| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: ছোট শিশু…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: ছোট শিশু রিয়া স্বাধীনচেতা মনোভাব, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি এ মাধ্যম থেকে শিখে থাকে।
দৃশ্যকল্প-২: সমাজীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মনোভাব ও ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে। পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক পরিবেশও ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
মূল্যবোধ গঠনের প্রধান মাধ্যম পরিবার।
শিশুর মূল্যবোধ গঠনে তার খেলার সাথি বা সমবয়সী দল অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত বিদ্যালয়ে, শ্রেণিতে, পাড়া বা মহল্লায় একই বয়সী দলকে সমবয়সী দল বলে। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই শিশুরা তাদের সমবয়সীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে'। এ দলের ভিতরে যেসব শিশু উচ্চ মর্যাদা পায়, তারা সাধারণত অধিকতর আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন হয়ে থাকে। মূলত সমবয়সী দলের প্রভাবে শিশু পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, প্রতিযোগিতা, ন্যায়নীতি, পরমতসহিষ্ণুতা প্রভৃতি নৈতিক গুণাবলির শিক্ষালাভ করে থাকে। এভাবে সমবয়সী দল শিশুর মূল্যবোধ গঠনে সহযোগিতা করে।
রিয়ার মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের কথা বলা হয়েছে।
মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো বিদ্যালয়। পরিবারের মা-বাবার প্রদত্ত প্রাথমিক শিক্ষার পর শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ে গমন করে। মা-বাবার শেখানো মূল্যবোধ শিশুরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে অর্জন করে। আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তাদের পরামর্শে শিশুরা ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে শিখে। শিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুরা স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদির শিক্ষালাভকরে থাকে। এসব গুণাবলি শিশুকে সামাজিকীকরণের শিক্ষা লাভের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হতে সাহায্য করে।
দৃশ্যকল্প-১ এ রিয়া স্বাধীনচেতা মনোভাব, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি শিখে থাকে যা একজন মানুষ তার বিদ্যালয় থেকে জানতে পারে। তাই বলা যায়, রিয়ার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ গঠনে বিদ্যালয় ভূমিকা পালন করে।
দৃশ্যকল্প-২ এ মানবাচরনের উপর মূল্যবোধ গঠনের দুটি মাধ্যম কমিউনিটি এবং সমাজ ও কৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
একটি জনগোষ্ঠী, যারা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে এবং সমজাতীয় জীবনযাত্রা নির্বাহ করে সেটা হচ্ছে কমিউনিটি। ব্যক্তির কমিউনিটি বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তার মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে। পরিবেশের অধিকাংশ বিষয়বস্তুর প্রতি শিশু মনের জিজ্ঞাসা থেকে একজন শিশুর নানা প্রকার মূল্যবোধ গঠন হয়ে থাকে। সে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, সংগীতের প্রতি আকর্ষণ, গুরুজনের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা, সহপাঠীদের প্রতি প্রীতি ভালোবাসা ইত্যাদি জাতীয় মূল্যবোধ গ্রহণ করে থাকে। এভাবেই ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো সমাজ ও কৃষ্টি। সমাজে গৃহীত মূল্যবোধ সমাজের সদস্যদের মাঝে ব্যক্তির কাছে উপস্থাপিত হয় এবং ব্যক্তি সেগুলো সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করে। এভাবেই ব্যক্তির মূল্যবোধ তার সমাজ ও কৃষ্টির দ্বারা নির্ধারিত হয়। একারণেই এক একটি সমাজ বা কৃষ্টিতে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। সেজন্যই আমাদের দেশের মানুষের মূল্যবোধের সাথে ইউরোপ বা আমেরিকার লোকদের মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, মানবাচরণের উপর মূল্যবোধ গঠনে কমিউনিটি, সমাজ ও কৃষ্টির অবদান অনস্বীকার্য।