| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: পল্লিমায়ের সন্তান…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: পল্লিমায়ের সন্তান অহন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুব ভালো লাগে। তাদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অহন স্থায়ীভাবে সেখানে থেকে যায়। তার অতীত স্মৃতি ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায়।
দৃশ্যকল্প-২: ‘বাংলার হাওয়া বাংলার জল/হৃদয় আমার করে সুশীতল এত সুখ শান্তি এত পরিমল/কোথা পাব আর বাংলা ছাড়া।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৬
সাংবাদিকতা ছেড়ে কবি আল মাহমুদ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন।
কবি শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনটিতে উঠতে না পেরে শীতের রাতে স্টেশনে বসে থাকা প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনটিতে উঠতে পারেননি। ট্রেনে যাদের সঙ্গে তাঁর শহরে যাওয়ার কথা ছিল তারা তাঁকে হাত নেড়ে সান্ত্বনা জানায়। কবির ট্রেন ধরতে না পারাটা তাঁর কাছে পরাজয়ের মতো মনে হয়। যে গ্রামটিতে রেলস্টেশন সেই গ্রামটি বেশি খ্যাত নয়। তাই সেই স্টেশনকেও কবি অখ্যাত বলেছেন। আর শীতের সকালে সেখানে বসে শহরে যেতে না পারার গ্লানি অনুভব করা প্রসঙ্গে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী অহনের জীবনভাবনার মতো 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার কবি শহুরে জীবনে খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতার সাথে উদ্দীপকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় বর্ণিত হয়েছে শহুরে জীবনে খাপ না খাওয়াতে পারায় কবির গ্রামে ফিরে আসার ব্যর্থতাজনিত লজ্জা। কবির কাছে নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণজীবনই পরম স্বস্তির। কবি তার ব্যর্থতার লজ্জা মাকে অবলম্বন করে মুছে ফেলবেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকাশ পেয়েছে বিদেশের প্রতি অহনের মোহ। অহন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ফ্রান্সে যায় উচ্চশিক্ষার জন্য। সেখানকার প্রকৃতি-পরিবেশ পেয়ে সে স্বদেশকে ভুলে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। অন্যদিকে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় বর্ণিত কবি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পেয়ে পল্লিপ্রকৃতিতে ফিরে আসেন। তাঁর কাছে শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণজীবনই শ্রেয়। এদিক থেকে উদ্দীপকের অহনের জীবনভাবনা 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় বর্ণিত কবির জীবনভাবনার সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
দৃশ্যকল্পদ্বয়ে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় বর্ণিত কবির ব্যর্থতাজনিত গ্লানি ও অন্যান্য দিক প্রকাশ না পাওয়ায় এগুলো এ কবিতার সামগ্রিক ভাবার্থ প্রকাশ করতে পারেনি।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে কবির ব্যর্থতাজনিত গ্লানি। কবি দশ মাইল হেঁটে এসে রাতের শেষ ট্রেন ধরতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যর্থতার লজ্জা কবি মাকে অবলম্বন করে মুছে ফেলেছেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকাশ পেয়েছে অহনের পরদেশ মোহ। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ফ্রান্সে গেলেও দেশে ফিরে আসেনি। বরং সে দেশের স্থায়ী নাগরিক হয়েছে। দৃশ্যকল্প-২ এ প্রকাশ পেয়েছে কবির নিখাদ দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম মোহ। 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতাও কবির দেশপ্রেমসচেতনা প্রকাশ পেয়েছে। শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে কবির কাছে মাতৃতুল্য গ্রামীণজীবনই পরম স্বস্তির। তাই কবি ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েও স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ স্বদেশের প্রতি কবির ভালোবাসা প্রকাশ পেলেও এটিই 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতর একমাত্র দিক নয়। এ কবিতার কেন্দ্রীয় উপজীব্য কবির ট্রেন ধরার ব্যর্থতাজনিত লজ্জা। কবি দশ মাইল হেঁটে রাতের শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত। তখন তাঁর মনে পড়ে বাবার কথা, যিনি তাঁকে তৈরির সময়ই সতর্ক করেছিলেন। মনে পড়ে তাঁর ভাই-বোনদের কথা, যারা কখনো ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয় না। ট্রেন ধরার আগেই নানাবিধ সতর্কতা পালন করে। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার এ দিকগুলো অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সামগ্রিক ভাবার্থ প্রকাশ করেনি।