| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায়…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বাজারে আলোচনার মাধ্যমে এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
পৌরনীতিতে জনমত বলতে কেবল সেই প্রভাবশালী, যুক্তিসংগত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে বোঝায় যা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে।
অর্থনৈতিক বিষয়ে জনমত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সরকারের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। জনমতের চাপে সরকার অনেক সময় নতুন জনহিতকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। সুষ্ঠু জনমত অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এর ফলে সরকার জনস্বার্থবিরোধী কোনো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পায় না, যা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করে।
উদ্দীপকের আলোকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনমত একটি শক্তিশালী বাহন হিসেবে কাজ করে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করে।
জনমত কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গঠিত হয় এবং তা সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকে. সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বাজারে আলোচনা এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনের মাধ্যমে যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, তা মূলত একটি সুসংগঠিত জনমতের বহিঃপ্রকাশ। এই মাধ্যমগুলো (যেমন- ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের ওপর একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।
জনমতই হলো সেই চালিকাশক্তি যা সরকারকে জনগণের প্রকৃত অভাব ও অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, শক্তিশালী জনমতের কারণেই সরকার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, যখন কোনো জাতীয় ইস্যুতে সংখ্যাগরিষ্ঠের কল্যাণকামী মতামত ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন সরকার জনস্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকে।
জনমতকে উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও বিপর্যয়কর প্রভাব পড়তে পারে বলে আমি মনে করি।
প্রথমত, জনমতকে উপেক্ষা করলে সমাজে গণবিক্ষোভ, আন্দোলন এবং ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। যখন সরকার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সংকটে জনগণের দাবির প্রতি কর্ণপাত করে না, তখন জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে যায়, যা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশ বিদেশের বিনিয়োগ ও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষতি করে।
দ্বিতীয়ত, জনমত উপেক্ষা করা হলে প্রশাসনে দুর্নীতির ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। শক্তিশালী জনমত না থাকলে সরকারি কর্মকর্তারা জবাবদিহিতার ভয় পায় না, ফলে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লোপাটের সুযোগ তৈরি হয়, 'যা সুশাসনের পথে প্রধান অন্তরায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে।
তৃতীয়ত, জনমতকে গুরুত্ব না দিলে সরকার জনস্বার্থবিরোধী ও ত্রুটিপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। এতে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সরকার সার্বভৌম জনমতের আস্থা হারিয়ে পতন ঘটার ঝুঁকিতে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অপরিহার্য। জনমতকে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকারই দীর্ঘ মেয়াদে সফল হতে পারে না।