| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১:দৃশ্যকল্প-২: সজীব বিশ্ববিদ্যালয়…’ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১:
দৃশ্যকল্প-২: সজীব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করার পর শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে রনির কোম্পানিতে কর্মসন্তুষ্টি ও কাজের সঠিক মূল্যায়ন হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মনোবিজ্ঞান হলো আচরণ ও অভিজ্ঞতার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান এবং মানুষের সমস্যায় সেই জ্ঞানের প্রয়োগ।
আচরণ ২ ধরনের হয়ে থাকে। যথা: ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ। যে সব আচরণ ব্যক্তি সচেতনভাবে করে বা ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করে সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন: কথা বলা, হাঁটা, খাবার খাওয়া ইত্যাদি। আর যেসকল আচরণ ব্যক্তির ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন- হৃদপিন্ডের ক্রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস, আগুনে হাত লাগামাত্র হাত সরিয়ে নেয়া প্রভৃতি।
দৃশ্যকল্প-১ এ 'খ' ও 'গ' চিহ্নিত স্থানে যথাক্রমে মানসিক প্রক্রিয়া ও জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া নির্দেশ করে। মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতি প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ মানুষ বা প্রাণীর যে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াসমূহ বাহ্যিক আচরণ সৃষ্টির জন্য দায়ী এবং যা বাইরে থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করা যায় না, এমন সব কার্যকলাপগত প্রক্রিয়াকেই মনোবিজ্ঞানীরা মানসিক প্রক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ প্রক্রিয়াগুলো উদ্দীপকের দ্বারা কীভাবে সৃষ্ট হয় এবং পরবর্তীতে কোন কোন আচরণের মাধ্যমে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে তা মনোবিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে থাকেন। মনোবিজ্ঞানীরা মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অনুসন্ধান করেন। এসব ক্ষেত্রে তারা মানুষের জৈবিক ঘটনাবলির সাথে সাথে সামাজিক ঘটনাবলিও বিবেচনায় নেন। মানুষের আচরণ জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহের সাথে সাথে সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহ দ্বারাও প্রভাবিত হয়। মানুষের দৈহিক ও মানসিক সক্ষমতা নির্ভর করে তার জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহ যেমন- স্নায়ুতন্ত্রের কার্যাবলি ও বিভিন্ন অঙ্গ বা তন্ত্রের কার্যকারিতার উপর। আচরণের উপর প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়াসমূহ হচ্ছে-শারীরিক গঠন, বংশগতি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিসমূহের কার্যকারিতা, ইন্দ্রিয়ের কার্যকারিতা প্রভৃতি। পক্ষান্তরে সামাজিক প্রক্রিয়া যেমন- সামাজিক রীতি-নীতি, প্রথা, পূর্বসংস্কার, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিও মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
রাকিব এবং তার বাবার বিষয়গুলো মনোবিজ্ঞানের একাধিক শাখায় আলোচিত হয়- উক্তিটি যথার্থ। রাকিবের প্রতিষ্ঠানের সমস্যা শিল্প মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। শিল্প মনোবিজ্ঞান শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগায়। এক্ষেত্রে শিল্প মনোবিজ্ঞান শিল্প কারখানায় কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করে। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি জড়িত। তাই কর্মচারীর দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি এবং কর্মে সন্তুষ্টি বিধান শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য। আবার শিক্ষা মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এখানে মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়। শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শিক্ষাব্যবস্থা আবর্তিত হয় এবং শিক্ষণ হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু। সে দিক দিয়ে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর জীবনের সার্বিক ও সুষম বিকাশ সাধনে সহায়তা করা, শিক্ষার কার্যকরী পদ্ধতি অনুসন্ধান, উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করা, শিক্ষাক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এছাড়াও কীভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি করা যায়, গঠনমূলক আচরণ শেখা যায় তাও মনোবিজ্ঞানের এই শাখায় আলোচিত হয়। রাকিবের বাবার স্কুলের সমস্যা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং বলা যায়, রাকিব ও তার বাবার বিষয়গুলো মনোবিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় আলোচিত হয়।