| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: ড. রেজা…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৪ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: ড. রেজা তার প্রতিষ্ঠানে ‘মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করেন। তিনি মনে করেন আমাদের দেশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
দৃশ্যকল্প-২:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোনো বস্তু বা ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি তাই বিজ্ঞান।
পুরাতন মতবাদ বা প্রতিষ্ঠিত মতকে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নতুন মতকে গ্রহণ করার মানসিকতাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিজ্ঞানকে গতিশীল রাখতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে কোনো বিষয়কে যথার্থ বিজ্ঞানের মর্যাদা দিতে হলে সে বিষয়ে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন থাকতে হবে। এজন্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
ড. রেজা যে শাখায় কাজ করেন তা চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে।
মনোবিজ্ঞানের যে শাখা মানসিক রোগের অনুধ্যান, নির্ণয় ও চিকিৎসায় মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের প্রয়োগ করে তাকে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বলা হয়। অস্বাভাবিক আচরণের গতি-প্রকৃতি ও তার ব্যাখ্যা, মানসিক রোগের লক্ষণ, কারণ ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি প্রভৃতি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী প্রথমে রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করে তার কারণ অনুসন্ধান করতে সচেষ্ট হন। তারপর রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী বিভিন্ন অভীক্ষা প্রয়োগ করে থাকেন। রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা গ্রহণ করে থাকেন।
উদ্দীপকে ড. রেজা তার প্রতিষ্ঠানে মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করেন। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ড. রেজার এ শাখা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্গত চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন হাসপাতাল বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এরা সাধারণত মানসিক হাসপাতাল, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিকে, সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও, মানসিক প্রতিবন্ধি ইনস্টিটিউশন, মাদক চিকিৎসাকেন্দ্র প্রভৃতিতে দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এর 'গ' চিহ্নিত স্থানটি মনোবিজ্ঞানের পরিধির অন্তর্গত জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
মনোবিজ্ঞানীরা মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অনুসন্ধান করেন। এসষ ক্ষেত্রে তারা মানুষের জৈবিক ঘটনাবলির সাথে সাথে সামাজিক ঘটনাবলিও বিবেচনায় নেন। মানুষের আচরণ জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহের সাথে সাথে সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহ দ্বারাও প্রভাবিত হয়। মানুষের দৈহিক ও মানসিক সক্ষমতা নির্ভর করে তার জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহ যেমন- স্নায়ুতন্ত্রের কার্যাবলি ও বিভিন্ন অঙ্গ বা তন্ত্রের কার্যকারিতার উপর: আচরণের উপর প্রভাব বিস্তারকারী 'অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহ - হচ্ছে- শারীরিক গঠন, বংশগতি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিসমূহের কার্যকারিতা, ইন্দ্রিয়ের কার্যকারিতা প্রভৃতি। পক্ষান্তরে সামাজিক প্রক্রিয়া, যেমন- সামাজিক রীতি-নীতি, প্রথা, পূর্বসংস্কার, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিও মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ মনোবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত তিনটি বিষয়কে নির্দেশ করা হয়েছে। যথা- আচরণ, মানসিক প্রক্রিয়া এবং জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ 'গ' চিহ্নিত স্থানটি জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। মানুষের আচরণ ও মানসিক বিকাশে জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহের সাথে সাথে সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহের গুরুত্ব জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়ার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু।
সুতরাং বলা যায়, মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়নে। জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহ বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।