| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১ : ড.…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১ : ড. এনাম একজন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী। তিনি তাঁর গবেষণাগারে পরিপূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতার নীতি অনুসরণ করেন ।
দৃশ্যকল্প-২ :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের নানা ধরনের সমস্যা এবং তা সমাধানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপদেশ প্রদান ও পরামর্শ দান সম্পর্কিত আলোচনা করা হয় তাকে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বা উপদেশনামূলক মনোবিজ্ঞান বলা হয় ৷
মানব আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে 'জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক রীতিনীতি এবং কৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয় ।
মানুষ ও প্রাণীর আচরণ বিভিন্ন জৈবিক ঘটনাবলির পাশাপাশি তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারাও প্রভাবিত হয় । প্রতিটি মানুষই তার নিজস্ব সামাজিক রীতি-নীতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। এসব রীতি-নীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ ও প্রাণীর আচরণের ওপর জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক পরিবেশের এরূপ প্রভাবের কারণেই মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক- বিজ্ঞান বলা হয় ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ ড. এনামের গবেষণাগারে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বস্তুনিষ্ঠতার নীতির পাশাপাশি আরো দুটি নীতি হলো নিয়ন্ত্রণ ও পুনরাবৃত্তি । নিচে নীতি দুটির ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো : নিয়ন্ত্রণ : বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ হবে সুনিয়ন্ত্রিত ও সুপরিকল্পিত । মনোবিজ্ঞানী গবেষণায় নিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করে। মনোবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক মর্যাদা লাভ করেছে পরীক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে। আর এই পরীক্ষণ হলো নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ। মনোবিজ্ঞানী যখনই কোনো পরীক্ষণ পরিচালনা করেন তখন তিনি তা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করেন এবং চল প্রয়োগ করেন। পরীক্ষণে বাহ্যিক চল নিয়ন্ত্রণের ফলে ফলাফলের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব দূর হয় ও নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায় ।
পুনরাবৃত্তি : একটি বিষয়ে একাধিকবার গবেষণা পরিচালনা করাকে পুনরাবৃত্তি' বলা হয়। এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে একটি মাত্র পরীক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। বৈজ্ঞানিক সত্যতা নির্ভর করে পূর্বে পরীক্ষিত কোনো বিষয়বস্তু বা ঘটনাকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইচ্ছানুযায়ী পুনরায় সৃষ্টি করে গবেষণা পরিচালনা করার
দৃশ্যকল্প-২ এ C ও D চিহ্নিত স্থান দুটি হলো যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োগশীলতা । নিচে এদের বিশ্লেষণ করা হলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বোঝায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বহির্ভূত জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে না থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করার মনোভাব পোষণ করা। এতে তত্ত্ব ও তথ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানীর থাকতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানিগণ পুরাতনকে বর্জন করে নিত্যনতুন তথ্য আহরণে সদা নিয়োজিত থাকেন ।
বিজ্ঞানের আর একটি মাপকাঠি হলো এর প্রয়োগ বা ব্যবহার। যে জিনিস বা বিষয়কে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তাকে বিজ্ঞান বলা যায় না। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বা সূত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানের আজ বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়। শিল্প-কারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজজীবন, ব্যক্তিগত জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন প্রভৃতি প্রায় সর্বক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।