দৃশ্যকল্প-১ : বর্তমানে বাংলাদেশে শকুন একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় শকুন প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
দৃশ্যকল্প-২ : ব্যাঙের একটি প্রজাতি Xenopus tropicalis এর সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সেট বিশেষ প্রক্রিয়ায় দ্বিগুণ হয়ে Xenopus laevis নামক নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটেছে।
কালের পরিক্রমায় জীবের জিনগত পরিবর্তন হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে মিউটেশন বলে।
ক্রোমোজোমের কাজ হলো মাতা-পিতা হতে জিন সন্তান-সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী শকুন সম্পর্কে বলা হয়েছে।
বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য শকুন প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে যা ডারউনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' কে নির্দেশ করে। জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন এ ধরনের সংগ্রামকে 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' বলে অভিহিত করেন। ডারউইন লক্ষ করেন যে, জীবনে তিনটি পর্যায়ে এই সংগ্রাম করতে হয়। সেগুলো হচ্ছে-
(i) আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম : উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্যাঙকীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়। আবার, ময়ূর সাপ এবং ব্যাঙ দুটোকেই খায়- এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একটি নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রাম গড়ে ওঠে।
(ii) অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম : একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যদের খাদ্য এবং বাসস্থান একই রকমের হওয়ায় এদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এরা নিজেদের মধ্যেই বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, একটি দ্বীপে তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে গেলে খাদ্য এবং বাসস্থান সীমিত থাকায় তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে সংগ্রাম শুরু করে। সবল প্রাণীগুলো দুর্বল প্রাণীদের প্রতিহত করে গ্রাসাচ্ছাদন করে। ফলে দুর্বল প্রাণীগুলো কিছুদিনের মধ্যেই অনাহারে মারা পড়ে।
(iii) পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম : বন্যা, খরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বালিঝড়, ভূমিকম্পন, অগ্ন্যুৎপাত- এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। সুতরাং জীবকে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত এসব প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়। যে প্রাণীগুলো এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারে তারা বেঁচে থাকে, অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, উত্তর এবং মধ্য আমেরিকার কোয়েল পাখি প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারপাতের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ ব্যাঙের একটি প্রজাতি Xenopus tropicalis এর সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সেট একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় দ্বিগুণ হয়ে Xenopus laevis নামক একটি নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি এক ধরনের মিউটেশন বা জীনগত বৈচিত্র্যের উদাহরণ, যা বিবর্তনের ধারণার একটি সাধারণ সত্য।
বাস্তবে মাঝে মাঝে হঠাৎ করে ক্রোমোজোমের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে নতুন প্রজাতির উদ্ভদ্ধ ঘটতে পারে। যেমন: দৃশ্যকল্প-২ এ ব্যাঙের প্রজাতি Xenopus tropicalis এর সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে Xenopus laevis প্রজাতির উৎপত্তি ঘটেছে। পৃথিবীতে যৌন জননকারী সকল জীবের মধ্যেই কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে যা জীনগত বৈচিত্র্য নির্দেশ করে। যৌন জনন করে এমন সকল জীবে জিনের পুনর্বিন্যাস হয়ে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়ে থাকে। জীবগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হতে হতে কালের পরিক্রমায় এক সময়ে নতুন প্রজাতির উদ্ভব হতে পারে। এই বৈচিত্র্য যদি পরিবেশের অনুকূলে হয় তাহলে তা অস্তিত্বের জন্য জীবন সংগ্রামে একটি জীবকে সাহায্য করে। কোনো প্রজাতির টিকে থাকা বা না থাকা মূলত নির্ভর করে তার সদস্য জীবদের মধ্যে কতটা বৈচিত্র্য আছে তার উপর। পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সেই সব প্রজাতি টিকে থাকে, যাদের অন্তত কিছু সদস্যের মধ্যে সেই পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদি কোনো প্রজাতির জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য কম থাকে তাহলে নতুন কোনো পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর মতো বৈশিষ্ট্য কারোর মধ্যে থাকার সম্ভাবনাও হবে কম। ফলে হয়তো পুরো প্রজাতিটাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর যদি কোনো প্রজাতির জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য বেশি থাকে, তাহলে নতুন কোনো পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর মতো বৈশিষ্ট্য কারো না কারো মধ্যে থাকার সম্ভাবনাও হবে বেশি। তখন যদি বড় কোনো বিপদও আসে, তবু তার অন্তত কিছু সদস্য বেঁচে যাবে।
তাই দৃশ্যকল্প-২ এর প্রক্রিয়াটি কোনো জীবের জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে প্রজাতির উৎপত্তি ঘটাতে পারে এবং প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
