| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: ড. শহীদ…’ আইডিয়াল কলেজ ২০২৬ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: ড. শহীদ তার প্রতিষ্ঠানে মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করেন। তিনি মনে করেন আমাদের দেশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
দৃশ্যকল্প-২:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া অনুধ্যান করে থাকে।
মানব আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক রীতি-নীতি এবং কৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়। মানুষ ও প্রাণীর আচরণ বিভিন্ন জৈবিক ঘটনাবলির পাশাপাশি তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারাও প্রভাবিত হয়। প্রতিটি মানুষই তার নিজস্ব সামাজিক রীতি-নীতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। এসব রীতি-নীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ ও প্রাণীর আচরণের ওপর জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক পরিবেশের এরূপ প্রভাবের কারণেই মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।
ড. করিম যে শাখায় কাজ করেন তা চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ | করে।
মনোবিজ্ঞানের যে শাখা মানসিক রোগের অনুধ্যান নির্ণয় ও চিকিৎসায় মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের প্রয়োগ করা হয় তাকে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বলা হয়। অস্বাভাবিক আচরণের গতি-প্রকৃতি ও তার ব্যাখ্যা, মানসিক রোগের লক্ষণ, কারণ ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি প্রভৃতি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী প্রথমে রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করে তার কারণ অনুসন্ধান করতে সচেষ্ট হন। তারপর রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী বিভিন্ন অভীক্ষা প্রয়োগ করে থাকেন। রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা গ্রহণ করে থাকেন।
উদ্দীপকে ড. করিম তার প্রতিষ্ঠানে মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য-সেবা নিয়ে কাজ করেন। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ড. করিমের এ শাখা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্গত চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন হাসপাতাল বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এরা সাধারণত মানসিক হাসপাতালে, স্কুলে, কমিউনিটি ক্লিনিকে, সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওতে, মানসিক প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউশন, মাদক নিরাময় চিকিৎসাকেন্দ্র প্রভৃতিতে দায়িত্ব পালন করেন।
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত 'C' এবং 'E' মনোবিজ্ঞানের ক্রমবিবর্তনের প্রাচীন যুগ ও আধুনিক যুগকে নির্দেশ করে।
বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পেছনে মনোবিজ্ঞানের একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এ ইতিহাস প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ। মনোবিজ্ঞানের প্রাচীন যুগের আলোচনা আত্মার ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। সে সময় তাত্ত্বিকরা আত্মা ও দেহের কার্যাবলি হিসেবে সংবেদন, প্রত্যক্ষণ, শিক্ষণ, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে কল্পনাপ্রসূত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। অন্যদিকে আধুনিক যুগে এসব কার্যাবলির বৈজ্ঞানিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
মনোবিজ্ঞান বিকাশের প্রাচীন যুগে যেসব মনীষী অবদান রেখেছেন তাঁদের অন্যতম হলেন- হিপোক্রেটিস, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল প্রমুখ। গ্রিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস মানুষের ব্যক্তিত্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য একটি মতবাদ প্রবর্তন করেন। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা করার জন্য মূলত আত্মার ধারণা ব্যবহার করেন। এর পরবর্তীতে মধ্যযুগে তাত্ত্বিকরা আত্মা নির্ভর ধারণা থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসলেও একে পুরোপুরি বর্জন করতে পারেননি। মনোবিজ্ঞানের আধুনিক যুগের সূত্রপাত হয় জার্মান মনোবিজ্ঞানী কর্তৃক ১৮৭৯ সালে লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপনের পর থেকে। এ সময় মনোবিজ্ঞান যথার্থ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভকরেছে এবং মনোবিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত মতবাদ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তারা মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়াসমূহের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করলেও এগুলো একে অপরের পরিপূরক এবং সম্পর্কযুক্ত ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, আত্মা নির্ভর ধারণা থেকে আধুনিক মনোবিজ্ঞান হিসেবে পদার্পণের পথ পরিক্রমায় প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ প্রতিটি সময়কালের অবদান অনস্বীকার্য।