| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দশ বছরের বিবাহিত…’ a – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দশ বছরের বিবাহিত জীবনে জমিলার কোনো সন্তান না হওয়ায় গ্রাম্য চিকিৎসা বাদ দিয়ে এবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পরীক্ষা করে জমিলার প্রজননক অক্ষমতার বিষয়টি চিহ্নিত করেন এবং গবেষণাগারে কৃত্রিম পদ্ধতিতে জমিলা সন্তানের মা হন। [রাজশাহী বোর্ড ২০১৫]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
রক্ত সংবহন থেকে কলাকোষে প্রবিষ্ট অনাক্রম্যতা সৃষ্টিকারী মনোসাইটই হলো ম্যাক্রোফেজ।
কোনো প্রাণীর জীবনে কোনো একটি একক বাহ্যিক ঘটনা বা প্রাকৃতিক ঘটনা থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ফলে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতাসহ আচরণগত পরিবর্তনকে শিখন আচরণ বলে। শিখন আচরণ প্রাণীর নিজ জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে। এটি বংশানুসরণযোগ্য নয়।
জমিলার দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ার নিম্নলিখিত কারণসমূহ থাকতে পারে-
১. ফেলোফিয়ান নালির সমস্যা।
২. হরমোনজনিত কারণ।
৩. জরায়ুমুখের সমসা।
৪. জরায়ুর সমসা।
৫. ডিম্বপাতে ব্যর্থতা।
৬. জরায়ুর ক্ষত।
৭. জরায়ুমুখের ক্ষত।
৮. শুক্রাণুর প্রতি অ্যান্টিবডি তৈরি।
৯. জরায়ুর পরিসর ছোট থাকা।
১০. অকালে মনোপজ হলে, ডায়াবেটিস হলে, ধূমপান করলে,
স্টেরয়েড ঔষধ সেবন করলে, অতিরিক্ত মদ্যপান করলে, দেহের অতিরিক্ত ওজন হলে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না।
উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায় জমিলা কৃত্রিম পদ্ধতি অর্থাৎ IVF (In vitro Fertilization) পদ্ধতির মাধ্যমে মা হলেন। নিচে IVF পদ্ধতির কৌশল ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হলো-
পদ্ধতির শুরুতে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত সন্তর্পনে বের করে আনা হয়। তারপর সেটিকে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য গবেষণাগারে সংরক্ষণ করা হয়। একই সময়ে স্বামীর অসংখ্য শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা থেকে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সজীব ও অতি ক্রিয়াশীল একঝাঁক শুক্রাণু। তারপর শুক্রাণুগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয় ডিম্বাণুবাহী টেস্ট টিউবে (পেট্রিডিশ) যেখানে নিষেক সম্পন্ন হয়। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুবাহী টেস্ট টিউবটিকে সংরক্ষণ করা হয় মাতৃগর্ভের অনুরূপ পরিবেশের একটি ইনকিউবেটরে। এর মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যায় নিষিক্তকরণের পর ভ্রূণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। ভ্রূণ সৃষ্টির পর সেটিকে একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরায়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। জরায়ুতে ভ্রূণ সংস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পরে ঘটনা ঘটতে থাকে স্বাভাবিক গর্ভধারণের মতোই। মাতৃগর্ভে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিষেকের ফলে যেভাবে ভ্রূণ বেড়ে উঠে, তেমন করেই বেড়ে উঠে টেস্টটিউব বেবিও। বাচ্চার প্রসবও স্বাভাবিকভাবে হতে পারে অথবা প্রয়োজন হতে পারে সিজারিয়ান অপারেশনের। জন্ম নেওয়া শিশুরা অস্বাভাবিক কিছু নয়, তারাও অন্যান্য শিশুর মতোই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে। আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেস্টটিউব বাচ্চা জন্ম দেওয়ার বিষয়টি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ১০ ভাগের বেশি দম্পতি স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদানে অক্ষম। অতীতে সন্তানহীন বন্ধ্যা দম্পতিরা সারা জীবন ভুগতেন হতাশা ও বিষণ্নতায়। তাদের জন্য কার্যকর তেমন কোনো ওষুধও ছিল না। কিন্তু এ হতাশার চিত্রটি বদলে গেছে আইভিএফ প্রযুক্তির সফলতার পর।
পরিশেষে বলা যায় যে, পুরুষ ও নারীর প্রজনন অক্ষমতা বা বন্ধ্যাত্ব দূর করে পিতৃ ও মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে আইভিএফ পদ্ধতি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।