াংসি, হোয়াংহো প্রভৃতি নদীর অববাহিকা অঞ্চল ধান উৎপাদনের জন্য অনুকূল। হেক্টর প্রতি পৃথিবীতে সর্বাধিক ধান উৎপাদনের জন্য হুনান প্রদেশকে ‘ধানের আধার' (Rice Bowl) বলা হয় ।
চীন ধান আমদানিতেও শীর্ষে। মূলত চীনের বিপুল জনগোষ্ঠী (১৪০ কোটি প্রায়) দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে চীনে উৎপাদিত ধান যথেষ্ট নয়, বরং দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে প্রতিবেশী ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া থেকে প্রচুর চাল আমদানি হয়। ধানের মূল্য নির্ধারণে চীন সরকারের নীতিও এক্ষেত্রে দায়ী।
সুতরাং বলা যায়, বিস্তৃত আয়তনের চীন অনুকূল ভৌগোলিক নিয়ামকের কল্যাণে ধান উৎপাদনে শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও বিপুল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে ধান আমদানিতেও শীর্ষ স্থানের অধিকারী।